সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল জনপ্রিয়তার জন্য পরিচিত গায়িকা দেবলীনা নন্দী এখন ব্যক্তিগত জীবনের তীব্র ঝড়ের মুখে। ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর ধুমধাম করে বিয়ে করেছিলেন তিনি। প্রেম, প্রতিশ্রুতি আর নতুন শুরুর স্বপ্নে ভরা সেই সম্পর্ক এক বছরের মধ্যেই ভেঙে পড়ার মুখে। সুখের সংসারের গল্প যেন আচমকাই রূপ নেয় গভীর মানসিক যন্ত্রণার বাস্তবে।
দেবলীনার অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের চাপে তিনি ভেঙে পড়েছিলেন। পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে ওঠে যে একসময় আত্মহত্যার চেষ্টা করেন তিনি। অতিরিক্ত ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিজের জীবন শেষ করার চেষ্টা করেছিলেন বলে জানা যায়। তাঁর দাবি, স্বামী প্রবাহ নন্দী তাঁকে মা এবং স্বামীর মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার চাপ দেন, যা মানসিকভাবে তাঁকে চরম বিপর্যস্ত করে তোলে।
এই ঘটনার পর পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয় আইনি পথে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থানায় স্বামী এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে বধূ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করেন দেবলীনা। অভিযোগে তিনি জানান, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক অশান্তি বাড়তে থাকে এবং সময়ের সঙ্গে তা অসহনীয় হয়ে ওঠে। জানুয়ারিতে আত্মহত্যার চেষ্টার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং অভিযুক্তরা নোটিস পেয়ে থানায় হাজিরা দিয়েছেন। এখনও কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি, তবে সমস্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে বিয়ের সময় পাওয়া সোনার গয়না, নগদ অর্থ এবং কিছু আসবাবপত্র স্ত্রীধন হিসেবে পুলিশি সহায়তায় ফেরত পেয়েছেন দেবলীনা। বর্তমানে স্বামী স্ত্রী আলাদা থাকছেন এবং খোরপোশের দাবিতেও আইনি আবেদন করেছেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ শিরিন-সুন্দরের রোম্যান্টিক ডেটে ‘তৃতীয় ব্যক্তি’ বিতর্ক! গঙ্গার ঘাটে নীরব প্রেমের ফ্রেম, মাঝখানে কেন জীতু? ‘ভাইয়ের মতো’ না আরও কিছু? প্রশ্ন নেটিজেনদের!
এই ঘটনাকে ঘিরে সঙ্গীত মহল ও অনুরাগীদের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তবে তদন্ত চলমান থাকায় পুলিশ এখনই চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে। যদিও পুরো বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে দেবলীনা নন্দী প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
