জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

১১০ দিন এনআইসিইউ একরত্তি, বদলে গিয়েছিল গায়ের রং! মেয়ের নীলচে শরীর দেখে অসাড় প্রিয়াঙ্কা, মন্ত্র জপে সুস্থ করেছিলেন মালতীকে! অগ্নিকুণ্ডের সামনে ৯ ঘণ্টা, কোন সেই মন্ত্রে ফিরল জীবনের আলো?

বলিউড থেকে হলিউডে নিজের জায়গা শক্ত করে নেওয়া প্রিয়াঙ্কা চোপড়া আজ আন্তর্জাতিক তারকা। বর্তমানে তাঁর নতুন ছবি The Bluff মুক্তির অপেক্ষায়, আর বিশ্বজুড়ে ভক্তরা তাকিয়ে আছেন তাঁর পর্দার জাদুর দিকে। কিন্তু ক্যামেরার ঝলকানির আড়ালে একসময় তিনি পেরিয়েছেন ভয়াবহ মানসিক ঝড়। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী খুলে বলেছেন জীবনের সেই কঠিন অধ্যায়ের কথা, যখন ব্যক্তিগত লড়াই তাঁকে ভিতর থেকে নড়িয়ে দিয়েছিল। বাইরের দুনিয়ায় তিনি ছিলেন দৃঢ়, কিন্তু অন্তরে তখন চলছিল গভীর অস্থিরতা আর অজানা আশঙ্কা।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে সারোগেসির মাধ্যমে কন্যা মালতীর জন্ম হয়। কিন্তু আনন্দের সেই মুহূর্ত খুব দ্রুতই রূপ নেয় উৎকণ্ঠায়। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই, মাত্র সাতাশ সপ্তাহে জন্ম নেয় ছোট্ট মালতী। চিকিৎসকরা খবর দেওয়ার পরই যেন ভেঙে পড়েছিলেন প্রিয়াঙ্কা। তিনি স্মরণ করেন, সেই দিন বাড়ির অগ্নিকুণ্ডের সামনে প্রায় নয় ঘণ্টা বসে কাটিয়েছিলেন। বারবার মহামৃত্যুঞ্জয় মন্ত্র, গায়ত্রী মন্ত্র এবং ওম নমঃ শিবায় জপ করে শান্তি খুঁজছিলেন। তাঁর কথায়, ওই মন্ত্রই ছিল সেই অন্ধকার সময়ে একমাত্র ভরসা।

কোভিডের ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই জন্ম হয়েছিল মালতীর। জন্মের পর তাকে রাখা হয় এনআইসিইউতে, আর প্রিয়াঙ্কার জীবনের শুরু হয় দীর্ঘ অপেক্ষা আর প্রার্থনার দিনগোনা। তিনি বলেন, প্রথমবার মেয়েকে দেখে তাঁর শরীর নীলচে হয়ে গিয়েছিল, ছোট্ট আঙুলগুলো মুখের তুলনায় অস্বাভাবিক বড় মনে হয়েছিল। মুহূর্তের জন্য তিনি সম্পূর্ণ অসাড় হয়ে পড়েন। কী করবেন, কীভাবে নিজেকে সামলাবেন, কিছুই বুঝতে পারছিলেন না। সেই অসহায় অনুভূতি আজও তাঁর কণ্ঠে কাঁপন তোলে।

হাসপাতালের নিয়ম অনুযায়ী একবারে মাত্র একজনকে ঢুকতে দেওয়া হত। তাই পালা করে মেয়ের পাশে সময় কাটাতেন প্রিয়াঙ্কা ও নিক। ছোট্ট মালতীর প্রথম কান্না তাঁর কানে বিড়ালের মতো শোনায়, যা আজও তাঁর মনে গভীরভাবে গেঁথে আছে। নিক গিটারে গান বাজিয়ে মেয়েকে শোনাতেন, আর প্রিয়াঙ্কা একটি ছোট আইপডে মন্ত্র চালিয়ে রাখতেন সারাক্ষণ। প্রায় একশো দশ দিন হাসপাতালে কাটানোর পর অবশেষে ঘরে ফেরে তাঁদের মেয়ে, আর সেই দিনটিই ছিল তাঁদের জীবনের সবচেয়ে স্বস্তির মুহূর্ত।

এই পুরো সময়টা ছিল মানসিকভাবে অত্যন্ত ক্লান্তিকর। এমনকি প্রথমদিকে মেয়ের জন্মের খবর প্রকাশ্যে আনতেও চাননি প্রিয়াঙ্কা। তিনি প্রস্তুত ছিলেন না বাইরের কৌতূহল আর আলোচনার জন্য। শাশুড়ি শ্বশুর এলেও তাঁদের বেশিরভাগ সময় কেটেছে হাসপাতালের করিডোরে। প্রতিদিনের প্রার্থনা, অনিশ্চয়তা আর আশার দোলাচলের মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে শক্ত হয়েছেন তিনি। আজ মালতী সুস্থ, আর সেই কঠিন সময়ের স্মৃতি প্রিয়াঙ্কার কাছে যেন বিশ্বাস আর মাতৃত্বের এক গভীর পরীক্ষার গল্প।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page