বিগ বস বাংলার ঘরে দীপেন্দু বিশ্বাসের বিদায়ের পর পরিস্থিতি আচমকাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুর্নিবার সাহার আচরণ নিয়েই এবার নতুন করে সরব হয়েছেন দর্শকদের একাংশ। তাঁদের দাবি, এতদিন তুলনামূলকভাবে চুপচাপ থাকলেও গতকালের পর্বে দুর্নিবারের অন্য একটি রূপ প্রকাশ্যে এসেছে। ঝিলম গুপ্তকে ঘিরে তাঁর অবস্থান এবং ঘরের অন্য প্রতিযোগীদের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হওয়া নজর কেড়েছে দর্শকদের। বিশেষ করে তাঁর রাগ এবং আগ্রাসী আচরণ দেখে অনেকে অস্বস্তি প্রকাশ করেছেন। এক দর্শকের বক্তব্য, সেই সময় দুর্নিবারকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন তিনি রীতিমতো ফুঁসছেন। এই আচরণ দেখেই তাঁর সঙ্গে এতদিন একই বাড়িতে থাকা কতটা নিরাপদ, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন ওই দর্শক।
দর্শকের সেই প্রতিক্রিয়ায় দুর্নিবারের আচরণ নিয়ে উদ্বেগের সুর আরও স্পষ্ট হয়েছে। তাঁর দাবি, গতকাল অভিনেতার চোখমুখ এবং আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল তিনি যেন সবাইকে মেরে ফেলবেন। এমন পরিস্থিতিতে একজন প্রতিযোগীর রাগ কতদূর যেতে পারে, তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। দর্শকের মতে, জাতীয় টেলিভিশনের একটি খেলার অনুষ্ঠানে কেউ যদি এতটা হতাশা এবং আগ্রাসন প্রকাশ করেন, তাহলে বিষয়টি যথেষ্ট চিন্তার। তাঁর কথায়, এতদিন দুর্নিবার নিজের অনেকটাই গুটিয়ে রেখেছিলেন। কিন্তু গতকালের ঘটনায় সেই চুপ করে থাকা মানুষটির আড়ালে থাকা রাগের কিছুটা প্রকাশ্যে এসেছে বলেই মনে করছেন তিনি। সেই কারণেই প্রয়োজনে দুর্নিবার কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠতে পারেন, তা নিয়েও আশঙ্কা জানিয়েছেন ওই দর্শক।
এরপরই নিজের মন্তব্যে ওই দর্শক দুর্নিবারকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “চোখ লাল করে সারা বাড়ি ঘুরে বেড়ানো ধূর্ত শয়তান একটা!” এরপর অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, গতকালের পর্বে দুর্নিবারের এভাবে ফুঁসে ওঠা সবাই দেখেছেন কি না। তাঁর কথায়, “একটা মানসিক ভারসাম্যহীন শয়তানকে এনেছেন আপনারা বুঝতে পারছেন?” অর্থাৎ দুর্নিবারের আচরণকে স্বাভাবিক রাগের প্রকাশ হিসেবে না দেখে অত্যন্ত চরম প্রতিক্রিয়া হিসেবেই দেখেছেন ওই দর্শক। তবে এগুলি সম্পূর্ণভাবেই ওই দর্শকের ব্যক্তিগত মন্তব্য এবং দুর্নিবারের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কে এর মাধ্যমে কোনও নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না। বিগ বসের ঘরের একটি উত্তপ্ত মুহূর্তকে কেন্দ্র করেই এমন মন্তব্য করেছেন তিনি।
দুর্নিবারকে নিয়ে ওই দর্শকের আশঙ্কার আরও একটি কারণ তাঁর কথিত হতাশা এবং আগ্রাসন। দর্শকের প্রশ্ন, জাতীয় টেলিভিশনের একটি খেলার অনুষ্ঠানে একজন প্রতিযোগী যদি এতটা রাগ এবং আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখাতে পারেন, তাহলে বাড়ির বাইরে তাঁর আচরণ কেমন হতে পারে। এমনকী নিজের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তিনি কীভাবে ব্যবহার করেন, তা ভেবেও নাকি শিউরে উঠছেন ওই দর্শক। তবে পরিবারের সঙ্গে দুর্নিবারের আচরণ সম্পর্কে এই মন্তব্যের কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ দর্শক দেননি। মূলত বিগ বসের ঘরে দেখা তাঁর আচরণ থেকেই এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি। এদিকে দুর্নিবারের সঙ্গে ঝিলমের বন্ধুত্ব নিয়েও সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। তাই দীপেন্দুর বিদায়ের পর তৈরি হওয়া এই উত্তেজনা সেই পুরনো সম্পর্কের সমীকরণ এবং দুর্নিবারের আচরণকে আবারও দর্শকদের আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।
আরও পড়ুনঃ “নাচ এখন আর শুধু নেশা নয়, বেঁচে থাকার ওষুধ”, আচমকা স্বামীর মৃ’ত্যুতে ভেঙে পড়েছিলেন মালবিকা সেন, সেই কঠিন সময় থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে কীভাবে হয়ে উঠল নাচ তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি? ১১ বছর পর বদলে যাওয়া জীবন নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেত্রী?
এর আগে রাজবীরের সঙ্গে দুর্নিবারের একাধিকবার সংঘাত হয়েছে এবং তাঁকে ‘গুন্ডা’ ও ‘জানোয়ার’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন তিনি। সৃজলাকে ঘিরেও তাঁর সঙ্গে রাজবীরের বিরোধের সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। অন্যদিকে ঝিলমকে ঘর থেকে বের করার চেষ্টা এবং তাঁকে নিয়ে দুর্নিবারের অবস্থান নিয়েও দর্শকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। এবার দীপেন্দুর বিদায়ের পর তাঁর আচরণ সেই বিতর্ককে আরও বাড়িয়ে দিল। দর্শকদের একাংশ মনে করছেন, এতদিন দুর্নিবারের যে দিকটি খুব একটা প্রকাশ্যে আসেনি, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলিতে সেটিই ধীরে ধীরে সামনে আসছে। তবে একজন প্রতিযোগীর একটি বা কয়েকটি উত্তপ্ত মুহূর্তের আচরণ থেকেই তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্ব বা বাস্তব জীবনের ব্যবহার সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। বিগ বসের ঘরে আগামী দিনে দুর্নিবারের আচরণ কোন দিকে যায় এবং তাঁর সঙ্গে অন্য প্রতিযোগীদের সম্পর্ক কীভাবে বদলায়, এখন সেদিকেই নজর দর্শকদের।
