৯ মে ব্রিগেড ময়দানে নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে ছিল বড় আয়োজন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এই অনুষ্ঠানেই সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন মধুমন্তী মৈত্র, যাঁকে একসময় দূরদর্শন কলকাতার অন্যতম পরিচিত সংবাদপাঠিকা হিসেবে চিনতেন দর্শক। বহু সরকারি অনুষ্ঠানে আগেও তাঁকে দেখা গিয়েছে। তবে গত প্রায় ১৫ বছরে তাঁকে খুব বেশি সামনে দেখা যায়নি। তাই শুভেন্দুর শপথের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি নতুন করে চর্চার বিষয় হয়ে ওঠে। অনেকেই মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর আবার বড় মঞ্চে ফিরলেন তিনি। অনুষ্ঠান শেষে সমাজমাধ্যমেও তাঁর সঞ্চালনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।
মধুমন্তী জানান, প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে কাজ করা তাঁর কাছে নতুন অভিজ্ঞতা নয়। তাঁর কথায়, “এই শহরে যত বারই প্রধানমন্ত্রীর সরকারি কোনও অনুষ্ঠান হয়েছে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সঞ্চালনার দায়িত্ব পালন করেছি।” তবে শুভেন্দু অধিকারীর শপথ অনুষ্ঠানের জন্য আগে থেকে আলাদা প্রস্তুতির সুযোগ ছিল না। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকেও বিস্তারিত সূচি দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। মধুমন্তী বলেন, “যা বলেছি সেটা তাৎক্ষণিক ছিল, পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না। ভীষণ তাড়াহুড়োয় গোটা অনুষ্ঠানটা হয়েছে।” তাঁর মতে, এত বড় অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে আগে থেকে পরিকল্পনা থাকলে কাজ আরও সহজ হয়। তবু পরিস্থিতি বুঝে তাৎক্ষণিকভাবে দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।
ব্রিগেড ময়দানকে অনুষ্ঠানস্থল হিসেবে নিয়েও নিজের মত প্রকাশ করেন মধুমন্তী। তিনি বলেন, “আসলে বিগ্রেডে ঐতিহ্য বাদ দিলে আর লোক ভরানোর বিষয়টিকে সরিয়ে দিলে কোনও অনুষ্ঠান করার জন্য জায়গাটা খুব একটা আদর্শ নয়।” তাঁর মতে, রাজনৈতিক সভা করার জন্য জায়গাটি উপযুক্ত হলেও এই মাপের আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠান করতে বেশ অসুবিধা হয়। তিনি আরও বলেন, “কিন্তু ওদের এটা করতেই হত।” একই সঙ্গে জানান, প্রধানমন্ত্রী কখন পৌঁছবেন বা কখন মঞ্চে উঠবেন, সেই নির্দিষ্ট সময়সূচিও তাঁকে জানানো হয়নি। তাঁর মন্তব্য, “যদিও আমার মনে হয় যে কোনও সংযোজিকাই এই ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকেন।” সময়ের অভাবে সব কিছু করা সম্ভব হয়নি বলেও তিনি জানান।
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কড়াকড়ি ছিল। এসপিজি আধিকারিকদের তৎপরতার কারণে আলাদা করে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাননি মধুমন্তী। তবে তিনি বলেন, “আমি ওঁর বেশ কিছু অনুষ্ঠানে সংযোজনা করেছি। তাই মনে হয়, আমার মুখ চেনেন। তবে নামটা জানেন কি না, তা নিয়ে আমার সন্দেহ রয়েছে।” এদিকে তাঁর সঞ্চালনা নিয়ে সমাজমাধ্যমে প্রশংসার ঢেউ উঠেছে। গেরুয়া শিবিরের ঘনিষ্ঠ মহল থেকেও প্রশংসা পেয়েছেন তিনি। এই বিষয়ে মধুমন্তীর প্রতিক্রিয়া, “এটা বলতেই হবে, যে ভালবাসা পাচ্ছি তাতে আমি কৃতজ্ঞ।” আবার তিনি বলেন, “একই সঙ্গে খুব প্রশংসা পেলে আমি কুঁকড়ে যাই।”
আরও পড়ুনঃ বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই মহিলা কমিশনের পদ ছাড়লেন লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, ফের কি টেলিপর্দায় দেখা যাবে তার ধারাবাহিক? নাকি সেখান থেকেও বিদায় নিচ্ছেন তিনি?
দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মধুমন্তী জানান, কথা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব (Kolkata International Film Festival)-এর শুরু থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত তিনি টানা সঞ্চালনা করেছেন। কিন্তু ২০১১ সালের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। তাঁর কথায়, “আমি একেবারেই যে সরকারি অনুষ্ঠান করিনি তেমন নয়। অনেকের মধ্যে আমার নামটা শেষ থেকে দ্বিতীয় কিংবা প্রথমের মধ্যে থাকত।” তিনি আরও বলেন, “ইংরেজি বলার অনুষ্ঠান হলে অবশ্যই আমাকে ডাকা হত।” পরে চলচ্চিত্র উৎসবের ধরন বদলানোর পর জুন মালিয়া সঞ্চালনার দায়িত্ব নিতেন বলে জানান তিনি। মধুমন্তীর দাবি, “এ রকম অনেক জায়গা থেকেই আমাকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এ বার কেন্দ্রীয় তথ্যসম্প্রচার মন্ত্রক আমার উপর ভরসা রাখলেন।” তবে তিনি এটাও স্পষ্ট করেন, “গত ১৫ বছর আমাকে চেপে দেওয়া হয়েছে, এই ধরনের ন্যারেটিভ যে ছড়ানো হচ্ছে সেটা ঠিক নয়।” আর তাঁকে ঘিরে ‘প্রত্যাবর্তন’ কথাটিতেও আপত্তি রয়েছে তাঁর।
