বাংলায় নতুন করে ‘ব্যান্ড’-এর গানের জনপ্রিয় ফিরে এসেছে সাম্প্রতিক সময়ে। এরই মাঝে ‘ফসিল্স’-এর (Fossils Band) নতুন অ্যালবাম ‘ফসিল্স ৭’ (Fossils 7) মুক্তি পেতেই, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক মিউজিক প্ল্যাটফর্ম ‘আইটিউন্স’-এর তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে। শুধু বাংলা বিভাগেই নয়, বিভিন্ন ঘরানা ও দেশের শিল্পীদের মাঝেও এক নম্বরে উঠে আসা নিঃসন্দেহে বড় সাফল্য। টানা বেশ কিছু সময় প্রথম স্থানে থাকা এই অ্যালবাম ঘিরে তাই স্বাভাবিকভাবেই আলোচনা শুরু হয়েছে, এটা কি কেবল একটি ব্যান্ডের জনপ্রিয়তার জয়, নাকি বৃহত্তর অর্থে বাংলা গানের অগ্রযাত্রার ইঙ্গিত?
ব্যান্ডের ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁরা কখনও নিজেদের কাজকে আঞ্চলিক সীমার মধ্যে আটকে ভাবেননি। শুরু থেকেই তাঁদের লক্ষ্য ছিল বৃহত্তর শ্রোতৃমহল। জাতীয় স্তরের মানদণ্ডে নিজেদের গানকে দাঁড় করানোর চেষ্টা করেছেন তাঁরা। তালিকায় প্রথম স্থানে দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, বিশেষ করে যখন দ্বিতীয় স্থানটি বারবার বদলাচ্ছিল। কখনও জনপ্রিয় হিন্দি ছবির গান, কখনও আন্তর্জাতিক পপ রক ব্যান্ড, আবার কখনও উৎসব উপলক্ষের ভক্তিগীতি সেখানে জায়গা নিচ্ছিল।
এই ওঠানামার মধ্যেও ‘ফসিল্স ৭’-এর স্থির উপস্থিতি আলাদা করে নজর কেড়েছে। বাংলা সঙ্গীতের অন্য শিল্পীরাও এই সাফল্যকে ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন। ‘লক্ষ্মীছাড়া’ ব্যান্ডের গৌরব চট্টোপাধ্যায় মনে করেন, বাংলা গানের উপর তাঁর আস্থা বরাবরই ছিল এবং ধীরে ধীরে এই জগৎ আরও প্রসারিত হচ্ছে। তাঁর মতে, ‘ফসিল্স’-এর দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা এবং বিশাল ফ্যানবেস এই ফলাফলের পিছনে বড় কারণ। মঞ্চে তাঁদের অনুষ্ঠানের ভিড়ই তার প্রমাণ, ফলে আন্তর্জাতিক তালিকায় শীর্ষে ওঠা অপ্রত্যাশিত নয়।
তবে, সবাই একইভাবে বিশ্লেষণ করতে রাজি নন। ‘
‘চন্দ্রবিন্দু’-র উপল সেনগুপ্ত এই ঘটনাকে বাংলা সঙ্গীতের জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য বলে মেনে নিলেও, এর নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন! এটা কি সত্যিই বিশ্বজুড়ে বাংলা গানের প্রতি আগ্রহ বাড়ার ফল, না কি একটি নির্দিষ্ট ব্যান্ডের অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস? তা সময়ই স্পষ্ট করবে বলে তাঁর ধারণা। বিশ্লেষকেরাই হয়তো ভবিষ্যতে এই সাফল্যের প্রকৃত তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে পারবেন।
আরও পড়ুনঃ ‘সোশ্যাল মিডিয়া যেমন কাছাকাছি আনে, তেমনই ঝুঁকিও বাড়ায়!’ প্রশংসা অনুপ্রেরণা দেয়, নেতিবাচক মন্তব্যও স্বাভাবিক! অনলাইন ট্রোলিংয়ের মাঝেও আত্মবিশ্বাসী শান! কিভাবে খুঁজে পান নিজের পরিচয়?
অন্যদিকে, ‘পৃথিবী’ ব্যান্ডের কৌশিক চক্রবর্তী এই অর্জনকে সমগ্র বাংলা ব্যান্ড সংস্কৃতির প্রাপ্তি হিসেবেই দেখছেন। তাঁর মতে, একটি ব্যান্ডের উন্নতি মানে পুরো ধারারই অগ্রগতি। অ্যালবামের কয়েকটি গান বিশেষভাবে তাঁর ভালো লেগেছে বলেও তিনি জানান। তিনি মনে করেন, ‘ফসিল্স’-এর শ্রোতা শুধু রাজ্য বা দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বিশ্বজুড়েই তাঁদের অনুরাগী ছড়িয়ে রয়েছে। তাই এই সাফল্যকে আলাদা করে নয়, বরং বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের বৃহত্তর যাত্রাপথের অংশ হিসেবেই দেখা উচিত।
