বাংলা বিনোদন জগতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করলেও স্বীকৃতির আলো যেন একটু দেরিতেই এসে পৌঁছল ‘অভ্রজিৎ চক্রবর্তী’র (Avrajit Chakraborty) জীবনে। ছোটপর্দা থেকে বড়পর্দা, দুই জায়গাতেই নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন তিনি। তবু এত বছর পরিশ্রমের পরও কোনও পুরস্কার আসেনি তাঁর ঝুলিতে। সেই আক্ষেপের অধ্যায়ের অবশেষে ইতি ঘটল। সম্প্রতি জি বাংলার সোনার সংসার অনুষ্ঠানে সম্মানিত হলেন তিনি, যা তাঁর ২৪ বছরের অভিনয় জীবনের প্রথম বড় স্বীকৃতি!
প্রসঙ্গত, এই মুহূর্তে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ (Chirodini Tumi Je Amar) ধারাবাহিকে কিঙ্কর চরিত্রে অভিনয় করছেন অভ্রজিৎ। চরিত্রটি একেবারেই একরৈখিক নয়। কখনও ইতিবাচক, কখনও ধূসর। এই পরিবর্তনশীলতা দর্শকদের আলাদা করে নজর কেড়েছে। শুরু থেকেই কিঙ্করকে ঘিরে কৌতূহল ছিল আর সেই আগ্রহই ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তায় বদলে যায়। টেলিভিশনের নিয়মিত দর্শকেরা জানেন, এমন চরিত্র ধরে রাখতে গেলে অভিনেতার মাপটা আলাদা হওয়া দরকার।
উল্লেখ্য, এদিন পুরস্কার হাতে পেয়ে অভিনেতা নিজের অনুভূতি লুকোননি। সমাজ মাধ্যমে ছবিটি ভাগ করে নিয়ে তিনি জানান, দীর্ঘ অপেক্ষার পর এই প্রাপ্তি তাঁর কাছে বিশেষ। দর্শক, চ্যানেল, প্রযোজনা সংস্থা এবং পরিবারের সবাইকেও কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি। পাশাপাশি নিজের অভিনীত চরিত্র কিঙ্করের কথাও তিনি আলাদা করে উল্লেখ করেন, কারণ এই চরিত্রই তাঁকে এনে দিয়েছে নতুন পরিচিতি।
তবে শুধু তিনিই নন, অভ্রজিতের এই সাফল্যে সহকর্মীরাও খুশি। তাঁর পোস্টে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ছোটপর্দার একাধিক পরিচিত মুখ। তাদের মধ্যে অভিনেতা সুব্রত গুহ রায়, যাকে বর্তমানে ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকে নায়কের দাদুর ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে তিনিও আছেন। তিনি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, এমন অভিনেতা জন্য এটা অনেক দেরি হয়ে গেল! আরও আগে এই সম্মান পাওয়া উচিত ছিল তাঁর।
আরও পড়ুনঃ “সিনিয়ররা খাচ্ছে…জ’ঘন্য বিরিয়ানি!” সম্প্রচার এখনও বাকি, এর মাঝেই সোনার সংসার নিয়ে খাবার বিতর্ক! ভাইরাল ভিডিও ঘিরে শুরু জলসা বনাম জি-বাংলা অনুরাগীদের তরজা! আসল ঘটনা কী?
এদিকে, এবারের সোনার সংসারে একাধিক পুরস্কার পেয়েছে ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকও। ফলে একই মঞ্চে সহকর্মীদের এই পারস্পরিক শুভেচ্ছা নজর এড়ায়নি দর্শকদের। সব মিলিয়ে বলা যায়, দীর্ঘ পথচলার পর এই স্বীকৃতি অভ্রজিৎ চক্রবর্তীর জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত। অভিনয় জগতে টিকে থাকার লড়াই সহজ নয়, বিশেষ করে যখন পুরস্কার নামক উৎসাহটা দীর্ঘদিন অধরা থাকে। কিন্তু ধৈর্য আর নিয়মিত কাজের ফল একসময় মেলে, এই প্রাপ্তি যেন সেই কথাই মনে করিয়ে দিল।
