জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“সিনেমা বা রাজনীতিতে বাধ্যবাধকতা আছে, লেখাটা একান্তই আমার!” এবার একক কবিতা পাঠের মঞ্চে শতাব্দী রায়! সব দায়িত্ব সামলে, সাহিত্যচর্চায় অভিনেত্রী সক্রিয় নতুন উদ্যোগ!

অভিনয় আর রাজনীতির ব্যস্ততার মাঝেও নিজের আরও একটি পরিচয়কে নতুন করে সবার সামনে আনতে চলেছেন অভিনেত্রী ‘শতাব্দী রায়’ (Satabdi Roy)। অভিনেত্রী পরিকল্পনা করছেন একক কবিতা পাঠের আসর আয়োজনের আর সেই সূত্রেই সামনে এল তাঁর সাহিত্যচর্চার দীর্ঘ পথের গল্প। অনেকেই তাঁকে অভিনেত্রী কিংবা সাংসদ হিসেবেই বেশি চেনেন, কিন্তু লেখালিখির জগতে তাঁর যাত্রা আজকের নয়। ছোটবেলা থেকেই শব্দের সঙ্গে তাঁর আলাদা সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল!

প্রসঙ্গত, স্কুলজীবনে দেওয়াল পত্রিকায় লেখা দিয়ে শুরু। পাশাপাশি আবৃত্তির চর্চাও ছিল নিয়মিত। সেই সময়েই কবিতার প্রতি টান তৈরি হয়, যা পরে বই আকারে প্রকাশ পর্যন্ত গড়ায়। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয় দেজ প্রকাশনী থেকে। বই প্রকাশের আগে নিজের লেখার মান নিয়ে তিনি যথেষ্ট সচেতন ছিলেন। প্রকাশের পর পাঠকের সাড়া তাঁকে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। পরবর্তী সময়ে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থা থেকে তাঁর বই বেরিয়েছে।

এতগুলো দায়িত্ব একসঙ্গে সামলে সময় বের করা সহজ নয়। সংসদীয় কাজ, নির্বাচনী এলাকার দায়িত্ব, পারিবারিক জীবন মিলিয়ে বেশ ব্যস্ত জীবন কাটছে তাঁর। তবু তিনি মনে করেন, যেটা ভালোবাসা থেকে জন্ম নেয়, তার জন্য ঠিকই সময় খুঁজে নেওয়া যায়। অভিনয় বা রাজনীতিতে নির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি থাকে, সেখানে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। কিন্তু লেখা তাঁর কাছে ব্যক্তিগত জায়গা, যেখানে বাধ্যবাধকতা নয়, আনন্দটাই প্রধান চালিকা শক্তি। বয়স বাড়লেও সুস্থ থাকলে লেখালিখি চালিয়ে যেতে চান বলেই তাঁর ইচ্ছা।

উল্লেখ্য, অভিনয়ে এখন আগের মতো নিয়মিত দেখা যায় না তাঁকে। এর পেছনে সময়ের অভাব যেমন রয়েছে, তেমনই রয়েছে সচেতন বাছাই। সংসদের কাজ ও নির্বাচনী দায়িত্ব সামলে যদি সময় মেলে, তবেই নতুন প্রোজেক্টে সম্মতি দেন। আর যখনই কাজ করবেন, সেটি যেন তাঁর নিজের কাছেও অর্থবহ হয়, এটাই এখন অভিনেত্রীর প্রধান শর্ত। একই ধরনের চরিত্রে আর ফিরতে চান না, বরং এমন কাজ করতে আগ্রহী যা আগে করা হয়নি বা করার প্রয়োজন অনুভব করেন।

আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির কথাও উঠেছে এই অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গে। রাজনৈতিক ব্যস্ততা যে কম নয়, তা স্পষ্ট। তবু তার মাঝেই কবিতার মঞ্চে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি প্রমাণ করেছে, সৃজনশীলতার জায়গাটি তিনি এখনও অক্ষুণ্ণ রেখেছেন। তবে, অভিনেত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এবারের কবিতাগুলির মধ্যে রাজ্যের অবস্থাও ফুটে উঠবে। জনজীবনের নানান দায়িত্বের বাইরে, শব্দের ভুবনেই হয়তো তিনি খুঁজে পান নিজের একান্ত শান্তি।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page