নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে যখন টলিপাড়া আনন্দ আর শুভেচ্ছায় ভাসছে, ঠিক তখনই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এল পরিচালক অভিনেতা কৌশিক গাঙ্গুলির একটি ফেসবুক পোস্ট। দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সিনেমায় নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করা এই নির্মাতার নববর্ষের বার্তার নিচে হঠাৎই এক নেটিজেনের অভিযোগ যেন উৎসবের আবহে খানিক ভাটা টানল। অভিযোগের মূল কথা কৌশিক গাঙ্গুলির পরিচালিত ছবি অসুখ বিসুখ এ কাজ করেও নাকি আজও পারিশ্রমিক পাননি কয়েকজন জুনিয়র আর্টিস্ট। সেই নিয়েই শুরু হয়েছে নেটপাড়ার চর্চা।
অভিযোগকারী মানব চৌধুরীর দাবি অনুযায়ী অসুখ বিসুখ ছবিটি তৈরি হয়েছিল ২০২৪ সালে। সেই ছবির জুনিয়র আর্টিস্টদের প্রায় তিন লক্ষ কুড়ি হাজার টাকা এখনও বকেয়া। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী এক প্রযোজনা সংস্থা থেকে অন্য সংস্থার দরজায় ঘুরেও আজ পর্যন্ত সেই টাকা মেলেনি। এমনকি যেই প্রযোজনা সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ সেখানে পরবর্তীতে কৌশিক গাঙ্গুলি কাজ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। অভিযোগের শেষে প্রশ্ন ছুড়ে দেন পরিচালক হিসেবে এই দায় কি কৌশিকের উপরেও পড়ে না।
এই মন্তব্য চোখে পড়তেই চুপ না থেকে সরাসরি উত্তর দেন কৌশিক গাঙ্গুলি। তিনি জানান সেই ছবির প্রথম প্রযোজকের সঙ্গে তিনি নিজেও কোনওভাবেই যোগাযোগ করতে পারেননি। উল্টে তাঁর নিজেরও নাকি ওই প্রযোজকের কাছে বড় অঙ্কের পাওনা রয়ে গেছে। ছবিটি তৈরি হওয়ার পর প্রযোজনা সংস্থা বদলে যায় এবং মূল প্রযোজক সংস্থা ছবিটি বিক্রি করে চলে যায়। তাই এই পরিস্থিতিতে তিনিও জুনিয়র আর্টিস্টদের মতোই একই নৌকোয় রয়েছেন বলেই জানান কৌশিক।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল অঙ্কুশ পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ইশা সাহা ও সায়নী গুপ্ত অভিনীত অসুখ বিসুখ এখনও মুক্তি পায়নি। প্রথমে ছবিটির প্রযোজক ছিল শ্যামসুন্দর দে পরিচালিত শ্যাডো ফিল্মস। শুটিংয়ের শেষ পর্যায়ে সহ প্রযোজক হিসেবে যুক্ত হয় সুরিন্দর ফিল্মস। ইন্ডাস্ট্রিতে বকেয়া পারিশ্রমিক নিয়ে শ্যামসুন্দরের বিরুদ্ধে আগেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ছবিতে অঞ্জন দত্তের অভিনয়ের কথা থাকলেও পরে তিনি সরে দাঁড়ান এবং সেই চরিত্রে অভিনয় করেন কৌশিক নিজেই।
আরও পড়ুনঃ পরপর ছবিতে দেব–ইধিকা হিট জুটি, তবু কি এবার বাদ পড়ছেন নায়িকা? টলি পর্দায় ফিরছে দেব–কোয়েলের নস্টালজিয়া জুটি—কোন সিনেমায় আবার দেখা যাবে তাদের?
এই বিতর্কের মাঝেই কৌশিক গাঙ্গুলির নববর্ষের পোস্টে উঠে এসেছে তাঁর শিল্পী সত্তার দর্শন। ছোট মানুষের গল্প উপেক্ষিত চরিত্র আর জীবনের গভীর অনুভূতিকে পর্দায় তুলে ধরাই তাঁর বিশ্বাস। জোর করে জনপ্রিয়তা আনা যায় না মানুষের আবেগই শিল্পকে জায়গা করে দেয় বলে মনে করেন তিনি। গ্রাম থেকে শহর দর্শকের মন জাগিয়ে তোলাই তাঁর কামনা। নতুন বছরে তাঁর একটাই প্রার্থনা দর্শকের ভালোবাসা যেন আগের মতোই তাঁর কাজের পথে হাওয়ার জোগান দেয়।
