জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘দিদি নম্বর ১’-এর জাবরা ভক্ত স্বস্তিকার মেয়ের বিদেশি প্রেমিক! ব্রিটিশ অ্যাকসেন্টে গান গেয়ে হবু শাশুড়িকে কী সারপ্রাইজ দিলেন ড্যান?

‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালক বদল ঘিরে গত কয়েক মাস ধরেই টেলিপাড়ায় আলোচনা চলছে। দীর্ঘ প্রায় দুই দশক এই অনুষ্ঠানের সঞ্চালকের আসনে ছিলেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর জায়গায় স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নতুন সঞ্চালিকাকে নিয়ে শুরু হয় নানা তুলনা। সম্প্রচার শুরু হওয়ার পরেও দর্শকদের একাংশের প্রশ্ন ছিল, রচনার জায়গা কি স্বস্তিকা পূরণ করতে পারবেন? তবে সেই সমালোচনায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ অভিনেত্রী। নিজের মতো করে অনুষ্ঠানটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন তিনি। এর মধ্যেই জানালেন, শুধু দর্শকরাই নন, তাঁর মেয়ে অন্বেষা এবং মেয়ের ব্রিটিশ আইরিশ প্রেমিকও নাকি নতুন ‘দিদি নম্বর ১’-এর ভক্ত হয়ে উঠেছেন।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এর আগে তিনি জি ফাইভের জন্য একাধিক কাজ করলেও মেয়ের মধ্যে সেগুলি নিয়ে তেমন কৌতূহল দেখা যায়নি। কিন্তু ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালনার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতি বদলে যায়। অভিনেত্রীর কথায়, তিনি অনুষ্ঠানটি শুরু করার পরই তাঁর মেয়ে জি ফাইভের সদস্যপদ নিয়ে ফেলেন। শুধু অন্বেষাই নন, তাঁর প্রেমিক ড্যানিয়েল লোগ্রানও নিয়মিত অনুষ্ঠানটি দেখতেন। ড্যান ব্রিটিশ আইরিশ হওয়ায় বাংলার সব কথা বুঝতে তাঁর অসুবিধা হয়। তাই স্বস্তিকার মেয়ে তাঁকে প্রয়োজন মতো কথাগুলি অনুবাদ করে বুঝিয়ে দিতেন। শুরুর দিকে নাকি তাঁরা ‘দিদি নম্বর ১’-এর প্রায় প্রতিটি পর্বই দেখেছেন।

তবে অনুষ্ঠান দেখেই থেমে থাকেননি ড্যানিয়েল। হবু শাশুড়ির জন্য বিদেশ থেকে বিশেষ উপহারও পাঠিয়েছেন তিনি। স্বস্তিকা জানিয়েছেন, ড্যান ব্রিটিশ উচ্চারণে ‘দিদি নম্বর ১’ গানটি গেয়ে একটি ভিডিও করে তাঁকে পাঠিয়েছেন। সেই ভিডিও পেয়ে বেশ খুশি অভিনেত্রী। স্বস্তিকা আরও জানান, তিনি খুব তাড়াতাড়ি মেয়ের কাছে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। সেখানে গিয়ে তিনি এবং ড্যানিয়েল মিলে একটি ভিডিও তৈরি করবেন বলেও জানিয়েছেন। স্বস্তিকার কথায়, মেয়ের প্রেমিকের এই আন্তরিকতা তাঁর ভালো লেগেছে। নতুন অনুষ্ঠানকে ঘিরে পরিবারের মধ্যেও যে আলাদা উৎসাহ তৈরি হয়েছে, ড্যানিয়েলের এই কাণ্ড যেন তারই প্রমাণ।

অন্বেষার প্রেমিক ড্যানিয়েল লোগ্রান পেশায় একজন মেঘ পরিষেবা প্রকৌশলী এবং লন্ডনে থাকেন। কার্ডিফ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় অন্বেষার সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। বর্তমানে দুজনের সম্পর্ক যথেষ্ট ঘনিষ্ঠ এবং সমাজমাধ্যমেও মাঝেমধ্যে তাঁদের একসঙ্গে ছবি দেখা যায়। সেই ছবিগুলিতে স্বস্তিকাকেও মেয়ের প্রেমিকের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখা যায়। গত বছর বিদেশে বেড়াতে গিয়েও অন্বেষা ও ড্যানিয়েলের সঙ্গে ছবি ভাগ করে নিয়েছিলেন অভিনেত্রী। এবার সেই ড্যানিয়েলের মুখেই ‘দিদি নম্বর ১’-এর গান শুনে আরও একবার আলোচনায় এল তাঁদের সুন্দর সম্পর্কের সমীকরণ।

এদিকে ‘দিদি নম্বর ১’-এর সঞ্চালক বদল নিয়ে রচনার সঙ্গে তাঁর তুলনা প্রসঙ্গেও মুখ খুলেছেন স্বস্তিকা। সংবাদ প্রতিদিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রচনাদি যে জায়গায় অনুষ্ঠানটিকে নিয়ে গিয়েছেন, তিনি কখনও মনে করেন না যে সেটি হুবহু করতে পারবেন। বরং নিজের মতো করে অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন তিনি। নতুন দায়িত্ব নিয়ে আসা সমালোচনা নিয়েও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী। তাঁর মতে, সমাজমাধ্যমের নেতিবাচক মন্তব্যকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

সমাজমাধ্যম প্রসঙ্গে স্বস্তিকার বক্তব্য, “ফেসবুকটাকে আমি নর্দমা ভাবি। আমার মনে হয়, কেউ যখন কাউকে ছোট করে, তখন ভাবে যে, এই কথাটা বলে দিলাম, গায়ে লেগে গেল! আমি জিতে গেলাম। আমি মনে করি ওটা আমাদের গায়ে মাখা উচিত নয়।” এরপর নিজের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, কেউ তাঁকে যা খুশি বললেও তিনি নিজেকে সেই পরিচয়ে দেখেন না। এমনকি কেউ তাঁকে ‘রাক্ষসী’ বললে তিনি বরং আরও ভালো একটি বিকল্পও দিতে পারেন বলে মন্তব্য করেন। কারণ তিনি ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ ছবিতে শাঁকচুন্নির চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন এবং তাঁর মতে, জীবনে করা চরিত্রগুলির মধ্যে সেটিই অন্যতম জনপ্রিয়। তাই সমালোচনা নিয়ে না ভেবে নিজের কাজেই মন দিতে চান স্বস্তিকা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page