অপরাধীকে লুকিয়ে রাখার ‘অপরাধে’ ঝিনুককেই এবার টেবিলের তলায় অদ্ভুত শাস্তি! সম্রাটের এমন ভয়ংকর রূপ দেখে কাঁদতে কাঁদতে ভেঙে পড়ল সে, ‘কমলা নিবাস’-এর আজকের পর্বে ঝিনুকের প্রাণ সংশয়ের আশঙ্কা?

জি বাংলার নতুন ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) সাম্প্রতিক পর্বে ঝিনুককে ঘিরে গল্পে তৈরি হয়েছে নতুন সমস্যা। বাড়ির কাজকর্মের মধ্যেই হঠাৎ এক অচেনা যুবককে বাড়ির মধ্যে লুকিয়ে থাকতে দেখে প্রথমে বেশ ভয় পেয়ে যায় ঝিনুক। পরে অবশ্য সে বুঝতে পারে, ওই ব্যক্তি সম্পূর্ণ অপরিচিত কেউ নয়, তার পরিচিত এক আত্মীয়। বিপদের মধ্যে পড়ে ওই আত্মীয় ঝিনুকের কাছে সাহায্য চাইলে পরিস্থিতি বুঝে তাকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয় ঝিনুক। কিন্তু সে যে বিষয়টি সম্রাটের কাছ থেকে গোপন করেছে, সেটাই পরে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

সম্রাট বাড়িতে ফিরেই ঝিনুকের আচরণে অস্বাভাবিকতা বুঝতে পারে। তার চোখেমুখে ভয়ের ছাপ দেখে সম্রাটের সন্দেহ হয়, নিশ্চয়ই কোনও ঘটনা তার কাছ থেকে লুকিয়ে রাখা হচ্ছে। এরপর নিজের উদ্যোগেই সেই যুবককে খুঁজে বের করে সম্রাট। লোকটিকে বাড়িতে লুকিয়ে রাখার বিষয়টি জানতে পেরে সে ঝিনুকের কাছ থেকে পুরো ঘটনা জানতে চায়। সম্রাটের কঠোর প্রশ্নের মুখে পড়ে ঝিনুক তখন বেশ ঘাবড়ে যায়। একদিকে বিপদে পড়া আত্মীয়কে সাহায্য করার চেষ্টা, অন্যদিকে স্বামীর কাছে বিষয়টি গোপন করার ফল দুই দিক সামলাতে গিয়েই অস্বস্তিতে পড়ে যায় সে।

এদিকে ঝিনুক-সম্রাটের এই সমস্যার পাশাপাশি ‘কমলা নিবাস’-এর অন্য গল্পেও তৈরি হয়েছে টানটান পরিস্থিতি। আদিত্য এবং পল্লবীর বন্ধুত্ব আদিত্যর মায়ের একেবারেই পছন্দ নয়। পল্লবীকে নিজের কাছে ডেকে তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, আদি থেকে যেন সে দূরত্ব বজায় রাখে। আদিত্যর সঙ্গে পল্লবীর ঘনিষ্ঠতা নিয়ে তাঁর আপত্তি যে যথেষ্ট গভীর, তাঁর কথাবার্তা এবং আচরণেই তা পরিষ্কার হয়ে যায়। ফলে ঝিনুকের জীবনের সমস্যার পাশাপাশি আদিত্য-পল্লবীর সম্পর্কও ধারাবাহিকের পরবর্তী ঘটনায় নতুন কোনও মোড় আনতে পারে বলে মনে হচ্ছে।

এদিকে সম্রাটের রাগ আরও চরম পর্যায়ে পৌঁছছে। ওই অপরাধী বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর সম্রাট জানতে পারে, ঝিনুকই তাকে লুকিয়ে রেখেছিল। একজন অপরাধীকে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি একেবারেই মেনে নিতে পারে না সম্রাট। তাই ঝিনুককেও এর জন্য শাস্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সে। এমনকি সম্রাট তাকে বলে, যেভাবে ওই অপরাধীকে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল, ঠিক সেভাবেই ঝিনুককেও সারাদিন টেবিলের নীচে থাকতে হবে। সম্রাটের এমন অদ্ভুত এবং কঠোর নির্দেশে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

স্বামীর এই রূপ দেখে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ঝিনুক। সম্রাটের রাগের সামনে কীভাবে পরিস্থিতি সামলাবে, তা বুঝতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। একজন পরিচিত আত্মীয়কে বিপদে সাহায্য করতে গিয়েই যে এত বড় সমস্যায় পড়বে, তা হয়তো ঝিনুক ভাবতেও পারেনি। এখন প্রশ্ন, সম্রাটের এই শাস্তি থেকে ঝিনুক কীভাবে রেহাই পাবে এবং তাঁদের দাম্পত্যে এই ঘটনার প্রভাব কতটা পড়বে? পাশাপাশি আদিত্য ও পল্লবীর সম্পর্ক নিয়ে আদিত্যর মায়ের এই কঠোর অবস্থানও আগামী পর্বগুলিতে গল্পকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাও দেখার বিষয়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page