বুধবার সকালে ব্যারাকপুরে ভোট দিতে পৌঁছান রাজ চক্রবর্তী ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়। ভোট দেওয়ার পর শুভশ্রী জানিয়ে দেন, “মা দুর্গা যেমন প্রতিবারই অসুরের বাহিনীর বিরুদ্ধে একাই লড়ে, ঠিক তেমনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সব বাধা ঠেলে এগিয়ে যাবেন।” তার এই বক্তব্যে তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি গভীর সমর্থন প্রদর্শন করেন। শুভশ্রীর কথায়, মমতা, দুর্গার মতোই শক্তিশালী, যিনি চ্যালেঞ্জের সামনে মাথা নত করেন না। রাজ চক্রবর্তী তার স্ত্রী শুভশ্রীর বক্তব্যের পর বলেন, “এবার খেলা শেষ, শুভশ্রী বলেই দিয়েছে, মমতা দুর্গার মতো লড়াই করছেন।”
রাজ চক্রবর্তী ব্যারাকপুর কেন্দ্র থেকে আবারও তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে নির্বাচন করছেন এবং ভোটের প্রচারে ব্যাপক জনসমর্থন পাচ্ছেন বলে জানান। তার ভাষায়, “পাঁচ বছর পর ফের এই কেন্দ্রে দাঁড়ানো এবং জনগণের উৎসাহ দেখে মনে হচ্ছে, আমি আবারও জয়ী হবো।” তিনি জানিয়েছেন, আগের মতোই এবারও জনসাধারণের কাছ থেকে ভালো সাড়া মিলছে, যা তার আত্মবিশ্বাস আরও বৃদ্ধি করছে। শুভশ্রীও একদিন ব্যারাকপুরে রোড শো করেছেন এবং সেখানে তিনি জানিয়েছেন, ব্যারাকপুর তার দ্বিতীয় বাড়ি, যেখানে ভবিষ্যতে পরিবারসহ থাকতে চান।
তবে রাজনীতি নিয়ে শুভশ্রী জানান, তিনি রাজনীতিতে যোগ দিতে চান না। তার মতে, বর্তমানে পরিবার এবং অভিনয়ের কাজেই পুরো মনোযোগ দিতে চান তিনি। রাজ চক্রবর্তীও মনে করেন, পরিবারের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং কাজের চাপের কারণে তাদের দুই জনের রাজনীতিতে যোগ দেওয়া সম্ভব নয়। দুই সন্তানের বাবা-মা হিসেবে, তাদের সংসারের দায়িত্বের কথা ভেবে রাজনীতির দিকে পা বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তারা।
রাজ চক্রবর্তী ও শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের সম্পর্ককে নিয়ে তিনি জানান, তাদের মধ্যে একে অপরের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও সমর্থন রয়েছে। তাদের দাম্পত্য জীবন এখন প্রায় আট বছর পূর্ণ হয়েছে এবং একে অপরের পাশে দাঁড়িয়ে সব কিছু সামলে চলেছেন তারা। রাজের মতে, এই সম্পর্কের শক্তি তাদের পরিবার, কাজ এবং রাজনীতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করছে।
রাজ-শুভশ্রী এই নির্বাচনী প্রচারের মাধ্যমে তাদের পারিবারিক বন্ধন এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি নিজেদের আস্থা আরও দৃঢ়ভাবে প্রকাশ করেছেন। শুভশ্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই দুর্গার সাথে তুলনা করেছেন, যা দলীয় সমর্থন হিসেবে দেখা হচ্ছে। একদিকে যেমন ভোট দেওয়ার পর তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ছে, তেমনি রাজনীতিতে শুভশ্রীর পদক্ষেপ না নেওয়ার সিদ্ধান্তও তার পরিবারপ্রতি অটুট দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরছে।
