সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাজনৈতিক বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে একাধিক বিষয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী ও সাংসদ ‘রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়’ (Rachana Banerjee)। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি জানতেন না দলের ভিতরে এত নোংরামি রয়েছে। তাঁর দাবি, যদি আগে এই পরিস্থিতির কথা জানতেন, তাহলে কখনও রাজনীতিতে আসতেন না। তিনি আরও বলেন, অভিনয়, শুটিং এবং নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই তিনি ভালো ছিলেন। একইসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে দাবি করেন, তাঁর বাড়ি, গাড়ি কিংবা সম্পত্তির কোনওটাই রাজনীতির অর্থে তৈরি নয়, দীর্ঘ ২৫ বছরের পরিশ্রম এবং একাধিক ভাষায় কাজ করেই তিনি সব অর্জন করেছেন।
সাক্ষাৎকারে রচনা আরও বলেন, আজও তিনি মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারেন, কারণ দুর্নীতি নয়, নিজের পরিশ্রমই তাঁকে এই জায়গায় পৌঁছে দিয়েছে। তিনি জানান, রাজনীতিতে এসে নানান কটূক্তি শুনতে হচ্ছে, কিন্তু তা তাঁর প্রাপ্য নয়। পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করে বলেন, তিনি পদত্যাগ করবেন না এবং বাকি সময় মানুষের জন্য কাজ করে যাবেন। হুগলি ও চুঁচুড়ার দুর্নীতির প্রসঙ্গও টেনে এনে তিনি বলেন, তদন্ত হলে সত্য সামনে আসবে। তবে এই দীর্ঘ বক্তব্যের মাঝেই একটি মন্তব্যই পরে সবচেয়ে বেশি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।
নিজের অভিনয় জীবনের প্রসঙ্গ তুলতে গিয়ে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি এমন একজন বাঙালি অভিনেত্রী, যিনি অমিতাভ বচ্চনের বিপরীতেও অভিনয় করেছেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল নিজের দীর্ঘ অভিনয়জীবন এবং অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরা। কিন্তু এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক মাধ্যমে তা নিয়ে তুমুল আলোচনা শুরু হয়। অনেকের মতে, নিজের সাফল্যের কথা বলতে গিয়ে তিনি এমন একটি তুলনা টেনেছেন, যা অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ফলে রাজনৈতিক মন্তব্যের চেয়ে এই বক্তব্যই এখন বেশি আলোচিত হচ্ছে।
সমালোচকদের একাংশ লিখেছেন, “অমিতাভ বচ্চনের কিন্তু অনেক বাঙালি নায়িকা আছেন। জয়া ভাদুড়ি, শর্মিলা ঠাকুর, রাখি গুলজার, অপর্ণা সেন, মৌসুমী চট্টোপাধ্যায়, সুমিতা সান্যাল, মমতা শঙ্কর। আপনি তাঁদের ধারেকাছেও না, তাই অযথা তুলনা টেনে নিজেকে সেরা বা খুব দক্ষ প্রমাণ করার চেষ্টা করবেন না।” আবার আরেকজনের মন্তব্য, “হাস্যকর! নিজেকে কী মনে করেন? আপনার অনেক আগে থেকেই বাঙালি অভিনেত্রীরা বম্বেতে কাজ করছেন। যে ১০টি ভাষায় কাজ করেছেন বলছেন, সেগুলোর নামও কেউ জানে কিনা সন্দেহ আছে।” আরও অনেক নেটিজেনের মত, নিজের সাফল্য তুলে ধরতে গেলে অন্যদের অবদানকেও মনে রাখা উচিত।
আরও পড়ুনঃ বিয়ের কাউন্টডাউন শুরু! মায়ের বিয়ের শাড়িতেই বধূ সাজবেন ‘টুম্পা অটোওয়ালি’ ডোনা ভৌমিক! কবে চার হাত এক হচ্ছে? বিয়ে নিয়ে আর কি পরিকল্পনা রয়েছে?
তুলনার বদলে নিজের কাজকেই কথা বলতে দেওয়া ভালো। এই ঘটনার পর থেকেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাক্ষাৎকারের ওই অংশটি বিভিন্ন মহলে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একদিকে তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক চলছে, অন্যদিকে অভিনয়জীবন নিয়ে করা মন্তব্য নিয়েও মতভেদ তৈরি হয়েছে। কেউ তাঁর আত্মবিশ্বাসের প্রশংসা করছেন, আবার কেউ মনে করছেন, বক্তব্যটি আরও সংযতভাবে বলা যেত। ফলে একটি সাক্ষাৎকার ঘিরেই রাজনীতি এবং অভিনয়, দুই ক্ষেত্রেই নতুন করে বিতর্কের আবহ তৈরি হয়েছে।
