গানের জগতে এমন অনেক প্রতিভা আছে, যারা শুধুমাত্র তাদের কণ্ঠের জন্য নয়, বরং সংগ্রাম আর দৃঢ়চেতনার জন্যও দর্শক মহল তাদের মনে রাখেন। মান্না দে ছিলেন এমনই একজন কিংবদন্তি। ছোটবেলা থেকেই পরিবারের মধ্যে ঠিকভাবে স্বীকৃতি পাননি তিনি। তার ডাকনাম ছিল ‘মানা’, এবং তাঁর আসল নাম ছিল প্রবোধ চন্দ্র দে। তবে পরিবারের সমর্থনের অভাবই তাকে সঠিকভাবে নিজের গানের প্রতি দায়িত্ববোধ তৈরি করতে শেখায়।
মান্না দে যখন মুম্বাইয়ের পথে পা রাখেন, তখন গানের জগতে ইতিমধ্যেই উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসেবে তার ছোট কাকা কৃষ্ণচন্দ্র দে বিখ্যাত ছিলেন। কাকার ছায়াতলে মান্না দে প্রথমবার মুম্বাইতে এসেছিলেন, আর সেই পথই তাকে সিনেমা ‘রামরাজ্য’-এ গান গাওয়ার সুযোগ এনে দেয়। কাকার নির্দেশনায় তিনি মারাঠি ও হিন্দি দুই ভাষাতেই গান করেন। কিন্তু যতটা সাফল্য তিনি পান, ততটাই বাড়ে তার সংগ্রাম। তখনকার সময়ে বলিউড বা টলিউডে কিশোর কুমারের মতো নামী গায়করা রাজত্ব করতেন।
একবার উত্তম কুমারের লিপে গান গাওয়ার সুযোগ হলেও প্রযোজক স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, মহানায়কের লিপে মান্নাদের মতো নতুন বা অনন্য গায়কের গান চলতে পারে না। তখনই তাকে সাহায্য করেছিলেন সুধেন দাশগুপ্ত। মান্না দে সেই গানের অংশ পার্শ্ববর্তী চরিত্রের জন্য গেয়েছিলেন, যা কিছুটা হলেও তার মান রক্ষা করেছিল। তবে এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, এমন একজন গায়কের সম্মান পেতে তাকে কতটা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে।
আরেকটি বিখ্যাত ঘটনা হল ‘রাত ভিগি ভিগি’ গানের। প্রথমে প্রযোজক মান্না দে ও লতা মঙ্গেশকরকে দিয়ে গানটি করার কথা ভাবেছিলেন, কিন্তু প্রযোজক স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, মুকেশ ছাড়া কেউ গানটি গাইতে পারবে না। তখন লতা মঙ্গেশকর মান্না দেকে উৎসাহ দেন, “আপনি এমন গান সোনান যা শুনে প্রযোজক অবাক হয়ে যায়।” মান্না দে সেই গান নিজের কণ্ঠে গেয়ে শোনান এবং অবশেষে প্রযোজক মুগ্ধ হয়ে যান।
আরও পড়ুনঃ SIR শুনানিতে এবার ডাক পেলেন দেব! নোটিস ঘিরে শুরু জল্পনা
এভাবেই মান্না দে দেখিয়েছিলেন, প্রতিকূলতা এবং অসম্মানের মধ্যেও কেউ যদি দৃঢ়চেতা ও ধৈর্যশীল থাকে, তবে সে তার স্বপ্নের উচ্চতা ছুঁয়ে যেতে পারে। অপমানের মুহূর্তগুলো তাকে শক্তিশালী করেছে এবং তার কণ্ঠের প্রতিটি নোটে সেই সংগ্রামের ছাপ পড়ে। আজও মান্না দে শুধু তার কণ্ঠের জন্য নয়, বরং তার সংগ্রামের গল্পের জন্যও শোনানো হয় এবং মনে রাখা হয়।
