জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“ও আর নায়িকা নেই, মা-কাকিমার রোল ছাড়া ওকে আর কেউ নেবে না….স্বামীর ঠিকাদারির কাজ না হওয়াতেই এত রাগ” ফের রচনা ব্যানার্জিকে তীব্র কটাক্ষ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের! এই ব্যক্তিগত আক্রমণ কবে বন্ধ হবে?

তৃণমূল কংগ্রেসের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ধাক্কা এবং বিভিন্ন নির্বাচনী ফলাফলের পর দলের অন্দরমহলের নানা বিষয় নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা ক্রমশ বাড়ছে। শুধু রাজনৈতিক কর্মী বা নেতারাই নন, দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকা বিনোদন জগতের তারকারাও নিজেদের অভিজ্ঞতা, ক্ষোভ কিংবা মতামত সামনে আনছেন। গত কয়েক সপ্তাহে একাধিক পরিচিত মুখ দলীয় নেতৃত্ব, সাংগঠনিক কাজকর্ম এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে মন্তব্য করেছেন। সেই তালিকায় এবার সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছেন অভিনেত্রী ও হুগলির তৃণমূল সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর একাধিক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে যেমন বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তেমনই তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে।

কয়েকদিন ধরেই রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় চলছে। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, তাঁর জনপ্রিয়তা ও সেলিব্রিটি পরিচয়কে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি দল এবং রাজনীতির নানা দিক নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া একাধিক তৃণমূল নেতার প্রসঙ্গও উঠে আসে তাঁর বক্তব্যে। এছাড়া সাধারণ মানুষের সমস্যার সঙ্গে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সংযোগ নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন। রচনার এই বক্তব্য প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে এবং বিরোধী শিবিরে তা নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে দলেরই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নাম করে আক্রমণ করার পর বিষয়টি আরও বেশি আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

রচনার অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে এবার সরাসরি পালটা আক্রমণ শানিয়েছেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, যদি সত্যিই রচনা মনে করে থাকেন যে তাঁকে শুধু ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে তিনি রাজনীতিতে এলেন কেন? তাঁর কথায়, “উনি কি বাচ্চা মেয়ে নাকি? দিদি ডাকল বলে চলে গেলেন?” কল্যাণের দাবি, ২০২৪ সালের আগে থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন দুর্নীতির মামলা, গ্রেপ্তারি এবং রাজনৈতিক বিতর্ক সকলেরই জানা ছিল। তাই এসব বিষয় সম্পর্কে অজ্ঞতার দাবি করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি আরও বলেন, কোনও ব্যক্তি যদি জেনে-বুঝে নিজের জনপ্রিয়তা রাজনৈতিক মঞ্চে ব্যবহার করতে দেন, তাহলে পরে সেই সিদ্ধান্তের দায়ও তাঁকেই নিতে হবে।

এরপর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় দলের অন্য সাংসদদের উদাহরণ টেনে বলেন, জনপ্রিয় মুখ না হয়েও অনেকেই মানুষের সমর্থনে জিতে এসেছেন। তিনি আরামবাগের সাংসদ মিতালি বাগের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, একজন অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সাংসদ করেছেন, কারণ মানুষের কাছে দলের নেত্রীর গ্রহণযোগ্যতাই যথেষ্ট। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় নাকি তাঁর স্বামীর ঠিকাদারি সংক্রান্ত কিছু বিষয়ে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। সেই কাজে সুবিধা না হওয়ায় তাঁর ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন কল্যাণ। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে রচনার পক্ষ থেকে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া প্রকাশ্যে আসেনি।

শুধু রাজনৈতিক অভিযোগেই থেমে থাকেননি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি রচনার অভিনয়জীবন, সংসদীয় কার্যকলাপ এবং শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, বর্তমানে রচনার হাতে খুব বেশি কাজ নেই এবং তিনি দাবি করেন যে লোকসভায় রচনা যে প্রশ্নগুলি করেছেন, সেগুলির অনেকটাই অন্যদের সহায়তায় প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও কটাক্ষ করেন কল্যাণ। শেষে তিনি বলেন, দলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলা এবং নেতৃত্বের সমালোচনা করার প্রবণতা তৃণমূলের ক্ষতি করছে। তাঁর মতে, যাঁরা দলের পরিচিত মুখ হয়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন, তাঁদের একাংশের এই ধরনের অবস্থানই সংগঠনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য বাকযুদ্ধ এখন তৃণমূলের অন্দরের মতপার্থক্য এবং রাজনৈতিক অস্বস্তিকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page