জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“বেঁচে থাকতে হলে কোনও একটা রাজনৈতিক পক্ষে থাকতেই হবে…” রুদ্রনীলের বৈঠকে পরমব্রতর ‘দাঁতে দাঁত চেপে’ ক্ষমা চাইতেই শুরু ‘দলবদলু’ কটাক্ষ! তৃণমূল হারতেই কি বিজেপির সমর্থক হলেন অভিনেতা? মুখ খুললেন স্ত্রী পিয়া, কী উত্তর তাঁর?

গত বুধবার রুদ্রনীল ঘোষের ডাকা বৈঠকে টেকনিশিয়ানস স্টুডিওতে হাজির হয়ে নতুন করে চর্চার কেন্দ্রে উঠে এলেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সেখানে ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-কে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন অভিনেতা-পরিচালক। এরপর থেকেই নেটমাধ্যমে শুরু হয়েছে জোর আলোচনা। অনেকেই প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন, রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে পরমব্রতও কি বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন? কারণ একসময় তৃণমূলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়েছে। দেউচা পাচামি কমিটি থেকে শুরু করে একাধিক রাজনৈতিক প্রচারেও তাঁকে দেখা গিয়েছিল। সেই অতীত টেনে এখন অভিনেতাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

পঁচিশ সালে ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে বেশ কয়েকবার শিরোনামে এসেছিলেন পরমব্রত। পরে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে একটি ভিডিও বার্তায় তিনি জানিয়েছিলেন, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে যাওয়া তাঁর তাড়াহুড়োর সিদ্ধান্ত ছিল। পাশাপাশি তিনি এটাও বলেন যে, “ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ান্স অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র সঙ্গে আর কোনওরকম আইনি জটিলতায় যেতে চাই না।” তবে গত বুধবারের বৈঠকে এসে সেই সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন অভিনেতা। তাঁর বক্তব্য ঘিরেই আবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয় টলিপাড়ায়। অনেকেই মনে করছেন, এতদিন পর তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন।

বৈঠকে পরমব্রত বলেন, “সেদিন আমার সদ্যজাত সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে, দাঁতে দাঁত চেপে ক্ষমা চেয়েছিলাম। আর কোনও উপায় ছিল না তাই। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত বিষোদগারের জন্য এখানে আসিনি। আমি কারও বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত রাগও পেশ করতে চাই না। কিন্তু আপনাদের যেহেতু বাড়ির লোক ভাবি, সেইজন্য ব্যক্তিগত অপমানের কথাটা ভাগ করে নিলাম। ভবিষ্যতে যেন এরকম পরিস্থিতি তৈরি না হয়।” শুধু তাই নয়, রুদ্রনীল ঘোষকে নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। পরমব্রত বলেন, “আমি যে অধিকারে এখানে বসে কথা বলছি, তার প্রাথমিক কারণ রুদ্র আর আমার ২৫ বছরের বন্ধুত্ব। রুদ্র এবং আমার বন্ধুত্বের মধ্যে যতটা বেশি বন্ধুত্ব, তার থেকেও বেশি মতপার্থক্য রয়েছে। সেই মতপার্থক্য কখনও ব্যক্তিগত, কখনও রাজনৈতিকও। কিন্তু আমরা এই বন্ধুত্বের মধ্যে কখনও রাজনীতি আসতে দিইনি।”

এই মন্তব্য সামনে আসতেই নেটদুনিয়ায় শুরু হয় কটাক্ষের ঝড়। কেউ তাঁকে ‘পাল্টিবাজ’, কেউ আবার ‘সুবিধাবাদী’ বলেও আক্রমণ করতে থাকেন। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, একসময় বাম মতাদর্শে বিশ্বাসী পরমব্রত কি এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন? সেই বিতর্কের মাঝেই মুখ খুলেছেন তাঁর স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তী। তিনি স্পষ্ট জানান, “যাঁরা মনে করছেন পরমব্রত রাজনৈতিক অবস্থান পালটাচ্ছেন, তাঁদের জন্য বলব, সিনে টেকনিশিয়ান ফেডারেশন-এর কিছু অন্যায়, অবিচারের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। বিজেপিকে সমর্থন করার কোনও প্রশ্নই নেই।” পিয়ার এই মন্তব্যের পর নতুন করে আলোচনা শুরু হলেও তিনি স্পষ্ট করে দেন যে বিষয়টি রাজনৈতিক নয়।

এর পাশাপাশি ১০ মে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারের কথাও সামনে এসেছে। সেখানে পরমব্রত বলেছিলেন, “আমি কাউকে বিচার করছি না, কিন্তু দেখছি প্রচুর আমার সঙ্গীসাথী, যাঁরা পেশাগতাবে পয়সার বিনিময়ে প্রচার করেছেন একাধিক দিন, যারা এটাকে ‘শীতকালীন শো’য়ের মতো ট্রিট করেছেন, তাঁরা দেখলাম ৪ তারিখ রাতের মধ্যে হঠাৎ করে বদলে গিয়েছেন। আসলে সিনেমার জগতে বেঁচে থাকতে হলে কোনও একটা রাজনৈতিক পক্ষে আমাকে থাকতেই হবে, এই ভয়টা গত ১৫ বছরে শিল্পীদের মধ্যে ঢুকেছে। সেটার জন্যই কিন্তু অনেকে এটা করছে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে এখন টলিউড ও রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। অভিনেতার অবস্থান নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যেও।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page