জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“রান্না শেখার অনুষ্ঠানে ভাঁড়ামি কেন?” “দুনিয়াতে কি মেয়ের অভাব পড়েছিল যে একজন পুরুষকে এভাবে সঙ সাজিয়ে আনতে হলো?” বিশ্বনাথ বসুর সঞ্চালনায় ‘রান্নাঘর’-এর নতুন অধ্যায় ঘিরে ক্ষো’ভে ফুঁসছেন একাংশ দর্শক! দীর্ঘদিনের প্রিয় অনুষ্ঠান নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন?

বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম দীর্ঘদিনের জনপ্রিয় রান্নার অনুষ্ঠান ‘রান্নাঘর’ (Rannaghor)। বহু বছর ধরে এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অসংখ্য দর্শক নতুন নতুন রান্না শিখেছেন। সময়ের সঙ্গে বদলেছে সঞ্চালক, বদলেছে উপস্থাপনার ধরন, কিন্তু অনুষ্ঠানটির মূল আকর্ষণ ছিল রান্না শেখানো। সম্প্রতি এই অনুষ্ঠানের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে অভিনেতা ‘বিশ্বনাথ বসু’কে (Biswanath Basu) সঞ্চালকের আসনে নিয়ে। তাঁর নতুন লুক এবং উপস্থাপনার ধরণ নিয়ে শুরু থেকেই আলোচনা চলছে। তবে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় একাংশ দর্শকের প্রতিক্রিয়া দেখে স্পষ্ট, এই পরিবর্তন সবাই ভালোভাবে গ্রহণ করতে পারেননি। বিশেষ করে উপস্থাপনার ধরন নিয়েই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।

নতুন পর্ব দেখার পর বহু দর্শক লিখেছেন, তাঁরা এমন পরিবর্তনের জন্য একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না। একজনের মন্তব্য, “দুনিয়াতে কি বেডি মাইনষের অভাব পরছিল যে একটা বেডারে এভাবে সঙ সাজিয়ে মেয়ে বানিয়েছে জি বাংলা?” এই মন্তব্যের সঙ্গে সহমত জানিয়ে আরও অনেকে বলেছেন, একটি পারিবারিক এবং শিক্ষামূলক অনুষ্ঠানে এমন উপস্থাপনা তাঁদের কাছে অস্বস্তিকর লেগেছে। তাঁদের মতে, দর্শকদের আকৃষ্ট করার জন্য নতুনত্ব আনা যেতে পারে, কিন্তু সেই পরিবর্তন যেন অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্যকে আড়াল না করে। এই কারণেই নতুন ফরম্যাট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।

আরও একাংশ দর্শক অতীতের ‘রান্নাঘর’-এর স্মৃতি টেনে এনে আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁদের কথায়, “এত বছর ধরে খাতা কলম নিয়ে বসে নতুন রান্না শিখেছি, আজ মনে হচ্ছে রান্নার বদলে ভাঁড়ামিই বেশি দেখানো হচ্ছে।” অনেকেই লিখেছেন, এই অনুষ্ঠান শুধু বিনোদনের জন্য নয়, বরং নতুন নতুন পদ শেখার একটি বড় মাধ্যম ছিল। পরিবারের জন্য কিংবা অতিথিদের আপ্যায়নে এই অনুষ্ঠান থেকে শেখা রেসিপি কাজে লাগিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন অনেকে। তাই বর্তমান উপস্থাপনার ধরণ তাঁদের কাছে আগের সেই পরিচিত পরিবেশ থেকে অনেকটাই আলাদা বলে মনে হয়েছে।

বিশ্বনাথ বসুকে নিয়েও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। অনেকেই স্পষ্ট জানিয়েছেন, অভিনেতা হিসেবে তাঁকে তাঁরা বরাবরই পছন্দ করেন এবং তাঁর অভিনয় নিয়ে কোনও অভিযোগ নেই। তবে তাঁদের বক্তব্য, বড় মাপের বিনোদনের অনুষ্ঠানে যেভাবে তিনি হাস্যরসাত্মক উপস্থাপনা করেন, সেটি হয়তো সেখানে মানানসই। কিন্তু ‘রান্নাঘর’-এর মতো একটি অনুষ্ঠান, যেখানে মূল আকর্ষণ রান্না শেখানো, সেখানে অতিরিক্ত নাটকীয়তা বা কৌতুকের ব্যবহার তাঁদের কাছে গ্রহণযোগ্য লাগছে না। ফলে সমালোচনার বড় অংশটাই অনুষ্ঠান তৈরির ভাবনা এবং উপস্থাপনার ধরনকে কেন্দ্র করে তৈরি হয়েছে।

শুধু এই অনুষ্ঠান নয়, এই প্রসঙ্গে জি বাংলার সাম্প্রতিক কনটেন্ট নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন একাংশ দর্শক। তাঁদের অভিযোগ, চ্যানেলটি ধীরে ধীরে ভালো ও শিক্ষামূলক বিষয়ের পরিবর্তে অতিরিক্ত বিনোদনকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করে লিখেছেন, এই ধারা চলতে থাকলে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত দর্শকদের আগ্রহ কমে যেতে পারে। যদিও অন্যদিকে অনেকেই মনে করছেন, নতুন অধ্যায় শুরু হওয়ায় সময়ের সঙ্গে অনুষ্ঠানটি আরও বদলাতে পারে। তবে আপাতত ‘রান্নাঘর’-এর এই নতুন রূপকে ঘিরে দর্শকদের ইতিবাচক এবং নেতিবাচক দুই ধরনের প্রতিক্রিয়াই সামাজিক মাধ্যমে সমানভাবে নজর কেড়েছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page