জি বাংলার ধারাবাহিক ‘কমলা নিবাস’-এর (Kamala Nibas) গল্প যত এগোচ্ছে, ততই একের পর এক রহস্য এবং নতুন মোড় সামনে আসছে। সম্রাটের আচরণ ঘিরে বাড়ির ভিতরে ধীরে ধীরে সন্দেহ তৈরি হলেও, সে প্রতিবারই কোনও না কোনওভাবে পরিস্থিতি নিজের পক্ষে ঘুরিয়ে দিচ্ছে। জন্মাষ্টমীর সময় ঝিনুকের বাপের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাকে নিজের কাছ থেকে দূরে যেতে দিতে নারাজ সম্রাট। ঝিনুককে আটকে রাখার জন্য সে নতুন করে পরিকল্পনা শুরু করে। এমনকী নিজের আসল উদ্দেশ্য আড়াল করতে ঝিনুককে কোলে তুলে সরিয়ে নিয়ে যায়। ঘটনাটি দেখে কমলার মনে যে সন্দেহ তৈরি হয়েছিল, সেটাও অনেকটাই কেটে যায়।
তবে সম্রাটের চাল যতই নিখুঁত হোক, বাড়ির ঠাম্মির চোখ এড়াতে পারছে না অনেক কিছুই। গভীর রাতে বাড়িতে যে রহস্যময় একজন ঢুকছে, তাকে স্পষ্টভাবে দেখতে না পেলেও বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হয় ঠাম্মির। পরের দিন আবার ঝিনুককে আটকে রাখার জন্য সম্রাট যে জলের কলটি ইচ্ছে করে নষ্ট করেছিল, সেটিও তাঁর নজর এড়ায় না। ঠাম্মি বুঝতে শুরু করেছেন, সম্রাটের আচরণের পিছনে অন্য কোনও উদ্দেশ্য রয়েছে। অন্যদিকে সম্রাটও বুঝে গিয়েছে, ঠাম্মি তার গতিবিধির উপর নজর রাখছেন। ফলে সম্রাট নিজের গোপন কথা প্রকাশ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় এবার কী পদক্ষেপ নেয়, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এর মধ্যেই সম্রাটের অতীত সামনে আসার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। বাম খুঁজতে গিয়ে রাজু সম্রাটের ঘরে পৌঁছে যায় এবং সেখানে ছোটবেলার কিছু পুরনো ছবি দেখতে পাওয়ার একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছিল। শেষ মুহূর্তে সেই ছবি তার চোখে পড়েনি। কিন্তু রাজু যদি একবার ছবিগুলি দেখে ফেলত, তাহলে সম্রাটকে ঘিরে এতদিনের রহস্য অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে যেতে পারত। তাই পুরনো সেই ছবিগুলি আগামী দিনে রাজুর হাতে আসে কি না, সেদিকেও নজর থাকবে দর্শকদের।
এদিকে আদিত্যর সঙ্গে পল্লবীর সম্পর্কেও দেখা গেল অন্যরকম পরিবর্তন। পল্লবীর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে আদিত্য ভেবেছিল, আগের মতোই হয়তো তাকে বকাঝকা বা গালিগালাজ শুনতে হবে। কিন্তু পল্লবীর আচরণ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। নিজের ভুল বুঝতে পেরে সে আদিত্যকে জানায়, সাহায্য করতে চাইলেও বারবার সে আদিত্যকেই ভুল বুঝেছে। নিজের আচরণের জন্য অনুতপ্ত পল্লবী এরপর আদিত্যর কাছে ক্ষমাও চায়। পল্লবীর এমন বদলে যাওয়া আচরণে স্বাভাবিকভাবেই অবাক হয়ে যায় আদিত্য।
আরও পড়ুনঃ উচ্চারণ নিয়ে লাগাতার কটা’ক্ষ, সৌরভের জুতোয় পা গলানোয় বিরূপ মন্তব্য! সিনেমা থেকে ‘দাদাগিরি’ মঞ্চ! ক’টাক্ষ হজম করে নিজেকে কিভাবে শান্ত রাখেন দেব!
এদিকে আবার নতুন সমস্যা অপেক্ষা করছে পল্লবীর পরিবারে। পল্লবীর বড় দাদা স্ত্রীকে নিজের জমানো তিন লক্ষ টাকা নিরাপদে গুছিয়ে রাখার কথা বলার সময় আড়াল থেকে সব শুনে ফেলে শান্তনু। দেনায় ডুবে থাকা শান্তনুর মাথায় তখন সেই টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা আসে। অন্যদিকে ঝিনুককে নিজের কাছ থেকে কোনওভাবেই যেতে না দেওয়ার জন্য সম্রাট এবার আরও চরম পদক্ষেপ নিতে চলেছে। একটি কাপড় দিয়ে সে ঝিনুকের হাত নিজের হাতের সঙ্গে শক্ত করে বেঁধে রাখে। সম্রাটের এমন অস্বাভাবিক আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে ঝিনুক। ফলে সম্রাটের আসল উদ্দেশ্য, ঠাম্মির সন্দেহ এবং রাজুর হাতে পুরনো ছবি আসার সম্ভাবনা, সব মিলিয়ে ‘কমলা নিবাস’-এর পরের পর্বগুলি যে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হতে চলেছে, তা বলাই যায়।
