বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর ফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্ক বদলেছে অনেকটাই, আর সেই আবহেই নতুন করে আলোচনায় সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরাহনগরের প্রাক্তন বিধায়ক ও অভিনেত্রী ভোটে হারের পর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। নির্বাচনী প্রচারের সময় তাঁকে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছিল একাংশের। কিন্তু ফল প্রকাশের পরে পরিস্থিতি বদলে যায়। এর মাঝেই কয়েক দিন জ্বরে ভুগেছেন সায়ন্তিকা। এখন অবশ্য আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ তিনি। পরাজয়ের ধাক্কা থাকলেও তিনি ভেঙে পড়েননি, বরং সামনে এগোনোর কথাই জানিয়েছেন।
নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সায়ন্তিকা বলেন, “একটা খারাপ লাগা তো থাকেই। মনখারাপ ঠিক নয়।” তিনি মনে করেন, মানুষের তাঁর কাছে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল। সেই কারণেই হয়তো এই ফল এসেছে। অভিনেত্রীর কথায়, “হয়তো আমার থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল মানুষের। আমিই হয়তো সাধারণের আশা পূরণ করতে পারিনি।” তবে চেষ্টা নিয়ে কোনও প্রশ্ন তুলতে রাজি নন তিনি। সায়ন্তিকা স্পষ্ট বলেন, “তবে চেষ্টা করিনি, এমন বলব না। আমি চেয়েছিলাম নিজের সবটা দিয়ে কাজ করতে। সেটাই করেছি অনবরত।” ফলে হারলেও নিজের পরিশ্রম নিয়ে তাঁর কোনও আক্ষেপ নেই।
নির্বাচনের পরে ব্যারাকপুরের প্রাক্তন বিধায়ক রাজ চক্রবর্তী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে তৃণমূল সাংসদ দেবও বলেছিলেন, “রাজনীতিতে আর বেশি জড়াতে চাই না।” সেই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, সায়ন্তিকাও কি রাজনীতি থেকে দূরে সরে যেতে চান? তবে এই বিষয়ে এখনই চূড়ান্ত কিছু বলতে চান না তিনি। সায়ন্তিকা বলেন, “আমি সরাসরি এমন কোনও মন্তব্য করতে চাই না। আগামী দিনে কী করব? এখন থেকে তো বলতে পারি না।” অর্থাৎ ভবিষ্যতের দরজা পুরোপুরি বন্ধ করছেন না তিনি।
তবে নিজের পেশা যে অভিনয়, সেটাই আবার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন সায়ন্তিকা। তাঁর কথায়, “আমার যে পেশা অভিনয়, সেটাতে মন দিতে চাই।” তিনি জানান, আগামী দিনে ক্যামেরার সামনে ফেরার প্রস্তুতি শুরু করতে চান। গত কয়েক বছর রাজনৈতিক কাজেই বেশি সময় দেওয়ায় শরীরচর্চায় অনেকটা বিরতি পড়েছিল। তাই এখন নিজেকে নতুন করে গড়ে তুলতে চান তিনি। সায়ন্তিকা বলেন, “তার জন্য প্রস্তুতি নিতে চাই। নিজের শারীরিক গঠন ঠিক করতে চাই। আবার নিজেকে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ানোর জন্য প্রস্তুত করতে চাই।” অর্থাৎ অভিনয়ে প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।
আরও পড়ুনঃ প্রাক্তন সরকারের আমলে ছিলেন ব্রাত্য? শুভেন্দুর শপথে নজর কাড়লেন মধুমন্তী মৈত্র! ১৫ বছর পর ফের আলোচনায় দূরদর্শনের পরিচিত মুখ, নতুন সরকারকে নিয়ে কী বললেন?
বরাহনগরের নতুন বিধায়ক সজল ঘোষকে কিছু বলতে চান কি না, সেই প্রশ্নে সায়ন্তিকা খুব সংযত উত্তর দিয়েছেন। তিনি জানান, এখন এই বিষয়ে আলাদা করে কিছু বলতে চান না। জনমতের ভিত্তিতেই নতুন বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি নিজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ইতিবাচক বার্তা দেন। সায়ন্তিকার কথায়, “জীবন তো থেমে যাবে না। এই পরাজয় মানে জীবন শেষ হয়ে গেল, সেটা তো নয়।” তিনি আরও বলেন, “আমার যে পেশা, যার সূত্রে আমার পরিচিতি সেই দিকেই মন দিতে চাই।” তাই এই মুহূর্তে অভিনয়ে ফেরার প্রস্তুতিতেই মন দিচ্ছেন অভিনেত্রী।
