জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘পরিণীতা’র (Parineeta) সাম্প্রতিক পর্বে এমন একটি দৃশ্য দেখানো হয়েছে, যা ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা। গল্পে দেখা যায়, কেয়ারটেকার সুবলের কাছে এমন একটি ভিডিও ছিল, যা প্রকাশ্যে এলে রায়ানের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হতে পারে। সেই ভিডিও পাওয়ার জন্য শিরিন সুবলকে মারধর করিয়ে নদীর ধারে ফেলে রেখে আসে। পরে পারুল এবং মল্লার সুবলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু ঘটনার মোড় ঘোরে তখনই, যখন জানা যায় জলে পড়ে থাকা সুবলের মোবাইলেই রয়েছে সেই গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ, আর সেটি উদ্ধার করতেই পারুল নিজেই জলে নামে।
পরের পর্বে দেখা যায়, পারুল শেষ পর্যন্ত জলের তলা থেকে মোবাইলটি তুলে আনতে সক্ষম হয়। এরপর সে রুকুকে নিয়ে সেই ভেজা ফোন থেকে তথ্য বের করার চেষ্টা শুরু করে। অন্যদিকে শিঞ্জিনী যখন ফোনটির খোঁজ জানতে চায়, তখন শিরিন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জানিয়ে দেয়, জলে ভেজা ফোন থেকে কোনওভাবেই ভিডিও উদ্ধার করা সম্ভব নয়। কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করে পারুল। শেষ পর্যন্ত সে রায়ানের সামনে দাঁড়িয়ে জানায়, তাকে যে ফাঁসানো হয়েছে, তার প্রমাণ সে পেয়ে গেছে এবং পরের সকাল থেকেই সব সত্যি সামনে আসবে। এই দৃশ্য দেখার পর থেকেই দর্শকদের একাংশের মধ্যে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
অনেক দর্শকের বক্তব্য, এটি একটি ধারাবাহিক হলেও বাস্তবতার সঙ্গে অন্তত কিছুটা মিল থাকা দরকার। তাঁদের কথায়, অলৌকিক কাহিনি হলে অনেক কিছুই মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু এই ধারাবাহিক তো সেই ধরনের নয়। তাই পারুলের মতো একজন গর্ভবতী চরিত্রকে এভাবে দীর্ঘ সময় জলের নিচে দেখানো তাঁদের কাছে একেবারেই বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি। কারও মন্তব্য, কয়েক সেকেন্ডের জন্য জলে ডুব দেওয়া পর্যন্ত বোঝা যেত, কিন্তু সেখানে প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট জলের নিচে থেকে ফোন খুঁজে বের করার দৃশ্য অতিরঞ্জিত বলেই মনে হয়েছে। এই কারণেই ধারাবাহিকের এই অংশ নিয়ে নানা প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন দর্শকেরা।
সামাজিক মাধ্যমে একজন দর্শক লিখেছেন, “জানি, এটা সিরিয়াল, এখানে লজিক খোঁজা মানে বোকামি। কিন্তু তাই বলে এতটাও যুক্তিহীন! অলৌকিক গল্প হলে তাও আলাদা ব্যাপার ছিল। পরিণীতা তো সেই ধরনের গল্প নয়। পারুল গর্ভবতী, তার ওপর সে সাঁতারও জানে না। তবুও জলের তলায় গিয়ে শিরিনের থেকে ফোন উদ্ধার করে নিয়ে এল! কয়েক সেকেন্ড হলে তাও বোঝা যেত, কিন্তু সে তো প্রায় দুই থেকে তিন মিনিট জলের নিচে ছিল। একজন গর্ভবতী মহিলার ক্ষেত্রে পাঁচ সেকেন্ড পর পর নিশ্বাস নিতে হয়, সেখানে পারুল এতক্ষণ নিশ্বাস আটকে রাখল। সাধারণ মানুষই এতক্ষণ নিশ্বাস আটকে রাখতে পারে না, সেখানে পারুল তো যেন রেকর্ডই গড়ে ফেলল! বাচ্চাটা আদৌ ঠিক আছে তো? পারুল যেভাবে একের পর এক বিপজ্জনক কাজ করছে, সেটা দেখে সত্যিই চিন্তা হয়।” এই মন্তব্যের সঙ্গে একমত হয়ে আরও অনেকে একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ জুটিতে লুটি! গৃহপ্রবেশের পর ফের একবার সুস্মিতের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন উষসী! কোন চ্যানেলের কোন ধারাবাহিকে ফিরছেন তারা?
তবে অন্য একটি অংশের দর্শকদের মত, ধারাবাহিকে নাটকীয়তা বাড়ানোর জন্য এমন দৃশ্য দেখানো হয়ে থাকে এবং গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার স্বার্থেই এই ধরনের ঘটনা রাখা হয়েছে। তবুও অধিকাংশ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে পারুলের জলের নিচে দীর্ঘ সময় থাকার দৃশ্য এবং তার গর্ভাবস্থার বিষয়টি। অনেকেই নির্মাতাদের কাছে অনুরোধ করেছেন, ভবিষ্যতে এমন দৃশ্য দেখানোর সময় যেন বাস্তবতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এখন দেখার বিষয়, রায়ানের নির্দোষ প্রমাণের পর গল্প কোন দিকে মোড় নেয় এবং দর্শকদের এই সমালোচনার প্রভাব আগামী পর্বগুলিতে পড়ে কি না।
