জামিন পেয়ে বাড়ি ফেরার পর কয়েক দিনের মধ্যেই আবারও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে বাংলাদেশি গায়ক মইনুল আহসান নোবেল। মঙ্গলবার রাতে আদালত থেকে বেরিয়ে তিনি বলেছিলেন মানুষমাত্রই ভুল করে, তিনিও তার ব্যতিক্রম নন। এমনকি অকপটে স্বীকার করেছিলেন ভবিষ্যতেও তাঁর ভুল হতে পারে। সেই মন্তব্য ঘিরে তখনই তৈরি হয়েছিল জল্পনা। আর তার রেশ কাটতে না কাটতেই সামনে এল নতুন অভিযোগ। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যম কালের কণ্ঠে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জামিনে মুক্তি পাওয়ার পরই নোবেলের বিরুদ্ধে ফের শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ তুলেছেন এক মহিলা, যা ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র আলোচনা।
অভিযোগকারিণীর দাবি, আদালত থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বাড়ি ফিরে তাঁর উপর আবারও অত্যাচার চালান গায়ক। তিনি জানিয়েছেন, জামিন বাতিলের উপায় জানতে মা ও ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে আদালতে গিয়েছিলেন। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন। তাঁর কথায়, হাত পা ধরে কান্নাকাটি করে জামিন নিয়েছেন নোবেল, কিন্তু বাড়ি ফিরেই আচরণ বদলে যায়। কেন তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে, সেই প্রশ্ন তুলে তাঁকে মারধর করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই বক্তব্য সামনে আসতেই নতুন করে সরগরম হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
উল্লেখ্য, আপসের শর্তে জামিন পান নোবেল। আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অনুশোচনার প্রসঙ্গে বলেন, মানুষ ভুল করে এবং তিনি নিজেও তার বাইরে নন। নিজের ভুল স্বীকার করে অনুরাগী ও শ্রোতাদের কাছে ক্ষমাও চান। তাঁর বক্তব্যে ছিল একধরনের আত্মসমর্পণের সুর, তবে একই সঙ্গে ভবিষ্যতে আবার এমন ভুল হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সেই মন্তব্য নিয়েই ইতিমধ্যে সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিলেন, অনুশোচনা থাকলে এমন কথা কীভাবে বলা যায়।
আদালত প্রাঙ্গণেই এক অদ্ভুত দৃশ্যের সাক্ষী থাকেন উপস্থিত মানুষজন। সাংবাদিকদের অনুরোধে গানও শোনান নোবেল। দরাজ কণ্ঠে গেয়ে ওঠেন মেহেরবান। মুহূর্তের জন্য যেন আইনি বিতর্কের আবহে মিশে যায় শিল্পীর পরিচিত সুর। তবে এই ঘটনাই নতুন করে বিতর্ক উসকে দেয়। সমালোচকদের মতে, গুরুতর অভিযোগের আবহে গান গাওয়া পরিস্থিতির গুরুত্বকে হালকা করে দেখানোর ইঙ্গিত দেয়। যদিও তাঁর অনুরাগীদের একাংশ এখনও গায়কের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন।
আরও পড়ুনঃ “এমন সন্তান সবার হোক, আদর্শ মেয়ে বলতে যা বোঝায়!” লাইমলাইট নয়, পরিবারই আসল! ব্যক্তিগত থেকে পেশাগত ঝড় সরিয়ে, বাবা-মায়ের ২৭ বছরের দাম্পত্য উদযাপনে দিতিপ্রিয়ার প্রশংসার ঝড় নেটপাড়ায়!
এদিকে অভিযোগকারিণীর দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি তুলে ধরছে। তাঁর বক্তব্য, জনসমক্ষে নোবেল যেমনটা নিজেকে তুলে ধরেন, ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একেবারেই আলাদা মানুষ। এই দ্বৈত সত্তার অভিযোগ ঘিরেই এখন নতুন করে চাপে গায়ক। আইনি প্রক্রিয়া কোন দিকে এগোয়, অভিযোগ কতটা প্রমাণিত হয়, তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত স্পষ্ট, জামিনে মুক্তির স্বস্তি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বিতর্ক যেন পিছু ছাড়ছেই না নোবেলের, আর এই ঘটনার পর তাঁর ভাবমূর্তিতে নতুন করে ধাক্কা লাগল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
