গানের মঞ্চে তাঁর কণ্ঠে মুগ্ধ হয়েছেন অগণিত শ্রোতা। এ বার নিজের অস্ত্রোপচারের সময়ও গান গেয়ে চমকে দিলেন সোনু নিগম। রবিবার সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেন গায়ক। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অপারেশন টেবিলে শুয়ে রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকেরা যখন তাঁর অস্ত্রোপচারে ব্যস্ত, সেই সময়ই সোনু গাইছেন প্রয়াত কিংবদন্তি গায়ক মহম্মদ রফির জনপ্রিয় গান ‘সুহানি রাত ঢল চুকি, না জানে তুম কব আয়োগে’।
১৯৪৯ সালের ছবি ‘দুলারি’র এই গানটি গাওয়ার সময় সোনুর পাশে ছিলেন চিকিৎসক এবং মেডিক্যাল টিমের সদস্যেরা। শারীরিক অস্বস্তি ও যন্ত্রণার মধ্যেও গান গাওয়া থেকে নিজেকে বিরত রাখেননি তিনি। বরং গানকেই যেন নিজের মন ভালো রাখার উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। ভিডিয়োটি প্রকাশ্যে আসার পর সোনুর এই কাণ্ড নিয়ে অনুরাগীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই তাঁর দ্রুত সুস্থতার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
ভিডিয়োটি শেয়ার করে সোনু জানিয়েছেন, অস্ত্রোপচারের সময় তাঁর প্রিয় চিকিৎসক এবং তাঁর পুরো টিমের জন্যই এই হঠাৎ গান গাওয়া। যন্ত্রণার মধ্যেও গান গাইতে পারার আনন্দের কথাও জানিয়েছেন তিনি। ভিডিয়ো দেখে অনুরাগীদের একাংশ সোনুর সঙ্গীতের প্রতি ভালোবাসার প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে অস্ত্রোপচারের মতো পরিস্থিতিতে তাঁকে দেখে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার প্রার্থনা করেছেন।
এর আগে জুন মাসে নিজের শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়েছিলেন সোনু নিগম। সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা একটি ভিডিয়োয় তাঁর কাঁধে ব্যান্ডেজের মতো কিছু দেখা গিয়েছিল। সেই সময় তিনি জানিয়েছিলেন, স্নায়ুর সমস্যার কারণে তীব্র যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। এমনকি সামান্য নড়াচড়াতেও তাঁর যথেষ্ট কষ্ট হচ্ছিল। সমস্যার কারণ জানতে এমআরআই এবং সিটি স্ক্যান-সহ বেশ কিছু পরীক্ষা করানোর কথাও জানিয়েছিলেন গায়ক।
আরও পড়ুনঃ “মায়ের শেষ সম্বল ওই সোনার দুল বিক্রি করে আমাকে রবীন্দ্রভারতীতে পড়াশোনা করতে পাঠিয়েছিল, সেইদিন মাকে কথা দিয়েছিলাম…” বর্ধমান থেকে কলকাতা, চরম দারিদ্রতা থেকে কঠিন লড়াই পেরিয়ে কীভাবে ‘বাঘিনী’ হয়ে উঠলেন সম্পিতা প্রামাণিক?
সাম্প্রতিক ভিডিয়ো দেখে মনে করা হচ্ছে, সেই শারীরিক সমস্যার চিকিৎসারই অংশ হিসেবে এবার অস্ত্রোপচার হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্রোপচার করা হয়েছে, সে বিষয়ে এখনও বিস্তারিত জানাননি সোনু। বর্তমানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি। অপারেশন থিয়েটার থেকেই গান গাওয়ার ভিডিয়ো সামনে আসার পর অনুরাগীরা কিছুটা আশ্বস্ত হলেও তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
