পশ্চিমবঙ্গ-ওড়িশা সীমান্তের তালসারি সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে হঠাৎ দুর্ঘটনার শিকার হলেন টলিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার সকাল থেকে ‘ভোলে বাবা পার করেগা’ ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল। শুটিং শেষে বিকেলের দিকে সমুদ্রে নামেন রাহুল। শুটিং ইউনিটের লোকজন জানিয়েছেন, প্রথমে মনে হয়েছিল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছেন তিনি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যে ঢেউয়ের কারণে তিনি তলিয়ে যান। সহকর্মীরা তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করার চেষ্টা করেন।
শুটিং ইউনিটের একজন সূত্র জানিয়েছেন, বিকেলের শুটিং শেষে রাহুল একা সমুদ্রে নামেন। সহ-অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র সৈকতে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং রাহুলের বিপদ বুঝে চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলেন। উপস্থিত অভিনেতা দিগন্ত বাগচীর কথায়, “রাহুল হয়তো সাঁতার জানতেন না বা পা বালিতে আটকে গিয়েছিল। ঢেউ এসে আছড়ে পড়ার পর তিনি ডুবে যেতে থাকেন। উদ্ধার করার সময়ও তিনি বেঁচে ছিলেন।”
রাহুলের ব্যক্তিগত গাড়িচালক জানিয়েছেন, তিনি বারবার সমুদ্রের দিকে যাওয়া রাহুলকে বারণ করেছিলেন। কিন্তু রাহুল তা শোনেননি। শুটিং ইউনিটের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে গাড়িতে তুলে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে পাঠান। হাসপাতালে পৌঁছানোর পথে চিকিৎসকরা প্রাথমিকভাবে চেষ্টা করলেও রাহুলকে বাঁচানো যায়নি। চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
প্রোডাকশন ম্যানেজার চন্দ্রশেখর চক্রবর্তী জানিয়েছেন, শুটিং প্যাকআপ হওয়ার পর শিল্পীরা ধীরে ধীরে ছেড়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ ফোন পেয়ে তিনি সৈকতে পৌঁছান। রাহুলকে গাড়িতে তুলে হাসপাতালের পথে পৌঁছানোর চেষ্টা চালানো হয়। পথেই টেকনিশিয়ানরা রাহুলের বুকে হাত বোলাচ্ছিল। চেষ্টার পরও হৃদরোগের কারণে তিনি মারা যান।
আরও পড়ুনঃ “নিজের পুরুষত্ব প্রমাণে নরকযন্ত্র’ণা, প্রায় এক ঘন্টা ধরে পা’শবিক অ’ত্যাচারে ছিঁ’ড়েছিল গোপ’নাঙ্গ” সায়ককে ঘিরে নতুন বিতর্ক, লাইভে স্যান্ডির বি*স্ফোরক দাবি ঘিরে উত্তাল সমাজ মাধ্যম!
রাহুলের দেহ বর্তমানে দিঘা মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্ত সোমবার কাঁথি হাসপাতালে হবে। অভিনেতার স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকারকে দ্রুত খবর জানানো হয়েছে। শোকাহত শুটিং ইউনিট এবং পরিবার এই অকাল মৃত্যুর কারণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
