বিনোদন জগতে তারকাদের পেশাগত জীবন যতটা আলোচনায় থাকে, ঠিক ততটাই দর্শকের আগ্রহ থাকে তাঁদের ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে। বিশেষ করে তারকাদের পরিবার, বাবা-মায়ের সঙ্গে সম্পর্ক, শৈশবের স্মৃতি—এই সবকিছুই যেন দর্শকের কাছে আলাদা আবেগের জায়গা তৈরি করে। অনেক সময় পর্দার ঝলমলে হাসির আড়ালে লুকিয়ে থাকে বাস্তব জীবনের টানাপোড়েন, যা জানার আগ্রহ কখনওই কমে না।
এই মুহূর্তে বাংলা টেলিভিশনের পরিচিত মুখ অভিনেতা বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁর ব্যক্তিত্ব ও চিন্তাভাবনাও দর্শকের কাছে বেশ প্রশংসিত। বর্তমানে তিনি জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘তারে ধরি ধরি মনে করি’-তে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করছেন। ছোট পর্দার পাশাপাশি বড় পর্দাতেও তাঁর উপস্থিতি নজর কেড়েছে।
টেলিভিশনে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগেও বিশ্বরূপের কেরিয়ার বেশ সমৃদ্ধ। অতীতে জি বাংলার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘গৌরী এলো’-তে নায়ক হিসেবে কাজ করে দর্শকের মন জয় করেছিলেন তিনি। পাশাপাশি রুক্মিণী মৈত্রের সঙ্গে ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ সিনেমায় তাঁর অভিনয়ও আলাদা করে প্রশংসা পেয়েছে। নিজস্ব অভিনয় দক্ষতায় তিনি তৈরি করেছেন নিজের জায়গা।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের বাবার সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে অকপটে কথা বলেছেন বিশ্বরূপ। তিনি জানান, তাঁর ও বাবার স্বভাব অনেকটাই ঘোয়ার, যা অনেক সময় সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি করে। এই সম্পর্ককে তিনি তুলনা করেছেন উত্তম কুমার ও ছবি বিশ্বাসের অন-স্ক্রিন সম্পর্কের সঙ্গে। তবে মায়ের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কই নাকি তাঁকে ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে। মাঝেমধ্যে বাবার সঙ্গে ঝামেল তাঁর মা ফেঁসে যান সেই কথা স্বীকার করতেও দ্বিধা করেননি তিনি।
আরও পড়ুনঃ জীতু কমলের ব্যস্ততায় প্রায় এক মাস কাজ বন্ধ! নায়কের সময়ের অভাবে ঝুঁকির মুখে ‘এরাও মানুষ’! অফিশিয়াল শিডিউল মিলছে না, তবে কী বাদ পড়তে চলেছেন অভিনেতা?
অভিনেতার মতে, একটা বয়সের পর আমাদের মনে হয় বাবা-মা আমাদের বোঝেন না। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, তাঁদের বলা প্রতিটি কথার পিছনে একটাই উদ্দেশ্য—সন্তানের মঙ্গল। পৃথিবীর এই সম্পর্কগুলিতে কোনও স্বার্থ থাকে না, থাকে শুধু নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। এই ভাবনাই তাঁর জীবনের বড় শিক্ষা বলে মনে করেন অভিনেতা।
