জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘সোশ্যাল মিডিয়া যেমন কাছাকাছি আনে, তেমনই ঝুঁকিও বাড়ায়!’ প্রশংসা অনুপ্রেরণা দেয়, নেতিবাচক মন্তব্যও স্বাভাবিক! অনলাইন ট্রোলিংয়ের মাঝেও আত্মবিশ্বাসী শান! কিভাবে খুঁজে পান নিজের পরিচয়?

সেলিব্রিটিদের জীবন যেন আলো আর আড়ালের এক অদ্ভুত টানাপোড়েনের গল্প। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সেই আড়াল এখন প্রায় বিলুপ্ত। কে কী করছেন, কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন— সবই মুহূর্তে পৌঁছে যায় মানুষের সামনে। আর সেই দৃশ্য ভাইরাল হলেই শুরু হয় মতামতের ঝড়। প্রশংসা যেমন থাকে, তেমনই কটাক্ষও কম থাকে না। এই বাস্তবতার মুখোমুখি প্রায় সব তারকাই হন। সম্প্রতি এই বিষয়েই খোলামেলা মত প্রকাশ করলেন জনপ্রিয় গায়ক শান, জানালেন কীভাবে তিনি অনলাইন সমালোচনাকে সামাল দেন।

শানের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া শিল্পী ও শ্রোতার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগের এক গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আগে যেখানে দর্শকের প্রতিক্রিয়া জানতে সময় লাগত, এখন তা মুহূর্তে পাওয়া যায়। তবে এই সহজ যোগাযোগের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে সমালোচনার ঝুঁকি। তিনি মনে করেন, প্রশংসা যেমন শিল্পীকে অনুপ্রাণিত করে, তেমনই অকারণ নেতিবাচক মন্তব্যও এই মাধ্যমের স্বাভাবিক অংশ। কিন্তু সব মন্তব্যকে গুরুত্ব দিলে নিজের মনোযোগ নষ্ট হয়। তাই সময়ের সঙ্গে তিনি শিখেছেন, অপ্রয়োজনীয় কথাকে গুরুত্ব না দিয়ে এগিয়ে যাওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

এই দর্শনের মধ্যেই এগিয়ে চলেছেন শান তাঁর সংগীত জীবনের নতুন অধ্যায় নিয়ে। সম্প্রতি তিনি সুর দিয়েছেন ‘আঁখিয়া’ গানটিতে, যেখানে কণ্ঠ দিয়েছেন বাবুল সুপ্রিয়। দীর্ঘ বিরতির পর হিন্দি সংগীত জগতে নতুনভাবে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে এই কাজ। গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর হঠাৎ সুরকারের ভূমিকায় আসার কারণও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, এখন আর কারও ডাকের অপেক্ষায় থাকতে চান না। নিজের সৃজনশীলতা আরও বিস্তৃত করার জন্যই এই নতুন পথচলা।

শানের বিশ্বাস, শিল্পীর আসল পরিচয় তার সৃষ্টিতে। গান গাওয়া হোক বা সুর তৈরি করা, সংগীতের মধ্যেই নিজের অস্তিত্ব খুঁজে পান তিনি। তাই বাইরের সমালোচনা বা ট্রোলিং তাঁর পথচলাকে আটকে রাখতে পারে না। বরং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া থেকেই তিনি শক্তি সংগ্রহ করেন। তাঁর মতে, অন্যকে বোঝানোর চেয়ে নিজের মনকে স্থির রাখা অনেক বেশি জরুরি। কারণ শিল্পের প্রতি দায়বদ্ধতাই একজন শিল্পীকে টিকিয়ে রাখে।

তবে তিনি একা নন, বর্তমান সময়ে অনেক সেলিব্রিটিই ট্রোলিং এড়িয়ে চলার পথ বেছে নিচ্ছেন। কেউ কেউ মানসিক স্বস্তির জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সাময়িক বিরতিও নেন। যদিও সব সমালোচনা যে সহনীয় সীমার মধ্যে থাকে, তা নয়। মাত্রা ছাড়ালে অনেক তারকাই এখন সরব হয়ে প্রতিবাদও করছেন। তবু শানের মতো অনেকেই মনে করেন, শেষ পর্যন্ত শিল্পই কথা বলে। সমালোচনা আসবে যাবে, কিন্তু সুরের পথ থেমে থাকে না কখনও।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page