জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“যেন সন্তানের মৃ’ত্যু…কোনও উত্তরই পাচ্ছিলাম না!” তীব্র মানসিক আঘাত থেকে হঠাৎ হৃদ্‌রো’গে আক্রা’ন্ত! সুস্থ হতেই, সেখান থেকে ফেরার লড়াই নিয়ে মুখ খুললেন অনুরাগ কাশ্যপ!

একটি ছবির মুক্তি আটকে যাওয়ার যন্ত্রণা কতটা গভীর হতে পারে, তা নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা দিয়ে জানালেন পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ। ওটিটি মঞ্চ থেকে অনুমতি না মেলায় তাঁর বহুদিনের স্বপ্ন থমকে যায়। মানসিক আঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে তিনি শারীরিকভাবেও ভেঙে পড়েন। সেই সময়ের অনুভূতিকে তিনি তুলনা করেছেন এক গভীর ব্যক্তিগত ক্ষতির সঙ্গে, যা তাঁকে ভিতর থেকে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

বিতর্কিত রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়ার পরে তাণ্ডব ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। এই সিরিজে অভিনয় করেছিলেন সইফ আলি খান এবং জ়িশান আয়ুব। সেই ঘটনার প্রভাব পড়ে আরও কিছু প্রজেক্টের উপরও। আটকে যায় অনুরাগের একটি উচ্চাভিলাষী ছবি, যা তৈরি হচ্ছিল সুকেতু মেহতা এর বিখ্যাত বই ম্যাক্সিমাম সিটি অবলম্বনে। বিশাল চিত্রনাট্য তৈরি করেও এগোতে না পারার হতাশা তাঁকে গভীরভাবে আঘাত করে।

পরিচালক জানান, দীর্ঘ সময় কোনও উত্তর না পেয়ে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ছবির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত বুঝতে পেরে তিনি যেন শোকের মধ্যে ডুবে যান। নিজের কাজের সঙ্গে গভীর আবেগের বন্ধন তৈরি হয় বলেই এই ধাক্কা সহ্য করা কঠিন হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, একটি ছবি তৈরি করা যেন সন্তানের মতো, আর সেটি থেমে যাওয়া যেন অপূরণীয় ক্ষতির মতো অনুভূত হয়।

এই মানসিক চাপ শরীরেও গুরুতর প্রভাব ফেলে। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হন তিনি, নিয়মিত ওষুধ খেতে শুরু করেন। শারীরিক দুর্বলতার সঙ্গে যুক্ত হয় মানসিক অবসাদ। জীবনযাত্রার উপরও তার প্রভাব পড়ে, অনিয়ম বাড়তে থাকে, স্বাস্থ্য আরও খারাপ হতে থাকে। একসময় পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে ওঠে যে চিকিৎসক ও মনোবিদের সাহায্য নিতে বাধ্য হন তিনি।

এই অন্ধকার সময়েই তাঁর কাছে পৌঁছায় নতুন সুযোগ। পরিচালক জ়োয়া আখতার তাঁকে নিজের সিরিজ মেড ইন হেভেন এ অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। তখন প্রায় শয্যাশায়ী অবস্থা, হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতেন তিনি। তবু সেই ডাকই যেন নতুন করে বাঁচার শক্তি দেয়। ঘর থেকে বেরিয়ে আবার কাজে ফেরার সাহস পান, শুরু হয় ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার পথচলা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page