রুপোলি পর্দায় তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি, সাবলীল উচ্চারণ আর একাধিক ভাষায় দখল দেখে সহজে বোঝার উপায় নেই যে প্রচলিত অর্থে উচ্চশিক্ষা সম্পূর্ণ করেননি যীশু সেনগুপ্ত। দর্শকের চোখে তিনি একজন পরিপূর্ণ শিল্পী, কিন্তু সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের শিক্ষাজীবন নিয়ে অকপট স্বীকারোক্তি করে সকলকে চমকে দিয়েছেন অভিনেতা। তাঁর এই খোলামেলা মনোভাবই নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিয়েছে তাঁকে।
যীশু জানিয়েছেন তিনি প্রযুক্তিগত ভাবে মাত্র অষ্টম শ্রেণি পর্যন্তই পড়াশোনা করেছেন। মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার গণ্ডিও তিনি পার হননি। এমন তথ্য শুনে অনেক অনুরাগীই প্রথমে অবাক হয়েছেন, কারণ তাঁর কথা বলার ধরন, জ্ঞান এবং ভাষাজ্ঞান দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন তিনি নিশ্চয়ই উচ্চশিক্ষিত। কিন্তু ডিগ্রি না থাকলেও ব্যক্তিগত চর্চা ও আত্মশিক্ষার মাধ্যমে নিজেকে সমৃদ্ধ করেছেন তিনি।
খুব অল্প বয়সেই অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করেন যীশু। বাংলা ধারাবাহিকে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করেন তিনি। বিশেষ করে শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর চরিত্রে অভিনয় তাঁকে ঘরে ঘরে পরিচিত মুখে পরিণত করে। সেই সময় থেকেই শুটিংয়ের ব্যস্ততা এতটাই বেড়ে যায় যে নিয়মিত পড়াশোনায় মন দেওয়ার সুযোগ আর হয়ে ওঠেনি তাঁর।
অভিনয়ের পাশাপাশি খেলাধুলাতেও ছিল তাঁর গভীর আগ্রহ। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেট খেলতেন নিয়মিত এবং একসময় পেশাদার ক্রিকেটের দুনিয়াতেও পা রাখেন। বর্তমানে সেলিব্রিটি ক্রিকেট লিগে বাংলার দলের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব সামলাচ্ছেন তিনি। এই বহুমুখী প্রতিভাই প্রমাণ করে যে শিক্ষা কেবল বইয়ের পাতায় সীমাবদ্ধ নয়, জীবনের অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুনঃ “বাবার নতুন সংসার নিয়ে ওশের ক্ষোভ নেই, ছেলেকে ইতিবাচক মানসিকতাই শেখাচ্ছি!” শিশুরা অনেক সময় বড়দের থেকেও উদার! বিচ্ছেদের পর মাতৃত্বের নতুন অধ্যায়ে পিঙ্কি, তুলে ধরলেন সন্তানের জীবনদর্শন!
সমাজমাধ্যমে তাঁর এই স্বীকারোক্তির ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই অনুরাগীদের প্রশংসার ঢল নেমেছে। অনেকেই লিখেছেন, এত বড় মাপের তারকা হয়েও নিজের সীমাবদ্ধতা স্বীকার করার সাহস সকলের থাকে না। যীশুর সততা এবং আত্মবিশ্বাসই তাঁকে আলাদা করে দেয় অন্যদের থেকে। ডিগ্রি নয়, প্রতিভা আর নিষ্ঠাই যে মানুষকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দেয়, তাঁর জীবন যেন সেই বার্তাই দেয়।
