জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“আগে শাড়িতে ৬টা সেফটিপিন দিতাম, এখন লাগে ১৫টা লাগাই বাধ্য হয়ে!” মঞ্চের না ভুলতে পারা অভিজ্ঞতার জন্য, আজও ভয়ে থাকেন পৌষালী বন্দোপাধ্যায়! কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত, কী জানালেন গায়িকা?

শীত এলেই শহরের বাতাসে অন্যরকম এক উৎসবের গন্ধ। মাঠে মাঠে, মঞ্চে মঞ্চে শুরু হয়ে যায় স্টেজ শো। দর্শক ভিড় করেন গান শুনতে, নাচ দেখতে, প্রিয় শিল্পীদের কাছ থেকে দু’ঘণ্টার আনন্দ ছিনিয়ে নিতে। কিন্তু এই আলোঝলমলে মঞ্চের আড়ালেই তৈরি হয় আর এক চাপ—যার নাম সোশ্যাল মিডিয়া। গান শেষ হলেও বিচার যেন শেষ হয় না, বরং তখনই শুরু হয় অন্য এক পরীক্ষা।

এই শীতের মরসুমে স্টেজ শোয়ের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে গায়িকা পৌষালী বন্দ্যোপাধ্যায়ের। একের পর এক অনুষ্ঠানে তাঁর গান মন ছুঁয়ে যাচ্ছে শ্রোতাদের। অনেকেই গানের তালে নাচছেন, আয়োজকরাও সন্তুষ্ট। কিন্তু গানের প্রশংসার পাশাপাশিই আসছে পোশাক নিয়ে নানা মন্তব্য। বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু মন্তব্য নজরে আসে, যা গায়িকাকে ভাবতে বাধ্য করেছে—শুধু গান নয়, এখন পোশাক নিয়েও অতিরিক্ত সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

পৌষালী নিজে খুব সাধারণ ভাবে শাড়ি পরতেই স্বচ্ছন্দ। তাঁর কথায়, তিনি কোনও ফ্যাশন স্টেটমেন্ট তৈরি করতে চান না, গানটাই তাঁর মূল পরিচয়। কিন্তু বাস্তবটা অন্যরকম। মঞ্চে গাইতে গিয়ে কোথাও শাড়ির আঁচল সামান্য সরে যাওয়া, এক মুহূর্তের জন্য পেটিকোট বা ব্রায়ের স্ট্র্যাপ চোখে পড়ে যাওয়া—এই ছোট ছোট বিষয় নিয়েই তৈরি হচ্ছে বড় মন্তব্য। ‘আরও রুচিশীল হতে হবে একজন শিল্পীকে’—এই ধরনের কথাই ঘুরে ফিরে আসছে মন্তব্যে।

এই মন্তব্যের প্রভাব শুধু শিল্পীর মনেই নয়, পৌঁছে যাচ্ছে তাঁর পরিবারের কাছেও। একদিন সেই সব মন্তব্য পড়ে ফেলেন পৌষালীর মা। সেখান থেকেই পরিস্থিতি আরও বদলে যায়। মা স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, এত বড় মঞ্চে উঠলে আরও বেশি সতর্ক হতে হবে। আগে যেখানে শাড়ি সামলাতে ছ’টা সেফটি পিন যথেষ্ট ছিল, এখন সেখানে সংখ্যাটা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পনেরোতে। মেয়ের নিরাপত্তা আর সম্মান—দুটো নিয়েই চিন্তিত পরিবার।

তবে এখানেই শেষ নয়, পৌষালী নিজেই বলছেন, এমন বহু শ্রোতা আছেন যাঁরা শুধুই গান শুনতে আসেন, চোখ থাকে না পোশাকে। আবার কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের উদ্দেশ্য খুঁত খুঁজে বের করা। পনেরোটা নয়, পনেরো হাজার সেফটি পিন লাগালেও তাঁদের চোখ এড়ানো সম্ভব নয়। শীতকাল মানেই স্টেজ শো, আর স্টেজ শো মানেই এখন সোশ্যাল মিডিয়ার কড়া নজর। এই পরিস্থিতিতে তারকারা কীভাবে নিজেকে সামলাবেন, কোথায় টানবেন সীমারেখা—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে টলিপাড়ার অন্দরমহলে।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page