জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) গল্পে একের পর এক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। সম্রাটের আচরণ নিয়ে ঝিনুকের মনে যে সন্দেহ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছিল, তা এবার আরও গভীর হল। বাইরে থেকে নিজেকে নিরীহ প্রমাণ করার চেষ্টা করলেও বাড়ির ভিতরে সম্রাটের ব্যবহার একেবারেই অন্যরকম। সামান্য বিষয় নিয়েও ঝিনুককে কড়া কথা শুনতে হয়। আবার কিছুক্ষণ পরেই সেই সম্রাটই তার কান্না থামানোর চেষ্টা করে, তাকে ‘স্মার্ট’ বলে সান্ত্বনা দেয়। স্বামীর এই দুই রকম আচরণ ঝিনুককে আরও বিভ্রান্ত করে দেয় এবং তার মনে সম্রাটকে নিয়ে তৈরি হওয়া অস্বস্তিটা ক্রমশ বাড়তে থাকে।
এদিকে সম্রাটকে নিয়ে অঞ্জনার ভয়ও কমছে না। আতঙ্কে নিজের মায়ের বাড়িতে ফিরে এলেও, সম্রাটের আসল রূপ কাউকে জানানোর সাহস হয় না তার। বাড়ির লোকজনের প্রশ্নের মুখে তাই অঞ্জনা অন্য গল্প শোনায়। সে জানায়, রাস্তায় কয়েকটি কুকুর তাকে তাড়া করেছিল বলেই সে এতটা ভয় পেয়ে গিয়েছিল। ফলে সম্রাটের বিরুদ্ধে যে ভয়ংকর সত্য অঞ্জনা জানে, তা আপাতত তার মধ্যেই আটকে থাকে। অঞ্জনার এই নীরবতা সম্রাটকে আরও কিছুটা সময়ের জন্য নিজের আসল চেহারা লুকিয়ে রাখার সুযোগ করে দেয়।
গল্পের অন্যদিকে, বিনোদের ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। সম্রাট ভেবেছিল তার হামলার পর বিনোদ আর বেঁচে নেই। কিন্তু হাসপাতালে বিনোদ যে এখনও জীবিত এবং ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছে, সেই খবরেই চিন্তায় পড়ে যায় সম্রাট। পরিস্থিতি আরও উত্তেজক হয়ে ওঠে যখন পুলিশ বিনোদের কাছ থেকে ঘটনার বয়ান নিতে হাসপাতালে আসে। সম্রাট এবং ঝিনুকের সামনেই বিনোদ স্পষ্টভাবে সম্রাটের দিকে আঙুল তুলে তাকে হামলার জন্য দায়ী করে। এতদিন যে সত্য ঝিনুকের কাছে ধোঁয়াশায় ছিল, বিনোদের বক্তব্যের পর সেটাই তার সামনে পরিষ্কার হয়ে যায়।
অন্যদিকে আদি ও পল্লবীর সম্পর্কেও ভুল বোঝাবুঝি আরও বেড়েছে। পল্লবীর জন্মদিনে আদি গোপনে উপহার পাঠালেও তার উদ্দেশ্য পল্লবীর কাছে ঠিকভাবে পৌঁছয়নি। এরই মধ্যে অফিসের সামনে মারামারির ঘটনায় পল্লবীর চোখে আদির ভাবমূর্তি আরও খারাপ হয়ে যায়। পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে রোহিণী বাইকের ফুলগুলো নিজের বলে দাবি করায় আদি যে পল্লবীকে নিজের মনের কথা বলতে চেয়েছিল, সেই সুযোগও নষ্ট হয়ে যায়। ফলে দু’জনের মধ্যে দূরত্ব আরও বাড়তে থাকে।
আরও পড়ুনঃ রাত ২টোতে ফোন করতে পারি শুভশ্রীকে! এখন সবটা জুড়ে শুভ আর শুভ’, তবে কি দেবের সঙ্গে রুক্মিণীর বাড়ছে দূরত্ব?
তবে পর্বের সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে হাসপাতালে। বিনোদের মুখে সম্রাটের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ শুনে ঝিনুক আর নিজেকে সামলাতে পারে না। এতদিনের সন্দেহ, ভয় আর মানসিক চাপ যেন একসঙ্গে বিস্ফোরিত হয়। সবার সামনেই ঝিনুক সম্রাটকে সজোরে থাপ্পড় মারে। সম্রাট তখন নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার চেষ্টা করতে থাকে এবং ঝিনুককে বোঝানোর চেষ্টা করে যে সে কোনও অপরাধ করেনি। কিন্তু সেই মুহূর্তে ঝিনুকের কাছে সম্রাটের কথার আর কোনও মূল্য থাকে না। এর পাশাপাশি শ্রীনিবাসের চাকরি হারানোর বিষয়টিও এখনও পরিবারের কাছে গোপন। প্রতিদিনের মতো অফিসে যাওয়ার ভান করে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়লেও বাস্তবে তাঁর কোনও চাকরি নেই। সংসারের খরচ কীভাবে চলবে, সেই চিন্তা লুকিয়েই তিনি নিজের মতো করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা করছেন। ফলে ‘কমলা নিবাস’-এর আগামী পর্বে সম্রাটকে নিয়ে ঝিনুকের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং শ্রীনিবাসের গোপন সত্য প্রকাশ পাওয়া, দুই দিকেই গল্প কোন দিকে এগোয়, সেটাই এখন দেখার।
