তালসারি বিচে ধারাবাহিকের শুটিং করতে গিয়ে এমন দুঃখজনক ঘটনা ঘটবে, তা কেউ ভাবতেও পারেননি। জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ভোলেবাবা পার করেগা’-র শুটিং চলছিল স্বাভাবিকভাবেই। কিন্তু হঠাৎই ঘটে যায় ভয়াবহ দুর্ঘটনা। অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের জলে ডুবে মৃত্যুতে স্তব্ধ গোটা টিম। ঘটনাটি রবিবারের, আর সেই মুহূর্ত থেকে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বিনোদন জগতে। সহকর্মীরা এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে কয়েক ঘণ্টা আগেও যিনি হাসিখুশি ছিলেন, তিনি আর নেই। এই অকাল মৃত্যু অনেক প্রশ্নও তুলে দিয়েছে। শুটিং চলাকালীন নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাহুলের মৃত্যুতে সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েছেন তাঁর কাছের মানুষজন। বিশেষ করে অভিনেত্রী শ্রুতি দাসের শোক যেন ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। তাঁদের সম্পর্ক ছিল একেবারে ভাই-বোনের মতো। প্রতি বছর রাখির সময় শ্রুতি নিজে হাতে রাখি পরাতেন রাহুলকে। শুধু সহকর্মী নয়, তাঁদের মধ্যে ছিল গভীর পারিবারিক বন্ধন। সেই মানুষটির এমন হঠাৎ চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছেন না তিনি। এই ক্ষতি তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে অনেক বড় আঘাত। কাছের মানুষ হারানোর যন্ত্রণা তাঁকে ভেঙে দিয়েছে।
শ্রুতি ও রাহুল একসঙ্গে কাজ করেছিলেন ‘দেশের মাটি’ ধারাবাহিকে। সেই সময় থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়। শুটিংয়ের ফাঁকে মজা, গল্প বা কাজের আলোচনা সবকিছুতেই রাহুল ছিলেন শ্রুতির নির্ভরযোগ্য একজন মানুষ। তিনি সবসময় বড় দাদার মতোই পাশে থাকতেন। পর্দার বাইরেও এই সম্পর্ক অটুট ছিল। সহকর্মীরা জানিয়েছেন, দুজনের মধ্যে বোঝাপড়া ছিল অসাধারণ। কাজের বাইরে ব্যক্তিগত জীবনেও তাঁরা একে অপরের খোঁজ রাখতেন। এই স্মৃতিগুলো এখন আরও বেশি কষ্ট দিচ্ছে।
ঘটনার পর শ্রুতির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কথা বলার মতো অবস্থায় ছিলেন না। ফোন ধরেননি, তবে একটি বার্তায় নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, “যাঁর হাতে রাখি বেঁধেছি, তাঁকে আর ছুঁতে পারব না।” এই কয়েকটি শব্দেই স্পষ্ট তাঁর ভেঙে পড়া মন। সোশ্যাল মিডিয়াতেও রাহুলের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত শেয়ার করেছেন তিনি। একটি আবেগঘন পোস্টে লিখেছেন, “আয় আর একটি বার আয় রে সখা… ও রাজা দা…”। এই পোস্ট দেখে অনুরাগীরাও আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন। অনেকেই তাঁর পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ সমুদ্রে ডুবে মৃ’ত্যু হয়নি অভিনেতা রাহুল অরুণোদয়ের? উদ্ধারের পরেও শরীরে ছিল প্রাণ? শুটিং ইউনিটের চোখের সামনে ঘটনা, কী ঘটেছে?
শুটিংয়ের দিন রাহুলকে একেবারে স্বাভাবিক মেজাজেই দেখা গিয়েছিল। সহ অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সঙ্গে বসে হাসি-মজা করছিলেন তিনি। সেই মুহূর্তের ভিডিওও সামনে এসেছে। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সবকিছু বদলে যায়। এই আকস্মিক দুর্ঘটনা যেন সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। মাত্র ৪৩ বছর বয়সে তাঁর এই মৃত্যু অনেকের কাছেই বড় ধাক্কা। পরিবার, বন্ধু এবং সহকর্মীদের কাছে এই ক্ষতি অপূরণীয়। গোটা বিনোদন জগৎ আজ শোকে নীরব।
