গতকাল ‘বিগ বস বাংলা’র শনিবারের ‘দাদার দরবার’ ঘিরে এবার নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা। সৌরভ গাঙ্গুলির সামনে সরাসরি রাজবীরকে নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিনেতা জিতু কামাল। জিতুর প্রশ্ন ছিল, রাজবীরের আগ্রাসী আচরণকে কি আদৌ সমর্থন করছেন সঞ্চালক? কারণ, বাড়ির অন্য সদস্যদের সঙ্গে রাজবীরের ব্যবহারে একাধিকবার অসন্তোষ দেখা গিয়েছে। তারপরেও তাঁর আচরণ নিয়ে সৌরভ কেন আরও কড়া কথা বলছেন না, সেটাই জিতুর প্রশ্নের মূল জায়গা ছিল। জিতুর এমন প্রশ্নে কিছুটা অবাক হয়ে যান সৌরভ নিজেও। তিনি জানান, জিতুর কাছ থেকে এমন প্রশ্ন আসবে, তা তিনি ভাবেননি।
জিতুর প্রশ্নের জবাবে সৌরভ স্পষ্ট করে জানান, তাঁর দায়িত্ব হল শোয়ে কে ভাল করছেন আর কে খারাপ করছেন, সেটা সরাসরি বলা। কেউ যদি মনে করেন রাজবীরের বিষয়ে তিনি পক্ষপাত করছেন, তাহলে সেই ধারণা ঠিক নয় বলেও জানান তিনি। অন্যদিকে তনুশ্রীও যে সৌরভকে রাজবীরের পক্ষ নিতে দেখছেন, সেটাও তিনি প্রকাশ্যে স্বীকার করেন। তবে সৌরভের বক্তব্য ছিল, তিনি নিজের পছন্দ বা অপছন্দ দিয়ে নয়, দর্শকের বিচার এবং শোয়ের পরিস্থিতির ভিত্তিতেই কথা বলেন। এই ঘটনাই এবার দর্শকের একাংশের মধ্যে নতুন প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ‘বিগ বস’-এর ইতিহাসে এমন দৃশ্য খুব একটা দেখা যায়নি, যেখানে প্রতিযোগীরাই হোস্টের সিদ্ধান্ত এবং আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এক দর্শকের দাবি, প্রথমে জিতু এবং পরে তনুশ্রী মিলে ‘দাদার দরবার’-এই যেন সঞ্চালককেই প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন।
দর্শকের একাংশের বক্তব্য, আসল অভিযোগ রাজবীরকে নিয়ে নয়, বরং তাঁর আচরণের বিরুদ্ধে সৌরভ কেন আরও কড়া অবস্থান নিলেন না, তা নিয়ে। একজন দর্শক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে লিখেছেন, “বিগ বসের ইতিহাসে এই প্রথম দেখলাম, প্রতিযোগীরাই মিলে হোস্টের ভুল ধরছে।
প্রথমে জিতু, তারপর তনুশ্রী, সবাই মিলে দাদার দরবারেই দাদাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। দাদা কেন রাজবীরকে আরও বেশি কথা শোনালেন না, মূল অভিযোগটা আসলে সেটাই। ওদের এভাবে প্রশ্ন করতে দেখে মনে হচ্ছিল, যদি এটা হিন্দি বিগ বস হত এবং সৌরভ গাঙ্গুলির জায়গায় সলমন খান থাকতেন, তাহলে জিতু শুধু বিগ বস থেকেই নয়, ইন্ডাস্ট্রি থেকেও আজীবনের জন্য বাদ পড়তেন।” এই মন্তব্যের পাশাপাশি আরও এক দর্শক মনে করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে বিগ বস দেখা দর্শকদের কাছে এই পর্বটি বেশ হাস্যকর বলেই মনে হয়েছে।
সৌরভ গাঙ্গুলির সঞ্চালনা নিয়েও দর্শকের একাংশের ক্ষোভ প্রকাশ পেয়েছে। একজন দর্শক সরাসরি দাবি করেছেন, “এই মুহূর্তে বিগ বস বাংলার বাড়ি থেকে সবার আগে যাঁর বেরিয়ে যাওয়া উচিত, তিনি সৌরভ গাঙ্গুলি।” তাঁর বক্তব্য, শনিবারের ‘দাদার দরবারে’ এসে যদি অন্য প্রতিযোগীদের ভুল বা দোষের বিচার করার বদলে সঞ্চালককেই নিজের ভুল নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়, তাহলে সঞ্চালনা ছেড়ে দেওয়াই ভালো। আরেক দর্শকের মতে, অনুষ্ঠানে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে সকলে মিলে বাংলা বিগ বসকে যেন বাংলা ধারাবাহিকের মতো করে ফেলেছেন। তাঁর কথায়, “এভাবে যদি দাদার দরবারে এসে অন্যদের ভুলের বিচার করার বদলে প্রতিযোগীদের কাছ থেকেই নিজের ভুলের কথা শুনতে হয়, তাহলে হোস্টিং ছেড়ে দেওয়াই ভালো।” এই মন্তব্যগুলির মাধ্যমে স্পষ্ট, রাজবীরকে ঘিরে সৌরভের ভূমিকা নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও মতভেদ তৈরি হয়েছে। তবে এগুলি দর্শকের প্রতিক্রিয়া, অনুষ্ঠানের বিষয়ে তাঁদের ব্যক্তিগত মত হিসেবেই উঠে এসেছে।
এদিকে শনিবারের পর্বে শুধু বিতর্কই নয়, ছিল বাড়ি থেকে প্রতিযোগীর বিদায়ের পর্বও। এদিন অ্যালেক্সজান্দ্রা টেলরকে বিদায় নিতে হয়েছে ‘বিগ বস বাংলা’ থেকে। নমিনেশনে ছিলেন সায়ক চক্রবর্তী, দীপেন্দু বিশ্বাস, সৃজলা গুহ, দুর্নিবার সাহা, অ্যালেক্সজান্দ্রা টেলর, মনামী ঘোষ এবং নিরঞ্জন মণ্ডল। প্রথমে দুর্নিবার ও সৃজলা নিরাপদ জায়গায় চলে যান। এরপর মনামী, সায়ক, নিরঞ্জন, দীপেন্দু এবং অ্যালেক্সকে নিয়ে একটি খেলা খেলান সৌরভ। প্লেটে গোলাপ এবং ক্যাকটাস রেখে সেগুলি ঢেকে দেওয়া হয়েছিল, পরে সবাই একসঙ্গে ঢাকা সরালে অ্যালেক্সের প্লেটেই দেখা যায় ক্যাকটাস। ফলে তাঁকেই শো থেকে বিদায় নিতে হয়, আর তাঁর চলে যাওয়ায় ঝিলম, নিরঞ্জন এবং সোহিনী আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ঝিলম অ্যালেক্সকে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তবে অ্যালেক্সের পরেও আরও একজনের বিদায় বাকি, মনামী, দীপেন্দু, সায়ক ও নিরঞ্জনের মধ্যে কে এবার বাড়ি ছাড়বেন, এখন সেটাই দেখার।
