জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

ঠাকুরমার শেষ ইচ্ছা পূরণ! আশা ভোঁসলের প্রয়াণের এক সপ্তাহ পর, নাতনি রাখলেন তাঁকে দেওয়া কথা! আবেগঘন মুহূর্তে ভাসলেন চোখের জলে!

প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোঁসলের প্রয়াণের এক সপ্তাহ পর, তাঁর পরিবার আজ বারাণসীর গঙ্গায় তাঁর অস্থি বিসর্জন দিয়েছেন। ছেলে আনন্দ ভোঁসলে এবং নাতনি জনাই আজ সেই শেষ রীতি অনুসরণ করেন, যা ছিল শিল্পীর শেষ ইচ্ছা। অনুষ্ঠানে ধর্মীয় নিয়ম মেনে সবকিছু সম্পন্ন হয়। এই ঘটনা বিশেষভাবে আবেগপূর্ণ হয়ে ওঠে যখন জনাই তাঁর ঠাকুমার অস্থি বিসর্জন করার সময় কান্নায় ভেঙে পড়েন। মৃত্যুর এক সপ্তাহ পর, এই প্রক্রিয়া শোককে মেনে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার এক প্রচেষ্টা ছিল, যা আশা ভোঁসলের পরিবারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

গত ১২ এপ্রিল, মুম্বইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে এক দীর্ঘ অসুস্থতার পর আশা ভোঁসলের মৃত্যু হয়। মৃত্যুর এক দিন আগে, তাঁর শারীরিক অবস্থা বেশ খারাপ ছিল এবং তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। হাসপাতালের সেবা পেলেও, পরদিন তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। তাঁর মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে ভারতীয় সঙ্গীত জগতে। মৃত্যুর পর, ১৩ এপ্রিল, তাঁর শেষকৃত্য রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়। ভারতীয় সঙ্গীতের অদ্বিতীয় এই কণ্ঠশিল্পীর প্রয়াণ দেশবাসীর জন্য গভীর শোকের সৃষ্টি করে।

আশা ভোঁসলের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাঁর ইচ্ছে ছিল মৃত্যুর পর গঙ্গায় অস্থি বিসর্জন করা হবে। গঙ্গার তীরে তাঁর শেষ ইচ্ছা পূরণ করতে, ছেলে আনন্দ এবং নাতনি জনাই বারাণসী পৌঁছান। ঐতিহ্যগতভাবে, এই ধরনের অনুষ্ঠান ধর্মীয় নিয়ম মেনে করা হয়। এ সময়, জনাই তাঁর ঠাকুমাকে হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েন। জনাই তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে জানান, ঠাকুমাই ছিলেন তাঁর সবচেয়ে কাছের বন্ধু, যাঁর সঙ্গে প্রতিদিনের ছোট ছোট মুহূর্ত ভাগ করে নিতেন তিনি। ঠাকুমার অভাব তিনি কখনোই পূর্ণ করতে পারবেন না বলে তিনি মনে করেন।

ঠাকুমার মৃত্যুর পর, জনাই একটি আবেগঘন বার্তা শেয়ার করেন, যেখানে তিনি জানান, ঠাকুমা ছিলেন তাঁর জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। “জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করাই ছিল ঠাকুমার দর্শন,” জানিয়ে তিনি সকলকে এই দর্শন অনুসরণ করার আহ্বান জানান। জনাই বলেন, ঠাকুমার অনুপস্থিতি কখনোই পূর্ণ হবে না, তবে তাঁর স্মৃতি এবং শিক্ষা সবসময় তাদের জীবনে অমলিন থাকবে। আশা ভোঁসলের জীবন ছিল একটি উজ্জ্বল অধ্যায়, যা সকলের মনে চিরকাল রয়ে যাবে।

আশা ভোঁসলের মৃত্যু ভারতের সঙ্গীত জগতে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। দীর্ঘ কয়েক মাস ধরেই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন, কিন্তু তাঁর জীবনের প্রতি অনুরাগ এবং প্রফুল্ল স্বভাব তাকে মানুষের মনে অমর করে রেখেছে। তাঁর গান এবং হাসি সবার মাঝে সঞ্চারিত হয়েছে এবং তার স্মৃতি সবসময় মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছে। গঙ্গায় তাঁর অস্থি বিসর্জন হলেও, তাঁর সঙ্গীত এবং তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার কখনোই মুছে যাবে না। তাঁর অদম্য সত্তা আজও আমাদের মধ্যে বেঁচে আছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page