শনিবার রাজ্যে নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে বাড়ছে উত্তেজনা। এই প্রথম বাংলার ক্ষমতার আসনে বসতে চলেছেন কোনও বিজেপি নেতা, তাই গোটা অনুষ্ঠানকে ঐতিহাসিক করে তুলতে বড়সড় প্রস্তুতি নিচ্ছে গেরুয়া শিবির। জানা গিয়েছে, ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডেই হতে পারে শপথ অনুষ্ঠান। সেখানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এবং বিজেপি শাসিত ২১টি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে পারেন। শুধু রাজনৈতিক মহল নয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রের বহু পরিচিত মুখকেও আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতিনিধিদেরও ডাকা হতে পারে। ফলে অনুষ্ঠানটি শুধু রাজনৈতিক নয়, সামাজিকভাবেও বড় বার্তা বহন করতে চলেছে।
রীতি মেনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও আমন্ত্রণ জানানো হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে। একই সঙ্গে আমন্ত্রণ পেতে পারেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিরাও। রাজনৈতিক সৌজন্যের এই ছবি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বিজেপি এবারের নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই বাঙালিয়ানাকে সামনে রেখেছিল। সেই ধারাই বজায় রাখতে শপথ অনুষ্ঠানেও রাখা হচ্ছে রবীন্দ্রনাথের আবহ। কারণ, বিজেপি সরকার শপথ নিতে চলেছে রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিন। সূত্রের দাবি, মূল মঞ্চে শপথ শুরুর আগে একটি বিশেষ রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনুষ্ঠান হতে পারে। মঞ্চের সামনে বিশিষ্ট অতিথিদের বসার ব্যবস্থা থাকবে এবং ভিভিআইপি অতিথিরা থাকবেন মূল মঞ্চেই।
এই সাংস্কৃতিক পর্বে জাতীয় পুরস্কারজয়ী গায়িকা ইমন চক্রবর্তীর গান গাওয়ার সম্ভাবনা নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনা। শোনা যাচ্ছে, তিনি রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশন করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও সরকারি ঘোষণা হয়নি। তবে ইমনকে ঘিরে রাজনৈতিক তাৎপর্য তৈরি হয়েছে অন্য কারণেও। কারণ, আগের তৃণমূল সরকারের সময় তাঁকে বহু সরকারি অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত দিয়েই তিনি বঙ্গবিভূষণ সম্মান পেয়েছিলেন। শুধু তাই নয়, তৃণমূল সরকারের হয়ে ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ নামের গান গেয়েও তিনি আলোচনায় এসেছিলেন। এবার বিজেপি সরকারের শপথমঞ্চে তাঁর সম্ভাব্য উপস্থিতি নতুন করে রাজনৈতিক জল্পনা বাড়িয়েছে।
ইমনকে ঘিরে অতীতেও বহু বিতর্ক হয়েছে। ‘উন্নয়নের পাঁচালী’ গান প্রকাশের পর সমাজমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাঁকে। ‘চটিচাটা’ মন্তব্যও ধেয়ে এসেছিল তাঁর দিকে। সেই সময় ক্ষুব্ধ হয়ে কিছুদিনের জন্য সমাজমাধ্যম ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন গায়িকা। পরে আবার ফিরে এসে তিনি জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথাতেই তিনি ফিরেছেন এবং “উনার কথা আমি ফেলতে পারব না কোনওদিন” বলেও মন্তব্য করেছিলেন। ভোটের আগে ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনে প্রচারেও দেখা গিয়েছিল তাঁকে। মুখে সরাসরি কিছু না বললেও, তিনি পরোক্ষভাবে তৃণমূলের পক্ষেই ছিলেন বলে অনেকের মত ছিল।
আরও পড়ুনঃ খ্যাতি সামলে দারুন ফল! মাধ্যমিকে দারুণ রেজাল্ট ‘সারেগামাপা’ খ্যাত আরাত্রিকার, গান আর পড়াশোনা দুটোই সমান গুরুত্ব পাচ্ছে গায়িকার জীবনে
এক সময় জল্পনা উঠেছিল, ইমন চক্রবর্তী বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। যদিও প্রার্থী তালিকা প্রকাশ হতেই সেই জল্পনার ইতি ঘটে। এখন নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে বিজেপির সরকার গঠনের মঞ্চে তাঁকে দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে। জানা গিয়েছে, শনিবার মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী-সহ কয়েকজন মন্ত্রী শপথ নিতে পারেন। মন্ত্রিসভার তালিকা চূড়ান্ত করার আগে অমিত শাহ আরএসএস নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেছেন বলেও সূত্রের খবর। কে মন্ত্রী হবেন, কারা ব্রিগেডের শপথমঞ্চে জায়গা পাবেন, তা নিয়ে বিজেপির নবনির্বাচিত বিধায়কদের মধ্যেও টানটান উত্তেজনা রয়েছে। সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই অনুষ্ঠানে ইমনের সম্ভাব্য গান এখন আলাদা কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু।
