জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’র (Parineeta) সাম্প্রতিক পর্বে একের পর এক নাটকীয় ঘটনার সাক্ষী হয়েছেন দর্শকরা। গল্পে সম্প্রতি জানা যায়, পারুল মা হতে চলেছে এই খবর সামনে আসতেই শিরিন নতুন করে ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে। সে চায় পারুল এবং তার অনাগত সন্তানের ক্ষতি করতে। সেই উদ্দেশ্যে টগরকে একটি ওষুধ দিয়ে পারুলকে খাইয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় শিরিন। কিন্তু যতই পারুলের সঙ্গে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন থাকুক না কেন, নিজের দিদির এত বড় ক্ষতি করতে মন সায় দেয়নি টগরের। বরং শিরিনের পরিকল্পনার কথা ফাঁস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয় সে। আর সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত টগরের জীবনে বড় বিপদ ডেকে আনে।
টগরের মুখ বন্ধ করতেই নতুন পরিকল্পনা করে শিরিন। গল্পে দেখা যায়, একই ধরনের একটি ওষুধ খাইয়ে টগরকে প্রায় মৃ’ত্যুর মুখে ঠেলে দেয় সে। যদিও শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যায় টগর, কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার ব্যাপক অবনতি ঘটে। কথা বলার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে সে, এমনকি স্বাভাবিকভাবে নড়াচড়াও করতে পারে না। এক মুহূর্তে বদলে যায় তার জীবন। পরিবারের সকলের সামনে অসহায় অবস্থায় পড়ে থাকতে হয় তাকে। এই ঘটনাই ধারাবাহিকের গল্পে বড় মোড় এনে দিয়েছে এবং দর্শকদের মধ্যেও ব্যাপক আলোড়ন তৈরি করেছে।
তবে এই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই নজর কেড়েছে মল্লারের চরিত্র। দীর্ঘদিন ধরে শান্ত, সংযত এবং কম কথার মানুষ হিসেবেই তাকে দেখে এসেছে দর্শকরা। কিন্তু স্ত্রীকে এমন অবস্থায় দেখে এবার সম্পূর্ণ অন্য রূপে দেখা গেল তাকে। সামাজিক মাধ্যমে এক দর্শক লিখেছেন, “মল্লারের এই রূপটা দেখবো, সত্যি বলতে কখনও ভাবিনি! একেবারেই প্রত্যাশিত ছিল না।” অনেকের মতে, এতদিন পরিবারের চাপে চুপ করে থাকা মানুষটিই এবার স্ত্রীর সম্মান এবং অধিকারের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে। আর সেই পরিবর্তনই দর্শকদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে একটি দৃশ্য নিয়ে আলোচনা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে। নতুন পর্বে দেখা যায়, মল্লারের মা অসুস্থ টগরকে একের পর এক অপমান করতে থাকেন। সেই মুহূর্তে চুপ না থেকে প্রতিবাদ করেন মল্লার। এই প্রসঙ্গে এক দর্শক সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “মল্লারের মা যখন টগরকে একের পর এক অপমান করছিল, তখন চুপ করে না থেকে নিজের অসুস্থ স্ত্রীর পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করাটা ছিল আজকের পর্বের সবচেয়ে সুন্দর মুহূর্ত। যে মানুষটা সবসময় শান্ত, সংযত আর নীরব থাকে, সেই মল্লারই আজ স্ত্রীর সম্মানের প্রশ্নে গর্জে উঠল।”
এই দৃশ্য অনেক দর্শকের মন ছুঁয়ে গেছে বলে জানা যাচ্ছে। দর্শকদের একাংশ আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, একসময় মল্লারের মা টগরকে মেনে নিয়েছিলেন মূলত সন্তান পাওয়ার আশায়। কিন্তু আজ টগর অসুস্থ হয়ে পড়তেই তাঁর প্রতি আচরণ বদলে গিয়েছে। সেই কারণেই মল্লারের অবস্থানকে আরও বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন অনেকে। একজন দর্শকের কথায়, “সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো, মল্লারের মা আগে টগরকে চাইত শুধুমাত্র মল্লার আর টগরের সন্তান পাওয়ার আশায়।
আর আজ যখন টগর অসুস্থ, তখন তাকেই পথের কাঁটা মনে করে সরিয়ে দিতে চাইছে। কিন্তু ভালোবাসা তো স্বার্থ বোঝে না! তাই মল্লারও আজ সবাইকে বুঝিয়ে দিল, টগর শুধু তার সন্তানের মা নয়, সে তার স্ত্রী, তার জীবনের সবচেয়ে আপন মানুষ। মল্লারের এই প্রতিবাদ, এই সাহস আর স্ত্রীর প্রতি এই নিঃস্বার্থ ভালোবাসা সত্যিই মন ছুঁয়ে গেল।” ধারাবাহিকের এই নতুন মোড় এবং মল্লারের দৃঢ় অবস্থান এখন দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
