জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বে একদিকে যেমন দেখা গেল সম্পর্কের নতুন সমীকরণ, অন্যদিকে তেমনই উঠে এল আত্মসম্মান ও মানসিক শক্তির লড়াই। আজকের পর্বের শুরুতেই দেখা যায়, বাড়ির চলতে থাকা একের পর এক সমস্যার মধ্যে কমলাকে বিশেষ পরামর্শ দেন বাড়ির পুরোহিতমশাই। তাঁর মতে, ভক্তিভরে শিব-পার্বতীর আরাধনা করলে সংসারের উপর থেকে অশুভ প্রভাব কেটে যেতে পারে। সেই পরামর্শ মেনে কমলা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মন্দিরে পুজোর আয়োজন করতে উদ্যোগী হয়। একই সময়ে অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল আদিত্যও।
পল্লবীর প্রতি নিজের অনুভূতি আর লুকিয়ে না রেখে সব কথা জানিয়ে দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত হয়ে পড়ে সে। এদিকে আদিত্যদের বাড়িতেও শুভ কাজের সূচনা হিসেবে শিব-পার্বতীর পুজোর আয়োজন করা হয়। ফলে দুই পরিবারের গন্তব্য হয়ে ওঠে একই মন্দির। সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি হঠাৎই অস্বস্তিকর মোড় নেয়। একা পল্লবীকে দেখে কয়েকজন দু’ষ্কৃতী তাকে ঘিরে ধরে এবং অশোভন আচরণ করতে শুরু করে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায় যখন তাদের মধ্যে একজন পল্লবীর ওড়না টেনে ধরার চেষ্টা করে। ঠিক সেই সময় ঘটনাস্থলে পৌঁছয় আদিত্য।
চোখের সামনে এমন ঘটনা দেখে সে আর চুপ করে থাকতে পারেনি। একাই দুষ্কৃতীদের মোকাবিলা করে পল্লবীকে বিপদের হাত থেকে উদ্ধার করে। তবে এই ঘটনার পরেও পরিস্থিতি সহজ হয়নি। আদিত্যর সাহায্যকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে বসে পল্লবী। তার মনে হয়, নায়ক সাজার উদ্দেশ্যেই হয়তো পুরো বিষয়টি পরিকল্পনা করা হয়েছে। সেই ভুল ধারণা থেকেই আদিত্যকে একাধিক কড়া কথা শুনিয়ে দেয় সে। যদিও পরবর্তীতে পুজো দিতে ব্যস্ত পল্লবীর খোঁপায় চুপিচুপি ফুলের মালা পরিয়ে দেয় আদিত্য।
দূরে দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধুরাও সেই দৃশ্য চুপিচুপি উপভোগ করতে থাকে। অন্যদিকে, পরের দিন প্রয়োজনে কমলা এবং পল্লবী সাগরদের বাড়িতে আসে। সেখানে তাদের মুখোমুখি হতে হয় সুপর্ণার। প্রথম থেকেই সুপর্ণা নিজের সামাজিক অবস্থান এবং অহংকার দেখিয়ে কমলাদের ছোট করার চেষ্টা করে। কথার আড়ালে অপমান করার কোনও সুযোগই সে হাতছাড়া করে না। এবারও তেমনি ইংরেজিতে অপমান করে নিজেকে ক্লাসি প্রমাণ করার চেষ্টা করে সে। কিন্তু কমলা এবারও নিজের স্বভাবসিদ্ধ শান্ত ভঙ্গিতেই জবাব দেয়।
আরও পড়ুনঃ প্রথমবার মেগা সিরিয়ালে অনির্বাণের স্ত্রী মধুরিমা গোস্বামী! মাত্র ৮ বছরের ছোট সৌম্যদীপের মায়ের চরিত্রে দেখে তাঁকে কী বলছেন দর্শকরা? ‘অন্নপূর্ণার লক্ষ্মীরা’-য় কেমন লাগছে ‘রাজার মা’কে?
তবে, এবার সবাইকে চমকে সে ইংরেজিতেই স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, অর্থনৈতিক অবস্থান দিয়ে মানুষের মূল্য বিচার করা যায় না। সুপর্ণার সামনে দাঁড়িয়ে কমলা আরও বুঝিয়ে দেয় যে গরিব হওয়া আর অশিক্ষিত হওয়া এক বিষয় নয়। মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার ব্যবহার, চিন্তাভাবনা এবং মানসিকতায় লুকিয়ে থাকে। সেই জায়গা থেকেই সে সুপর্ণাকে কড়া কিন্তু মার্জিত ভাষায় জবাব দেয়। ফলে এদিনের পর্বে যেমন আদিত্য-পল্লবীর সম্পর্কের নতুন ইঙ্গিত মিলেছে, তেমনই কমলার আত্মসম্মান ও দৃঢ় ব্যক্তিত্বও আবার একবার দর্শকদের সামনে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
