জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’ (Tare Dhori Dhori Mone Kori) শুরু হতে না হতেই দর্শকদের মধ্যে একাধিক কৌতূহল তৈরি করেছে। আধ্যাত্মিক আবহে গাঁথা এই প্রেমের গল্পে যেমন নতুনত্ব আছে, তেমনই আছে পরিচিত মুখের প্রত্যাবর্তন। বহুদিন পর আবার আধ্যাত্বিক ধারাবাহিকে ফিরেছেন বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় আর সাময়িক বিরতির পর নতুন রূপে পল্লবী শর্মা। প্রোমো বেরোতেই, দু’জনকে দর্শক আপন করে নিয়েছেন। তবে এই ধারাবাহিকের গল্পের ধরন যে একেবারে অন্যরকম, শুরু হতেই তা স্পষ্ট!
শুরুর দুই পর্বে বিশ্বরূপের ‘গোরা’ চরিত্রটি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কৃষ্ণভক্ত এই গোরা কর্মসূত্রে বাড়ি থেকে দূরে থাকলেও তার জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অদ্ভুত এক ক্ষমতা, ভবিষ্যতের কিছু ঝলক সে আগেভাগেই দেখতে পায়! পরিবার ছেড়ে একা থাকার সিদ্ধান্ত, বিশ্বাস আর বাস্তবতার দ্বন্দ্ব মিলিয়ে চরিত্রটি যত এগোচ্ছে, ততই রহস্য ঘনাচ্ছে। আবার পল্লবীর রূপমঞ্জুরির সঙ্গে তার সম্পর্কটাও খুব স্বাভাবিক ছন্দে গড়ে উঠছে, যা দর্শকদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য লাগছে।
ধারাবাহিক শুরু হয়েছে এক সপ্তাহও হয়নি, এরই মধ্যে গল্পে এসে হাজির বড়সড় মোড়! সাম্প্রতিক পর্বে দেখা যায়, রাসের ছুটি শেষে গোরা কাজে ফিরে যায় কিন্তু মন পড়ে থাকে রূপমঞ্জুরির কাছে। ঠিক সেই সময় থেকেই বারবার তার সামনে ভেসে উঠছে তিনজন অচেনা সাধুর ছবি। অফিসের মধ্যেই হঠাৎ সে দেখে, ওই সাধুরা যেন তাকে কোনও অদৃশ্য সংকেত দিচ্ছে। বাড়ি ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দিচ্ছে, কারণ রূপমঞ্জুরির সামনে জীবনে নাকি ভয়ংকর বিপদ অপেক্ষা করছে!
এই সতর্কবার্তার সঙ্গে সঙ্গেই গোরার চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক ভয়াবহ দৃশ্য। রান্নার সময় হঠাৎ বি’ষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত হয় রূপমঞ্জুরি! গোরা দূরে থেকেও যেন রূপমঞ্জুরির কষ্টে ব্যথা পায় আর ভেঙে পড়ে। এখানেই দর্শকদের মনে একসঙ্গে ভিড় করে এসেছে একাধিক প্রশ্ন। গোরা যদি আগেই বিপদের আভাস পেয়ে থাকে, তাহলে কি সে জানে সংসার ছেড়ে সবকিছু ত্যাগ না করলে রূপমঞ্জুরিকে বাঁচবে না? এই সাধুরা আসলে কারা? দেবদূত, নাকি কোনও অজানা শক্তির প্রতিনিধি?
আরও পড়ুনঃ “বাবাকে দেখেছি ব্যালেন্স করতে…যেমন করে ঘর সামলাই, তেমনই ক্যামেরার সামনে ১০০ শতাংশ দিই, যাতে দর্শকদের সময় আর কষ্টের টাকা নষ্ট না হয়।” রঞ্জিত মল্লিকের আদর্শেই সংসার ও কাজের প্রতি সমান গুরুত্বের শিক্ষা পেয়েছেন, জানালেন মেয়ে কোয়েল!
আরও বড় প্রশ্ন উঠছে এই নিয়েও, যা দেখা যাচ্ছে তা কি সত্যিই কোনও আধ্যাত্মিক শক্তির ফল? নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে বড় কোনও ষড়যন্ত্র? গোরা যে কোম্পানিতে কাজ করে, সেখানে কি কেউ তাকে সরিয়ে দিতে এই পরিকল্পনা করছে? নাকি ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতাটাই তাকে ভুল পথে চালিত করছে? সবে শুরু হওয়া ধারাবাহিকেই এত প্রশ্ন তৈরি হওয়ায় দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে। গোরা-রূপমঞ্জুরির গল্প কোন দিকে মোড় নেবে, তা জানতে এখন চোখ রাখতেই হচ্ছে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭:৩০-এ, জি বাংলার পর্দায়।
