জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘প্রতি বছর রাখীর অপেক্ষায় থাকত ভাই, এবারও জেদ করেছিল দিদির হাত থেকে রাখী পরবে’ কাঁদতে কাঁদতে একমাত্র ভাইকে হারানোর শেষ স্মৃতি বললেন ইন্দ্রাণী হালদার!

বাংলা বিনোদন জগতের অত্যন্ত পরিচিত মুখ ইন্দ্রাণী হালদার। দীর্ঘ অভিনয় জীবনে বড়পর্দা থেকে ছোটপর্দা, একাধিক জনপ্রিয় চরিত্রে নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন তিনি। ‘গোয়েন্দা গিন্নি’ থেকে ‘শ্রীময়ী’, নানা ধরনের চরিত্রে দর্শকের ভালোবাসা পেয়েছেন অভিনেত্রী। তবে গত কয়েক বছর তাঁর জীবন একেবারেই সহজ ছিল না। শারীরিক অসুস্থতার কারণে একটা সময় অভিনয় থেকে দূরে থাকতে হয়েছিল তাঁকে। কোমরের সমস্যার পাশাপাশি চিকিৎসা এবং ওষুধের কারণে তাঁর ওজনও অনেকটা বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় আত্মবিশ্বাসও হারিয়ে ফেলেছিলেন বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে আবার নতুন করে ক্যামেরার সামনে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ভালো সিনেমা, সিরিজ কিংবা কোনও রিয়্যালিটি শোয়ের কাজ করার জন্যও নিজেকে প্রস্তুত করছেন ইন্দ্রাণী।

তবে সুস্থ হয়ে কাজে ফেরার এই সময়েও ব্যক্তিগত জীবনের এক গভীর শূন্যতা তাঁকে প্রতি বছরই নতুন করে কাঁদায়। রাখী পূর্ণিমার দিন একমাত্র ভাইকে হারানোর স্মৃতি আরও তীব্র হয়ে ওঠে অভিনেত্রীর কাছে। ইন্দ্রাণী জানান, ২০১৯ সালে তিনি তাঁর একমাত্র ভাইকে হারিয়েছেন। ভাই তাঁর থেকে তিন বছরের ছোট ছিলেন। রাখীর দিন এলেই দিদির হাত থেকে রাখী পরার জন্য তিনি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। এমনকি যে বছর তিনি মারা যান, সেই বছরও রাখীর সকালে শ্যুটিংয়ে বেরোনোর আগে দিদির কাছে রাখী পরার জন্য জেদ করেছিলেন। ভাইয়ের শারীরিক অবস্থা দেখে ইন্দ্রাণী তখনই বুঝতে পেরেছিলেন পরিস্থিতি ভালো নয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ এবং ভাইয়ের অবস্থার কথা মাথায় রেখে তাঁর মনে হয়েছিল, হয়তো এটাই তাঁদের শেষ রাখী।

রাখী পূর্ণিমার দু’তিন দিন আগে থেকেই সেই পুরনো স্মৃতি ইন্দ্রাণী হালদারকে ভীষণভাবে আবেগপ্রবণ করে তোলে। সংবাদমাধ্যমের সামনে ভাইয়ের কথা বলতে গিয়ে চোখে জল চলে আসে অভিনেত্রীর। যে মানুষটি প্রতি বছর রাখীর জন্য দিদির অপেক্ষা করতেন, সেই ভাই আর নেই, এই বাস্তবতাই যেন এখনও মেনে নিতে পারেন না তিনি। তবে সময়ের সঙ্গে নিজেকে সামলে নেওয়ারও চেষ্টা করেছেন ইন্দ্রাণী। তাঁর কথায়, এখন নিজের চারপাশের মানুষদের মধ্যেই ভাইয়ের ভালোবাসা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। সহকর্মী, সাংবাদিক এবং কাছের মানুষদের সঙ্গে সেই সম্পর্কের মধ্যে ভাইয়ের স্নেহের ছায়া অনুভব করেন অভিনেত্রী। ফলে রাখীর দিনটি তাঁর কাছে শুধু উৎসবের দিন নয়, একইসঙ্গে ভালোবাসা, স্মৃতি এবং হারানোর বেদনায় ভরা একটি বিশেষ দিন।

ইন্দ্রাণীর জীবনের এই আবেগঘন অধ্যায় সামনে আসছে এমন এক সময়ে, যখন তিনি আবার নিজের কাজের জগতে ফিরতে চাইছেন। দীর্ঘ বিরতির পর ইতিমধ্যেই তাঁকে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং সংবাদমাধ্যমের সামনে দেখা যাচ্ছে। অসুস্থতার সময় ওজন বেড়ে যাওয়ায় নিজেকে নিয়ে অস্বস্তিতে ছিলেন অভিনেত্রী এবং সেই কারণেই একটা সময় ক্যামেরার সামনে আসতেও চাননি। পরে চিকিৎসা, ডায়েট এবং শরীরচর্চার মাধ্যমে অনেকটা ওজন কমিয়ে আগের চেহারায় ফিরেছেন তিনি। এখন তাঁর লক্ষ্য ফের অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গায় ফিরে আসা। ইন্দ্রাণীর কথায়, শরীরের পরিবর্তনের চেয়ে একজন মানুষের সুস্থ হয়ে ওঠাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই লড়াই পেরিয়ে যখন তিনি নতুন করে কাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তখন রাখীর দিনে ভাইকে হারানোর স্মৃতি তাঁকে আবারও আবেগে ভাসিয়ে দিল।

একদিকে বহু বছরের অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতা, অন্যদিকে ব্যক্তিগত জীবনের গভীর ক্ষত, সবকিছু নিয়েই এগিয়ে চলেছেন ইন্দ্রাণী হালদার। ‘শ্রীময়ী’র পর দীর্ঘ সময় পর্দায় নিয়মিত দেখা না গেলেও এবার নতুন করে কাজ শুরু করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন তিনি। আর সেই নতুন শুরুর মুহূর্তেই রাখীর আবেগ তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় ২০১৯ সালের সেই দিনে, যখন শেষবারের মতো ভাইয়ের হাতে রাখী পরিয়েছিলেন। ভাইয়ের সঙ্গে কাটানো সেই স্মৃতি আজও তাঁর কাছে অমূল্য। তাই ভাইকে হারানোর পরও তাঁকে নিজের কাছেই রাখার চেষ্টা করেন অভিনেত্রী। চারপাশের মানুষদের ভালোবাসায় সেই শূন্যতা কিছুটা পূরণ করার চেষ্টা করলেও, রাখীর দিন এলেই একমাত্র ভাইয়ের জন্য তাঁর মনটা যে আজও একইভাবে কেঁদে ওঠে, তাঁর চোখের জলেই যেন তার প্রমাণ মিলল।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page