প্রাইম টাইমে স্লট পাওয়া মনে মুখের কথা না, আর তার থেকেও বড় কথা সেই স্লট দিনের পর দিন ধরে রাখা। রাত আটটার স্লট মানেই একসময় কিছু ধারাবাহিকের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। সেই তালিকায় জি বাংলার ‘মিঠাই’ অন্যতম নাম। সেখানেই চুপচাপ নিজের জায়গা পাকা করে ফেলেছে ‘পরিণীতা’ (Parineeta)। শুরু থেকেই নিজের দাপট দেখিয়ে এক বছরে একাধিকবার ‘বেঙ্গল টপার’ হয়েছে টিআরপিতে এই ধারাবাহিক, আর সেই উপলক্ষে দর্শকদের মধ্যে যেমন উচ্ছ্বাস, তেমনই কলাকুশলীদের স্মৃতিতেও উঠে আসছে শুরুর দিনের কথাও।
যে ধারাবাহিককে একসময় তেমন গুরুত্বই দিতে চাননি অনেকেই, সেই মেগাই এখন নিয়মিত টিআরপি তালিকায় শক্ত অবস্থান ধরে রেখেছে। রায়ান ও পারুলের গল্প ধীরে ধীরে যে এতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে, তা প্রথমদিকে আন্দাজ করতে পারেননি অনেকেই। নায়ক ‘উদয় প্রতাপ সিংহের’ (Uday Pratap Singh) জন্য এই যাত্রা যেন আলাদা করে গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন বিভিন্ন ধারাবাহিকে পার্শ্বচরিত্রে দেখা গেলেও, এই প্রথম তিনি কাঁধে তুলে নিয়েছেন পুরো গল্পের মূল দায়িত্ব। নবাগতা নায়িকা আর তাঁর নিজের ইমেজ, মিলিয়ে শুরুতে সংশয় ছিল দর্শকের একাংশের।
তবে সেই সন্দেহ কাটিয়ে উঠতেই যেন বেশি সময় নেয়নি এই জুটি। পর্দায় রায়ান-পারুলের রসায়ন ধীরে ধীরে গল্পের সঙ্গে মিশে গিয়ে দর্শকদের টানতে শুরু করে। এই প্রসঙ্গে উদয় একবার নিজের অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে স্বীকার করেছিলেন, “শুরুর দিকে আমাদের নিয়ে কারোরই প্রত্যাশা ছিল না। একে তো নতুন নায়িকা আর তার উপরে আমি এতদিন পার্শ্ব চরিত্র করেছি, তাই অনেকে ভেবেছিলেন এই ধারাবাহিক বেশিদিন চলবে না।” তাঁর কথায় স্পষ্ট ছিল সেই সময়কার চাপ আর অনিশ্চয়তার স্মৃতি।
কিন্তু একই সঙ্গে ছিল স্বস্তিও, কারণ দর্শকের গ্রহণযোগ্যতাই শেষ কথা বলে দিয়েছে। তিনি আরও বলেন, “অনেক সমালোচনা হয়েছিল, সন্দেহও ছিল আমাদের গল্প নিয়ে। কিন্তু ভালো লাগছে যে দর্শক গল্পটাকে আর আমাদের এই কাজটাকে এতটা আপন করে নিয়েছেন।” এই স্বীকৃতিটাকেই তিনি সবচেয়ে বড় পাওনা বলে মনে করেন। তাঁর মতে, ধারাবাহিকের শক্তি শুধু মুখচেনা তারকা নয়, গল্প আর চরিত্রের সঙ্গে দর্শকের সংযোগ তৈরি হওয়া।
আরও পড়ুনঃ “তুমি থিয়েটার থেকে বেরিয়ে গেলে তাতে কিছু যায় আসে না… তারপরই সেপারেশন হয়ে গেল” – প্রাক্তনী মধুমিতা সরকারের বিয়ের সময় ব্যক্তিগত ও অভিনয় জীবনের স্ট্রাগল নিয়ে মুখ খুললেন সৌরভ চক্রবর্তী! কেন সেপারেশনের সময় পারিবারিক দিক থেকে ভেঙে পরেছিলেন অভিনেতা?
সব মিলিয়ে ‘পরিণীতা’র এই এক বছরের যাত্রা যেন প্রমাণ করে দিয়েছে, শুরুটা কেমন হল তা নয় বরং শেষ পর্যন্ত দর্শকের মন জয় করাই আসল! প্রথমে যাদের নিয়ে নাক সিটকাটো দর্শক, তারাই এখন সমাজ মাধ্যম হোক বা চায়ের টেবিলে নিয়মিত চর্চার কেন্দ্রে। উদয়ের অভিনয় জীবনে এই অধ্যায় যে আলাদা করে চিহ্ন রেখে গেল, তা বলাই যায়। ধারাবাহিকের পথচলা যেমন চলছে, তেমনই বদলে গেছে অনেকের ধারণাও। আপনাদের কেমন লাগছে এই জুটির রসায়ন?
