রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর একের পর এক সামনে আসছে বহু পুরনো ক্ষোভ ও অভিমান। সেই আবহেই প্রয়াত অভিনেতা তাপস পালের স্ত্রী নন্দিনী পাল প্রকাশ্যে আনলেন নিজের দীর্ঘদিনের অভিযোগ। তাঁর দাবি, স্বামী তাপস পাল দলকে সব কিছু দিয়ে পাশে দাঁড়ালেও কঠিন সময়ে তিনি দলের কাউকে পাননি। নন্দিনী বলেন, “তাপসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন দিদি, ওকে ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন, ক্ষমা করব না।” তিনি আরও জানান, এই পরিবর্তন অনেক আগেই দরকার ছিল। তাঁর মতে, এতদিন রাজ্য সঠিকভাবে চালানো হয়নি। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পরে তিনি প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দেন।
নন্দিনীর কথায়, তাপস পাল ১৯৯৭ সাল থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে ছিলেন। তখনও তৃণমূল কংগ্রেস গঠিত হয়নি। তিনি বলেন, “তাপস ধান্ধাবাজ মানুষ ছিল না। ওর একটাই সমস্যা ছিল, কোনও কিছু মাথা দিয়ে চালনা করত না, সবটাই অন্তর দিয়ে ভাবত। তাই মাসুল গুনতে হয়েছে।” নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে যখন রাজ্যে বামফ্রন্টের প্রভাব প্রবল, তখন টলিউডের বহু তারকা মমতার পাশে ছিলেন না বলেও দাবি করেন নন্দিনী। তাঁর কথায়, সেই সময় বহুবার তাপস পালের সঙ্গে দেখা করতে তাঁদের বাড়িতে আসতেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মানুষের জন্য ভাবতেন বলেই তাপস রাজনীতিতে এসেছিলেন বলে জানান তিনি।
তাপস পালের রাজনৈতিক জীবনের শুরুর সময়টাও সহজ ছিল না বলে দাবি নন্দিনীর। তিনি বলেন, “দিদির অনেক অনুরোধে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিল। তখন বামফ্রন্ট সরকার। সেই সময়ে ওর যত ছবি বেরোত হলে, তা চলতে দেওয়া হত না। অনেক সমস্যায় পড়তে হয়েছে।” নন্দিনীর দাবি, এত বাধার মধ্যেও মানুষ ভোট দিয়ে তাপসকে নির্বাচিত করেছিলেন। তাঁর কথায়, “খুব কঠিন সময়ে ওকে মানুষ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেন। প্রাণ দিয়ে কাজ করেছিল তাপস। কিন্তু শেষে দলের কাউকে নিজের পাশে পায়নি।” এই বক্তব্যে স্পষ্ট, স্বামীর রাজনৈতিক অবদানকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হয়নি বলেই মনে করেন তিনি।
পরবর্তী সময়ে তাপস পাল বিভিন্ন বিষয়ে সরব হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন নন্দিনী। তাঁর মতে, গরুপাচার ও চিটফান্ড প্রসঙ্গে তাপস কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, “ক্ষমতায় আসার পরে দিদি ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে যান। তখন তাপসের প্রয়োজন ফুরিয়ে যায় ওঁর কাছে। চিটফান্ডের কোনও টাকা আত্মসাৎ করেনি তাপস। পরিস্থিতির শিকার হয় ও।” চৌমুহা বিতর্ক প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন নন্দিনী। তিনি জানান, “চৌমুহাকাণ্ডে তাপসের মন্তব্য ওই একটাই ভুল ছিল তাপসের।” আরও বলেন, “মা-বাবাকে দেখেননি, আমাদের সম্পর্ক ঠিক নয়, এ সব ভুল তথ্য রটানো হয়েছিল। ওর ভাগ্য খারাপ।” পরে তাপস নিজেও বুঝেছিলেন তিনি ভুল করেছিলেন বলেও দাবি তাঁর।
আরও পড়ুনঃ মমতার মঞ্চ থেকে বিজেপির শপথ মঞ্চে? ব্রিগেডে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে পারেন মমতাভক্ত ইমন? জোর জল্পনা রাজ্য রাজনীতিতে!
নন্দিনী পালের বক্তব্যের সবচেয়ে কড়া অংশ ছিল শাসনব্যবস্থা নিয়ে মন্তব্যে। তিনি বলেন, “এত দিন রাজ্য চালানো হচ্ছিল না, একটা ক্লাব চালানো হচ্ছিল।” আরও বলেন, “দিদি আর দল তাপসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন।” এমনকি তাঁর দাবি, “দিদি যে ভাবে রাজ্য শাসন করলেন, তার থেকে বামফ্রন্ট শাসন ভাল ছিল, এমনকি ইংরেজ শাসনও ভাল ছিল।” ৫৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন তাপস পাল। নন্দিনী জানান, “এক বার ফোনে কথা বলতে চেয়েছিল ও। দিদি ফোন তোলেননি।” শেষে তিনি বলেন, “আমি চাই দিদি অনেক বছর বেঁচে থাকুন, যাতে উপলব্ধি করতে পারেন কী কী ভুল করেছেন।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, তিনি কোনও দিনই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ক্ষমা করতে পারবেন না।
