জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“তোমার প্রেমিকা না থাকলে, লাইসেন্সবিহীন গাড়ি চালাচ্ছ…কত মানুষকে একাকীত্বের মধ্যে ঠেলে দিয়েছেন হিসেব করে দেখবেন!” জিৎ-শিরিনের মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি বিতর্কে তোপ জিতুর! সমাজের সংকীর্ণ মানসিকতাকে সরাসরি করলেন প্রশ্ন!

গঙ্গার ঘাটে এক সন্ধ্যার নরম আলো, পাশে প্রিয় মানুষ, এমনই একটি মুহূর্ত সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ভাগ করেছিলেন জিৎ সুন্দর (Jeet Sundar)শিরিন পালের (Shirin Paul) কাঁধে আলতো হাত রেখে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকা সেই ছবিটি দ্রুত ভাইরাল হয়। ক্যাপশনে ছিল না বলা কথা আর ক্লান্তি পেরিয়ে ফিরে আসার ইঙ্গিত। প্রেমের সপ্তাহে এই পোস্ট অনেকের কাছেই ছিল নিছক একটি সুন্দর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভাগাভাগি।

তবে, ছবিটির আরও একটি দিকও ছিল। সেই রোম্যান্টিক ছবিটি তুলেছিলেন অভিনেতা জিতু কমল (Jeetu Kamal)। পর্দায় শিরিনের সহঅভিনেতা, বাস্তবে সহকর্মী, এই উপস্থিতিকেই ঘিরে শুরু হয় নতুন বিতর্ক! অনেকে মজা করে তাঁকে ‘কাবাব মে হাড্ডি’ বললেও, কিছু অংশের নেটিজেন আবার অন্য অর্থ খুঁজতে শুরু করেন। কারও মতে, তৃতীয় ব্যক্তির উপস্থিতি অপ্রাসঙ্গিক তো কেউ আবার প্রশ্ন তোলেন সম্পর্কের সীমারেখা নিয়ে।

এই সমালোচনার জবাব দিতে দেরি করেননি জিতু। নিজের সমাজ মাধ্যমে দীর্ঘ পোস্টে তিনি তুলে ধরেন এক তীক্ষ্ণ পর্যবেক্ষণ। তাঁর বক্তব্য, একজন পুরুষের জীবনে যদি প্রেমিকা বা স্ত্রী থাকেন, তবে অন্য কোনও মহিলার সঙ্গে ছবি তোলা বা সময় কাটানো নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলে না। কিন্তু যদি তিনি একা থাকেন, তবে একই কাজকে সন্দেহের চোখে দেখা হয়। এমনকি কোনও বিবাহিত মহিলার সঙ্গে দাঁড়ালেই অবৈধ সম্পর্কের তকমা জুড়ে দেওয়া হয়।

এই মানসিকতাকে তিনি সরাসরি সংকীর্ণ বলেই আখ্যা দেন। প্রসঙ্গত, জিতুর কথায় উঠে আসে একাকীত্বের প্রসঙ্গও। সমাজের বিচার আর গুজবের চাপে অনেকেই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েন, এমনটাই তাঁর দাবি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধারাবাহিক সন্দেহ আর কটাক্ষ কি অজান্তেই কাউকে ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে না? মানুষের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে মেশা, বন্ধুত্ব করা বা সহকর্মীর সঙ্গে সময় কাটানো, এসবকেই কেন সম্পর্কের মোড়কে বেঁধে ফেলা হবে?

এদিকে জিৎ সুন্দরও আগেই জানিয়েছিলেন, শিরিন ও জিতুর অনস্ক্রিন রসায়ন নিয়ে তাঁর কোনও অস্বস্তি নেই। তাঁর মতে, জিতু শিরিনের জন্য একজন সহকর্মী এবং প্রায় বড় দাদার মতোই। ফলে এই গঙ্গার ঘাটের ছবি যতটা না প্রেমের প্রকাশ, তার চেয়ে বেশি হয়ে উঠেছে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিতর্কের কেন্দ্র। শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যায়, আমরা কি এখনও মানুষের সম্পর্ককে খুব সরলভাবে দেখতে শিখিনি?

Rimi Datta

রিমি দত্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর। কপি রাইটার হিসেবে সাংবাদিকতা পেশায় চার বছরের অভিজ্ঞতা।

                 

You cannot copy content of this page