বাংলা টেলিভিশনের বহু জনপ্রিয় ধারাবাহিকে পুলিশ অফিসারদের গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে দেখা যায়। গল্পের শুরুতে তাঁদের কঠোর, সৎ এবং দায়িত্বশীল অফিসার হিসেবে তুলে ধরা হলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সেই চরিত্রের মূল কাজ সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে নিজের পরিবার বা পরিচিত মানুষদের ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলির তদন্তে। সম্প্রতি জি বাংলার ‘জোয়ার ভাঁটা’ ধারাবাহিকেও এমন একটি বিষয় নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জিৎ বসুর চরিত্রকে ঘিরে অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন, একজন পুলিশ অফিসারের দায়িত্ব কি শুধুই নিজের বাড়ি এবং আত্মীয়দের কেন্দ্র করে আবর্তিত হতে পারে?
‘জোয়ার ভাঁটা’র সাম্প্রতিক পর্বগুলিতে দেখা যাচ্ছে, জিৎ বসুর বেশিরভাগ পদক্ষেপই নিশা, উজি এবং তাঁদের পরিবারকে ঘিরে। অপরাধ, তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ থেকে শুরু করে বড় সিদ্ধান্ত, সবকিছুই যেন ব্যক্তিগত সম্পর্কের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। গল্পের প্রয়োজনে এই ধরনের মোড় আসতেই পারে। কিন্তু দর্শকদের একাংশের মতে, এতে পুলিশ অফিসারের পেশাগত দায়িত্বের বিস্তৃত দিকটি আর তেমনভাবে সামনে আসে না। ফলে চরিত্রটি ধীরে ধীরে একজন তদন্তকারী অফিসারের চেয়ে পারিবারিক ঘটনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেই বেশি ফুটে ওঠে।
এই বিষয়টি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমেও নানা আলোচনা দেখা যাচ্ছে। অনেক দর্শকের প্রশ্ন, বাস্তব জীবনে একজন পুলিশ অফিসার অসংখ্য মামলার তদন্ত, প্রশাসনিক দায়িত্ব এবং জননিরাপত্তার কাজে যুক্ত থাকেন। সেখানে ধারাবাহিকে বারবার একই পরিবারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো তদন্ত এগোতে দেখানো হলে তা কতটা বাস্তবসম্মত বলে মনে হয়? আবার অন্য একাংশের দর্শকের বক্তব্য, এটি সম্পূর্ণ একটি কল্পকাহিনি, তাই নাটকীয়তার স্বার্থেই চরিত্রগুলিকে একই ঘটনার মধ্যে রাখা হয়, যাতে গল্প এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হয়।
তবে সমালোচকদের মতে, বারবার একই ধরনের উপস্থাপনা হলে দর্শকদের মনে পুলিশের কাজ সম্পর্কে একটি সীমিত ধারণাও তৈরি হতে পারে। তাঁদের বক্তব্য, পুলিশ বাহিনীর কাজ শুধুমাত্র নিজের পরিবারের অপরাধ বা পরিচিত মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাস্তবে তাঁদের দায়িত্ব অনেক বিস্তৃত এবং বহুমুখী। তাই ভবিষ্যতে ধারাবাহিকে যদি অফিসারদের পেশাগত জীবনের আরও বিভিন্ন দিকও দেখানো হয়, তাহলে গল্প যেমন আরও বৈচিত্র্যময় হতে পারে, তেমনই বাস্তবতার ছোঁয়াও বাড়তে পারে বলে অনেকের মত।
আরও পড়ুনঃ ‘আমি এমন একজন অভিনেত্রী যে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে কাজ করেছি…’ নিজের ঢাক নিজেই পেটালেন রচনা! “হাস্যকর! রাখি থেকে জয়া, শর্মিলা থেকে অপর্ণা এরা তাহলে অমিতাভের বিপরীত কি করেছেন? এরা কি বাঙালি নন? রচনাকে আয়না দেখালো নেটপাড়া
সব মিলিয়ে ‘জোয়ার ভাঁটা’য় জিৎ বসুর চরিত্র নতুন করে একটি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, গল্পের নাটকীয়তা বাড়াতে গিয়ে কি পুলিশ চরিত্রগুলিকে প্রায়শই শুধুমাত্র পারিবারিক ঘটনার মধ্যেই আটকে রাখা হচ্ছে? নাকি দর্শকদের আকর্ষণ ধরে রাখার জন্যই এই ধরনের চিত্রনাট্য বেছে নেওয়া হয়? এই বিতর্কের নির্দিষ্ট উত্তর না মিললেও, বিষয়টি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ এবং মতবিনিময় যে ক্রমশ বাড়ছে, তা স্পষ্ট।
