প্রত্যেক মানুষের জীবনেই কিছু না কিছু অজানা গল্প থাকে, যা সহজে সবার সামনে আসে না। তবে টেলিভিশনের পরিচিত মুখ মানসী সেনগুপ্ত বরাবরই ব্যক্তিগত অনুভূতি নিয়ে অকপট। তাই এবারও ব্যতিক্রম হল না। সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে ফেরার পথে গাড়িতে বসেই তিনি শেয়ার করলেন তাঁর জীবনের এক মজার কিন্তু একেবারেই ব্যক্তিগত অভ্যাস। কথায় কথায় জানালেন এমন এক ছোট্ট সিক্রেট, যা শুনে অনেক নারীই হয়তো নিজের সঙ্গে মিল খুঁজে পাবেন।
খুব সম্প্রতি তিনি উপস্থিত ছিলেন সোনার সংসার অনুষ্ঠানে। সেখানে ‘তারে ধরে ধরে মনে করি’ ধারাবাহিকের প্রতিনিধিত্ব করছিলেন তিনি। সেদিন তাঁর সাজ ছিল নজরকাড়া। ওয়াইন রঙের শাড়ি, সোনার গয়না আর নিখুঁত মেকআপে দারুণ লাগছিল অভিনেত্রীকে। বন্ধুদের সঙ্গে মজা, আড্ডা আর ক্যামেরার সামনে প্রাণখোলা হাসির পর অনুষ্ঠান শেষে যখন বাড়ি ফিরছিলেন, তখনই নাকি মনে হল অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নেবেন তাঁর একান্ত ব্যক্তিগত অভ্যাসের কথা।
গাড়িতে বসে ভিডিও করতে করতে মানসী বললেন, কোনও অনুষ্ঠান বা শুটিং থেকে ফেরার পর তিনি সরাসরি বাড়িতে ঢোকেন না। বরং কিছুক্ষণ গাড়িতেই বসে থাকেন। কারণ সাজগোজ খুলে ফেলার কাজটাই তাঁর কাছে সবথেকে কঠিন। মাথায় অসংখ্য কাঁটা, ক্লিপ আর ফুল গুঁজে চুল সেট করা থাকে। প্রস্তুতির সময় যেগুলো যত যত্নে লাগানো হয়, ফেরার পথে সেগুলো খুলে ফেলাই যেন এক আলাদা যুদ্ধ। সেই মুহূর্তের ক্লান্তি আর বিরক্তি তিনি অকপটে স্বীকার করেন।
অভিনেত্রীর কথায়, বাড়িতে ঢোকার আগে নিজেকে একটু মানসিকভাবে প্রস্তুত করা দরকার হয়। তাই গাড়িতেই বসে ধীরে ধীরে চুলের কাঁটা, ক্লিপ আর ফুল খুলতে শুরু করেন তিনি। কখনও ফুলটা বাইরে ফেলে দেন, কখনও আয়নার সামনে বসে চুল আলগা করেন। এই সময়টুকু তাঁর নিজের সঙ্গে কাটানো একান্ত মুহূর্ত। বাইরে থেকে ঝলমলে উপস্থিতি নিয়ে ফিরলেও ভিতরের ক্লান্ত মানুষটাকে সামলে নেওয়ার এটাই নাকি তাঁর উপায়।
আরও পড়ুনঃ “২৪ বছরের খরা কাটল!” দুই দশকের বেশি পথচলার পর, অবশেষে সোনার সংসারে প্রথম বড় স্বীকৃতি পেলেন অভ্রজিৎ চক্রবর্তী! অ্যাওয়ার্ড হাতে আবেগাপ্লুত অভিনেতা, ‘চিরদিনই’র কিঙ্করকে কীভাবে জানালেন কৃতজ্ঞতা?
শেষে মানসী হেসে বলেন, তাঁর এই কথার সঙ্গে অনেকেই নিশ্চয়ই একমত হবেন, বিশেষ করে মেয়েরা। কোথাও ঘুরে এসে বা অনুষ্ঠানে সেজেগুজে গিয়ে ফেরার পর সব কিছু গুছিয়ে রাখা যেন আরেক দফা কাজের মতো মনে হয়। সেই অলসতা আর ক্লান্তিকে সামলাতেই তিনি আগে থেকেই একটু কাজ সেরে রাখেন। ছোট্ট এই অভ্যাসই তাঁর জীবনের বড় সিক্রেট, যা আসলে খুব সাধারণ অথচ ভীষণ বাস্তব।
