জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

স্বরূপ বিশ্বাসের বিরু’দ্ধে মুখ খোলার জন্য হয়েছিলেন একঘরে! পেতেন না কাজ! মা’ফিয়া গ্রেফ’তার হতেই হাড়হিম করা অভিজ্ঞতা শোনালেন রূপালি ভট্টাচার্য

টলিউডের পরিচিত মুখ স্বরূপ বিশ্বাস সম্প্রতি এক মেকআপ শিল্পীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেফতার হওয়ার পর নতুন করে সরব হয়েছেন বহু শিল্পী ও কলাকুশলী। বৃহস্পতিবার তাঁকে আদালতে তোলার আগে ইডি ও পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে স্টুডিওপাড়ায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়। সেই আবহেই সমাজমাধ্যমে নিজের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিলেন অভিনেত্রী রূপালি রাই ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, বহু বছর আগেই তিনি প্রকাশ্যে স্বরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। কিন্তু সেই সিদ্ধান্তের জন্য তাঁকে নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল। স্বরূপের গ্রেফতারির পর সেই পুরনো অভিজ্ঞতাই আবার সামনে আনলেন অভিনেত্রী।

ফেসবুকে করা এক পোস্টে রূপালি লেখেন, “২০২১ সালে একটি চ্যানেলের ডিবেটে মুখোমুখি বসে স্বরূপ বিশ্বাস কে তার ফেডারেশন সভাপতি হওয়ার অধিকার এবং যোগ্যতা কে প্রশ্ন করে whistle blow করেছিলাম।” তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, সেই সময়ে বিষয়টি নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলার কারণে তাঁকে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। অভিনেত্রীর দাবি, অনেকেই তাঁর অবস্থানকে ভালোভাবে নেননি। বরং ইন্ডাস্ট্রির বিভিন্ন স্তর থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এসেছে। সেই সময়ে তিনি একা পড়ে গিয়েছিলেন বলেও ইঙ্গিত করেন। তাঁর পোস্ট প্রকাশ্যে আসতেই তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

একই পোস্টে রূপালি আরও লেখেন, “তারপর বিভিন্ন শিল্পী পরিচালক প্রযোজক দুর্ব্যবহার একঘরে করে cold shoulder দেখিয়ে কটূক্তি করে গেছেন বছরের পর বছর। অপমান সহ্য করতে করতে গায়ের চামড়া মোটা হয়ে গেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, “কিন্তু আমি স্বরূপ এবং তৎকালীন শাসক দলের নিরবিচ্ছিন্ন বিরোধিতা করে গেছি কখনও কোনও রাজনৈতিক পতাকা ধরে এবং যে কোনো সক্রিয় রাজনৈতিক পতাকা ছেড়েও। আজ তারাই স্বরূপের স্ব রূপ আইনের চোখে প্রকাশিত হওয়ায় প্রকাশ্যেই উল্লসিত। কেয়া বাত।” এই মন্তব্য ঘিরে ইতিমধ্যেই সমাজমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন, আবার কেউ কেউ ভিন্ন মতও প্রকাশ করেছেন।

রূপালির পোস্টে মন্তব্য করেন অভিনেত্রী সংঘশ্রী সিনহা মিত্রও। তিনিও নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে লেখেন, “আমি পোস্ট করেছিলাম বলে আমায় ডেকে পোস্ট ডিলিট করিয়েছিলেন এক স্বনামধন্য ব্যক্তি।” তাঁর এই মন্তব্যের পর আলোচনার মাত্রা আরও বেড়ে যায়। অন্যদিকে, স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর ঋদ্ধি সেন, শ্রীলেখা মিত্র-সহ একাধিক শিল্পীও বিভিন্ন সময়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা এবং মতামত প্রকাশ করেছেন। ফলে বিষয়টি এখন শুধুমাত্র একটি গ্রেফতারির ঘটনা নয়, বরং দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অভিযোগের বহিঃপ্রকাশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, টলিউডে দীর্ঘদিন ধরেই ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ নিয়ে সরব ছিলেন একাংশের শিল্পী ও কলাকুশলীরা। রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই প্রতিবাদের সুর আরও জোরালো হয়। এরই মধ্যে বুধবার টালিগঞ্জের নবনির্বাচিত বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী ফেডারেশনের বর্তমান কাঠামো ভেঙে নতুন বার্তা দেন এবং একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসানের কথা বলেন। তার ঠিক একদিন পরই স্বরূপ বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযোগ, তিনি টলিপাড়ার বিভিন্ন টেকনিশিয়ানের কাছ থেকে অর্থ আদায় করতেন। অন্যদিকে, মেসি-কাণ্ডে অরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর থেকেই বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারি নিঃসন্দেহে টলিউডের অন্যতম আলোচিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page