জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

রক্তের সম্পর্ক নয় তবু জীবনের সবচেয়ে বড় মানুষ তিনি! তাঁকে দেখা মাত্রই পায়ে লুটিয়ে পড়লেন শ্রেয়া ঘোষাল! তাঁর পরিচয় কী, যাকে দেখে আবেগে ভাসলেন গায়িকা?

বিশ্বসংগীতের আকাশে আজ উজ্জ্বল নক্ষত্র শ্রেয়া ঘোষাল। তাঁর কণ্ঠে মোহিত কোটি কোটি শ্রোতা। কিন্তু সাফল্যের এই উচ্চতায় পৌঁছেও তিনি ভোলেননি নিজের শুরুটা। সম্প্রতি গানের রিয়্যালিটি শো ইন্ডিয়ান আইডলের মঞ্চে হাজির হন তাঁর ছোটবেলার সংগীত গুরু মহেশচন্দ্র শর্মা। গুরুকে চোখের সামনে দেখেই আবেগে ভেসে যান শ্রেয়া। মুহূর্তের মধ্যেই যেন ফিরে যান সেই সংগ্রামের দিনে।

শৈশবের স্মৃতি মনে করে শ্রেয়া জানান, ছোটবেলায় রাজস্থানের তীব্র গরম আর দীর্ঘ পথ পেরিয়ে তাঁকে গুরুর কাছে গান শিখতে যেতে হত। প্রায় দুই ঘণ্টা বাসে যাত্রা করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে পৌঁছাতে হত তাঁর বাড়িতে। কিন্তু দূর থেকে গুরুর বাড়ি দেখলেই মনে হত যেন কোনও মন্দিরে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। সেই অনুভূতি আজও তাঁর মনে অমলিন হয়ে রয়েছে।

মঞ্চে সেই সময় একটি বিশেষ মুহূর্ত তৈরি হয় যখন সঞ্চালক আদিত্য নারায়ণ একটি পুরনো চিঠি পড়ে শোনান। এই চিঠি একসময় নিজের গুরুকে লিখেছিলেন কিশোরী শ্রেয়া। মুম্বইয়ে সংগীতজীবন গড়ার স্বপ্ন নিয়ে বাবার হাত ধরে যখন তিনি রাজস্থান ছেড়ে এসেছিলেন, তখন সেই আবেগই ধরা পড়েছিল চিঠির প্রতিটি লাইনে। মঞ্চে উপস্থিত সকলেই তখন আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।

নিজের ছাত্রীর সাফল্যে গর্বিত গুরু মহেশচন্দ্র শর্মাও সেই মুহূর্তে আবেগ লুকোতে পারেননি। তিনি বলেন সাধারণত শিষ্যরা গুরুর নামেই পরিচিত হয়। কিন্তু আজ তাঁর কাছে সবচেয়ে বড় গর্বের বিষয় মানুষ তাঁকে শ্রেয়া ঘোষালের গুরু হিসেবে চেনে। এরপর তিনি তাঁর জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ নিজের হাতে লেখা বন্দিশের খাতা শ্রেয়ার হাতে তুলে দেন আশীর্বাদ হিসেবে।

গুরুর এই অমূল্য উপহার পেয়ে আর নিজেকে সামলাতে পারেননি শ্রেয়া। চোখে জল নিয়ে সবার সামনে মঞ্চেই তিনি গুরুর পায়ে সাষ্টাঙ্গে প্রণাম করেন। সেই দৃশ্য উপস্থিত সকলকে আবেগে ভাসিয়ে দেয়। পরে গুরুর অনুরোধে খালি গলায় বৈরি পিয়া গান গেয়ে শোনান তিনি। মুহূর্তটি যেন মনে করিয়ে দেয় সাফল্যের শীর্ষেও শিকড়কে মনে রাখাই প্রকৃত শিল্পীর পরিচয়।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page