বড়পর্দায় হোক বা কোনও অনুষ্ঠান মঞ্চে, রাইমা সেনের (Raima Sen) উপস্থিতি এখনও আলাদা করে নজর কাড়ে। বয়স পঁয়তাল্লিশ পেরোলেও তাঁর ব্যক্তিত্ব আর আভিজাত্যের ছাপ এতটাই স্বতন্ত্র যে অনেকেই মনে করেন, এই আকর্ষণ যেন সময়ের সঙ্গে কমার বদলে আরও পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি নিজের মতো করেই থাকেন। এখনও অবিবাহিত রাইমা থাকেন মা মুনমুন সেনের সঙ্গেই, আর সেই সংসারেই তাঁর প্রতিদিনের জীবনের এক বড় অংশ কাটে।

সম্প্রতি ‘ফুলপিসি ও এডওয়ার্ড’ ছবির প্রচার উপলক্ষে একটি অনুষ্ঠানে দেখা গেল তাঁকে এক অনন্য সাজে। সেই সাজের মধ্যেই ছিল পারিবারিক ঐতিহ্যের স্পষ্ট ছাপ। মায়ের আলমারি থেকেই বেছে নেওয়া একটি শাড়ি পরে হাজির হন রাইমা। শাড়িটি ছিল হালকা রঙের মিশেলে, যার ওপর গোলাপি রঙের ফুলের নকশা পুরো সাজটাকে করে তুলেছিল বিশেষ আকর্ষণীয়। তার সঙ্গে স্লিভলেস ব্লাউজ, গলায় মুক্তোর মালা এবং হাতে চুড়ি মিলিয়ে সাজে ফুটে উঠেছিল একধরনের পুরোনো দিনের সৌন্দর্য।

প্রসঙ্গত, মুনমুন সেনের শাড়ির সংগ্রহ যে কত সমৃদ্ধ, তা জানলে অনেকেই অবাক হতে পারেন। সেই আলমারিতে নানান সময়ের অসংখ্য শাড়ি যত্ন করে রাখা আছে। সুযোগ পেলেই রাইমা সেখান থেকে নিজের পছন্দমতো শাড়ি বেছে নেন। পরিবারের মধ্যেই এই বিষয়টি যেন একরকম স্বাভাবিক হয়ে গেছে। বোন রিয়া সংসার নিয়ে ব্যস্ত থাকায় মায়ের সংগ্রহ থেকে পোশাক বেছে নেওয়ার সুযোগটা বেশি করে উপভোগ করেন রাইমাই।

এই পরিবারের ঐতিহ্য অবশ্য আরও পুরোনো। মুনমুন সেনের বাড়িতে এখনও আলাদা করে সংরক্ষণ করা আছে কিংবদন্তি অভিনেত্রী সুচিত্রা সেনের ব্যবহৃত শাড়িগুলো। বহু পুরোনো সেই শাড়িগুলো পরিবারের কাছে প্রায় অমূল্য সম্পদের মতোই। রাইমার খুব ইচ্ছে হলেও সেগুলো পরার সাহস তিনি পান না। কিন্তু কেন? কারণ, সামান্য অসাবধানতাতেই পুরোনো কাপড়ের ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। আর এই আশঙ্কাই তাঁদের সতর্ক রাখে।
উল্লেখ্য, অনুরাগীদের কাছে অবশ্য রাইমার পরিচয় শুধু একজন অভিনেত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ নয়। অনেকেই মনে করেন, মুখের গড়ন কিংবা আভিজাত্যের ছাপ কিছু কিছু জায়গায় তাঁর মধ্যে সুচিত্রা সেনের ছায়া খুঁজে পাওয়া যায়। সেই তুলনা হয়তো বড় দায়িত্বেরও ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু রাইমা নিজের মতো করেই জীবন উপভোগ করতে বেশি পছন্দ করেন। অভিনয়, পারিবারিক স্মৃতি আর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার সমন্বয়েই তাঁর জীবন কাটছে নিজের ছন্দে।
