ছোটপর্দার জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’ (Jowar Bhanta) এখন শুধু গল্পের জন্য নয়, কলাকুশলীদের নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের কারণেও প্রশংসা কুড়োচ্ছে। সম্প্রতি ধারাবাহিকের মুখ্য অভিনেত্রী আরাত্রিকা মাইতির শারীরিক অসুস্থতার মধ্যেও শুটিং চালিয়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছিল। তাঁর গলায় সমস্যা থাকলেও তিনি নিয়মিত কাজ করে গিয়েছেন। এবার জানা গেল, ধারাবাহিকের নায়ক অভিষেক বীর শর্মাও গুরুতর শারীরিক সমস্যার মধ্যেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন। পায়ে ফ্র্যাকচার নিয়েও তিনি টানা শুটিং করেছেন বলে জানিয়েছেন সহ-অভিনেত্রী চাঁদনি সাহা। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই দর্শকদের মধ্যে অভিনেতাদের প্রতি শ্রদ্ধা আরও বেড়েছে।
ধারাবাহিকের টিমের এই পরিশ্রম এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চাঁদনির একটি পোস্ট থেকেই সামনে এসেছে এই অজানা তথ্য। সোশ্যাল মিডিয়ায় দীর্ঘ পোস্ট করে চাঁদনি সাহা তাঁদের গোটা টিমের কাজের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমাদের ‘জোয়ার ভাঁটা’ টিমের সবাই সত্যিই খুব জান-প্রাণ দিয়ে কাজ করে।” এরপর আরাত্রিকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেদিন দেখলাম আরাত্রিকাকে (উজি) ওর ভাঙা গলা নিয়ে কোনো কিছু না ভেবেই অবলীলায় নিজের পার্টটা করে যেতে।” অভিনেত্রীর মতে, শারীরিক অসুবিধা থাকা সত্ত্বেও আরাত্রিকা নিজের দায়িত্ব থেকে এক মুহূর্তের জন্যও সরে দাঁড়াননি।
ধারাবাহিকের গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্যগুলিতে তিনি সমান মনোযোগ দিয়ে অভিনয় করেছেন। এই নিষ্ঠা তাঁকে মুগ্ধ করেছে বলেও জানিয়েছেন চাঁদনি। তাঁর মতে, কাজের প্রতি এমন দায়বদ্ধতা সহজে দেখা যায় না। তবে শুধু আরাত্রিকাই নন, অভিষেক বীর শর্মার কাজের ধরণও তাঁকে সমানভাবে বিস্মিত করেছে। চাঁদনি লিখেছেন, “কিন্তু আমার ভাই, আমাদের হিরোও (অভিষেক) কিন্তু কম যায়নি! পায়ে ফ্র্যাকচার নিয়ে ও টানা পার্ট করে গেল।” তিনি আরও জানান, “কোনো রকম ব্যথার প্রকাশ না দেখিয়ে ফ্লোরে একটার পর একটা শট ঠিক দিয়ে গেল।” শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও অভিষেক নিজের দৃশ্যগুলির শুটিং সম্পূর্ণ করেছেন।
এমনকি যেসব দৃশ্যে বেশি পরিশ্রমের প্রয়োজন ছিল, সেগুলিও তিনি একইভাবে করেছেন। সহকর্মীদের মতে, তাঁর এই পেশাদার মানসিকতা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। চাঁদনি আরও লেখেন, “এমনকি মারপিটের মতো কঠিন দৃশ্যগুলোও ও পায়ের ওই অবস্থাতেই অবলীলায় করে দিল!” এই মন্তব্য থেকেই স্পষ্ট, ফ্র্যাকচার থাকা সত্ত্বেও অভিষেক কোনও বিশেষ সুবিধা নেননি। ধারাবাহিকের গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সমস্ত দৃশ্যেই তিনি অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে আরাত্রিকাও ডাক্তারের পরামর্শ উপেক্ষা না করেও নিজের দায়িত্ব পালন করার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ নায়ক নয়, খলনায়কও নয়! “এরকম ধূসর চরিত্র আর জটিল সম্পর্কের রসায়ন বাংলা সিরিয়ালে খুব কমই দেখা যায়, এই জন্যই ‘জোয়ার ভাঁটা’ আলাদা!” জিৎ-নিশার জটিল সমীকরণে মুগ্ধ দর্শক, সংলাপ লেখককে কুর্নিশ নেটপাড়ার!
সাম্প্রতিক সময়ে ধারাবাহিকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পর্ব সম্প্রচারিত হচ্ছে। ফলে শুটিংয়ের চাপও অনেক বেশি। সেই পরিস্থিতিতে দুই মুখ্য অভিনেতার এই প্রচেষ্টা টিমের অন্য সদস্যদেরও অনুপ্রাণিত করেছে। আরাত্রিকা ও অভিষেকের এই লড়াই দেখে আবেগপ্রবণ হয়ে চাঁদনি শেষে লিখেছেন, “তোমাদের দুজনের প্রতিই আমার মনে অসম্ভব সম্মান এবং শ্রদ্ধা তৈরি হয়ে গেল।” উল্লেখ্য, সম্প্রতি ‘জোয়ার ভাঁটা’ প্রথমবারের জন্য বেঙ্গল টপার হয়েছে। সেই সাফল্য ধরে রাখার লক্ষ্যেই টিমের সকল সদস্য নিরলস পরিশ্রম করছেন। নিয়মিত সম্প্রচারের চাপে শুটিং বন্ধ রাখা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। তাই অসুস্থতা বা চোট থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় শিল্পীদের কাজ চালিয়ে যেতে হয়। দুই মুখ্য অভিনেতার এই নিষ্ঠা ও পরিশ্রমের গল্প প্রকাশ্যে আসার পর দর্শকদের কাছ থেকেও প্রশংসার ঢেউ উঠেছে।
