জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“শোকটা ব্যক্তিগত থাক না, ক্যামেরাবন্দি করে সবার সামনে কেন?” রাহুল হোক রাজা সেন সবার মৃ’ত্যুতেই ক্যামেরা হাতে শ্মশানে চলে যাচ্ছেন সাংবাদিকরা! প্রিয়জন হারানোর পর সাংবাদিকদের এহেন সাংবাদিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়!

বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ ভাস্বর চট্টোপাধ্যায়। দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের অভিনয় জীবনে ছোট পর্দা থেকে বড় পর্দা এবং ওয়েব সিরিজে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৯৮ সালে ‘কণকাঞ্জলি’ ধারাবাহিকের ছোট চরিত্র দিয়ে পর্দায় পথচলা শুরু তাঁর। এরপর ‘জন্মভূমি’র বিক্রম চরিত্র তাঁকে দর্শকের কাছে পরিচিতি এনে দেয়। ‘আলো’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক করেন তিনি। ‘দ্য লেজেন্ড অব ভগত সিং’, ‘রয়্যাল বেঙ্গল রহস্য’, ‘যেখানে ভূতের ভয়’, ‘অ্যাবি সেন’, ‘মহালয়া’র মতো ছবিতেও দেখা গিয়েছে তাঁকে। পাশাপাশি ‘অগ্নিপরীক্ষা’, ‘পটলকুমার গানওয়ালা’, ‘জয় বাবা লোকনাথ’, ‘করুণাময়ী রানি রাসমণি’, ‘গোধূলি আলাপ’ সহ বহু ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় দর্শকের নজর কেড়েছে।

অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের স্পষ্ট বক্তব্যের জন্যও মাঝেমধ্যে আলোচনায় আসেন ভাস্বর। ব্যক্তিগত জীবন, সমাজ কিংবা বিনোদন জগতের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সমাজমাধ্যমে নিজের মতামত প্রকাশ করতে দেখা যায় তাঁকে। এবারও তেমনই একটি বিষয়ে সরব হলেন অভিনেতা। নিজের সামাজিক মাধ্যমের পাতায় একটি পোস্ট করে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, কোনও শিল্পী বা পরিচিত মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের শোকের মুহূর্তকে কতটা প্রকাশ্যে আনা উচিত। ভাস্বরের মতে, কয়েক বছর আগেও বিনোদন জগতের কোনও মানুষ মারা গেলে সংবাদমাধ্যমের কভারেজের ধরন এমন ছিল না। এখন পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে বলেই মনে করছেন তিনি। মৃত্যুর খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের ব্যক্তিগত মুহূর্তেও ক্যামেরা পৌঁছে যাচ্ছে বলে তাঁর বক্তব্য।

ভাস্বর নিজের পোস্টে লিখেছেন, “কিছু বছর আগেও ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত কেউ মারা গেলে মিডিয়া কভারেজ এভাবে হত না যা এখন হয়। এখন শ্মশান অবধি ধাওয়া করে যাচ্ছে সবাই।” এরপরই ব্যক্তিগত শোকের মুহূর্তকে সংবাদ হিসেবে তুলে ধরার প্রবণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য, প্রিয় মানুষকে হারানোর পর পরিবারের সদস্যরা এমনিতেই ভেঙে পড়েন। সেই সময় তাঁদের সামনে ক্যামেরা নিয়ে হাজির হয়ে বারবার প্রশ্ন করা কতটা প্রয়োজন, তা নিয়েই তাঁর আপত্তি। ভাস্বর আরও লিখেছেন, “শোকটা ব্যক্তিগত থাক না, নাই বা ক্যামেরাবন্দি করে সবার সামনে তুলে ধরলেন।” অর্থাৎ তাঁর মতে, কোনও মানুষের শেষযাত্রা বা প্রিয়জন হারানোর মুহূর্তকে সংবাদমাধ্যমের চাহিদা মেটানোর জন্য প্রকাশ্যে তুলে ধরার আগে পরিবারের মানসিক অবস্থার কথাও ভাবা প্রয়োজন।

শুধু শ্মশান পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের উপস্থিতি নয়, শোকাহত পরিবারের সদস্যদের করা প্রশ্ন নিয়েও আপত্তি জানিয়েছেন অভিনেতা। ভাস্বরের কথায়, “প্রিয়জনকে হারিয়ে কেমন লাগছে এ প্রশ্নটা কি খুব জরুরি?” তাঁর এই প্রশ্নের মধ্যেই মূলত উঠে এসেছে ব্যক্তিগত পরিসরের প্রতি সম্মান দেখানোর প্রসঙ্গ। দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে শিল্পীদের জীবনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত খুব কাছ থেকে দেখেছেন তিনি। নিজেও বহু বছর ধরে ধারাবাহিক, সিনেমা এবং ওয়েব মাধ্যমে কাজ করছেন। বর্তমানে ২০২৬ সালেও অভিনয়ে সক্রিয় ভাস্বরকে একাধিক ধারাবাহিকে দেখা যাচ্ছে এবং সম্প্রতি ‘তিলোত্তমা’ ধারাবাহিকে মৈত্রেয়ী মিত্রের সঙ্গে দীর্ঘ ১৯ বছর পর জুটি হিসেবেও ফিরেছেন তিনি।

ভাস্বরের এই বক্তব্য সামনে আসার পর ফের আলোচনায় এসেছে তারকা এবং তাঁদের পরিবারের ব্যক্তিগত পরিসর নিয়ে প্রশ্ন। মৃত্যুর খবর মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হলেও, সেই খবর সংগ্রহের সময় শোকাহত পরিবারের প্রতি কতটা সংবেদনশীল থাকা উচিত, সেই প্রশ্নই তুলেছেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংবাদমাধ্যমকে উদ্দেশ্য করে কি না, তা তিনি আলাদা করে জানাননি। তবে তাঁর কথায় স্পষ্ট, মৃত্যুর মতো অত্যন্ত ব্যক্তিগত ও বেদনাদায়ক মুহূর্তে ক্যামেরার উপস্থিতি এবং একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি নিয়ে তাঁর আপত্তি রয়েছে। বিনোদন জগতের দীর্ঘদিনের অভিনেতা হিসেবে ভাস্বরের এই মন্তব্য তাই নতুন করে ব্যক্তিগত পরিসর, সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব এবং তারকাদের শোক প্রকাশের অধিকার নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page