টলিউডের বহুল আলোচিত সম্পর্ক ভাঙনের গল্পগুলোর মধ্যে কাঞ্চন মল্লিক ও পিঙ্কি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিচ্ছেদ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দীর্ঘ আইনি লড়াই, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং প্রকাশ্য বাকযুদ্ধের পর আলাদা পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন দুজনেই। এই বিচ্ছেদের প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে তাঁদের ছেলে ওশের জীবনে। ছোট বয়সেই বাবা মায়ের সম্পর্কের জটিলতা সামনে থেকে দেখেছে সে, যা তাকে দ্রুত পরিণত করে তুলেছে। তবু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ওশ নিজের মতো করে বাস্তবকে মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
বর্তমানে ওশের বয়স এগারো ছুঁইছুঁই। পিঙ্কির অভিযোগ, কাঞ্চন নিয়মিত ছেলের খোঁজখবর নেন না এবং সম্পর্ক অনেকটাই দূরত্বে ঠেকে গেছে। তবে আশ্চর্যের বিষয়, বাবার নতুন সংসার নিয়ে ওশের মধ্যে তেমন কোনো ক্ষোভ নেই বলেই জানিয়েছেন পিঙ্কি। তিনি মনে করেন, শিশুদের মন অনেক সময় বড়দের থেকেও উদার হয়। নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে তিনি বোঝেন, তিক্ততা ধরে রাখলে ভবিষ্যৎ এগোয় না, তাই ছেলেকে ইতিবাচক মানসিকতা শেখানোর দিকেই তাঁর বেশি জোর।
নিজের দাম্পত্য ভাঙনের পরেও পিঙ্কি ভালোবাসার উপর আস্থা হারাননি। তাঁর মতে, বিয়ে জীবনের শেষ গন্তব্য নয় বরং সম্পর্কের মূল ভিত্তি হওয়া উচিত বিশ্বাস, সম্মান ও বোঝাপড়া। তিনি প্রকাশ্যে জানিয়েছেন যে লিভ ইন সম্পর্ককেও তিনি সমান গুরুত্ব দেন, কারণ একসঙ্গে থাকার অভিজ্ঞতা মানুষকে বাস্তব চিনতে শেখায়। এই ভাবনাটাই তিনি ছেলের মধ্যে গড়ে তুলতে চান যাতে ভবিষ্যতে ওশ নিজে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
পিঙ্কির পারিবারিক শিক্ষা তাঁর চিন্তাধারাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ছোটবেলা থেকেই তিনি শিখেছেন, ছেলে বা মেয়ে নির্বিশেষে সবার আগে প্রয়োজন আত্মনির্ভর হওয়া। আর্থিক ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত না হয়ে শুধুমাত্র সমাজের চাপে বিয়ে করা উচিত নয় বলেই মনে করেন তিনি। এই মূল্যবোধই তিনি ওশকে শেখাতে চান, যাতে সম্পর্কের আগে নিজের পরিচয় ও সম্মানকে প্রাধান্য দিতে পারে সে এবং জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিতে শেখে।
আরও পড়ুনঃ চোখে চোখ পড়তেই হাসি, সেটে বাড়তি সময়! বয়সের ব্যবধান সত্ত্বেও বাড়ছে ঘনিষ্ঠতা! ইউনিটে কানাঘুষো, শুধুই পেশাদারি বন্ধুত্ব, নাকি তার চেয়েও বেশি? টেলিভিশনের কোন জনপ্রিয় জুটিকে ঘিরে চর্চা তুঙ্গে?
২০২১ সালের লকডাউন চলাকালীন তাঁদের দাম্পত্য ভাঙনের খবর প্রথম প্রকাশ্যে আসে। সেই সময় পরিস্থিতি এতটাই তিক্ত হয়েছিল যে বিষয়টি থানায় পর্যন্ত গড়ায় এবং অভিযোগ দায়ের হয়। পরে পিঙ্কি ছেলে ওশকে নিয়ে আলাদা হয়ে যান এবং আদালতের সিদ্ধান্তে সন্তানের দায়িত্বও তাঁর কাছেই থাকে। সময় বদলেছে, সম্পর্ক বদলেছে, কিন্তু একজন মা হিসেবে পিঙ্কির লক্ষ্য একটাই, ছেলেকে এমন শিক্ষা দেওয়া যাতে সে ভালোবাসা, সম্মান ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারে।
