জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

“নিরঞ্জন যেভাবে খেলছে আমি সবচেয়ে বেশি গর্বিত, নিরঞ্জন বা তনুশ্রী জিতবে!” বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়েই বড় ভবিষ্যদ্বাণী তাপস-কন্যা, সোহিনী পালের! প্রিয় প্রতিযোগীদের নিয়ে মুখ খুলে ফাঁস করলেন অজানা কথা! নন্দিনী-সৃজলাকেও করলেন কটাক্ষ?

বিগ বস বাংলার ঘর থেকে বেরিয়েই প্রতিযোগীদের খেলা নিয়ে নিজের মতামত জানালেন সোহিনী পাল। মাত্র এক মাসের যাত্রায় বিভিন্ন প্রতিযোগীর সঙ্গে মতবিরোধ যেমন হয়েছে, তেমনই তৈরি হয়েছে কিছু সুন্দর সম্পর্কও। তবে ঘর থেকে বেরিয়ে নিরঞ্জনের খেলার সবচেয়ে বেশি প্রশংসা করেছেন সোহিনী। তাঁর মতে, নিরঞ্জন শুধু বুদ্ধি দিয়ে খেলছেন না, পরিস্থিতি বুঝে নিজের সিদ্ধান্তও নিচ্ছেন। সোহিনীর কথায়, “আমি সবচেয়ে বেশি গর্ব করি নিরঞ্জন যেভাবে খেলছে।” তাঁর মতে, সংবেদনশীলতা এবং ঠিক-ভুল বোঝার ক্ষমতা নিরঞ্জনের খেলার অন্যতম বড় দিক। এমনকী বিগ বসের ঘরে কে জিততে পারেন, সেই প্রসঙ্গেও নিরঞ্জন এবং তনুশ্রীকে এগিয়ে রেখেছেন তিনি। অর্থাৎ নিজের পছন্দের প্রতিযোগীদের তালিকায় এই দুজনের নামই বেশ জোর দিয়ে বলেছেন সোহিনী।

নিরঞ্জনের পাশাপাশি তনুশ্রীকেও বিশেষ জায়গায় রেখেছেন সোহিনী। বিগ বসের ঘরে তনুশ্রী এবং ঝিলমের সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, সেটিও সাক্ষাৎকারে তুলে ধরেছেন তিনি। সোহিনী জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেন হওয়ার পর সুযোগ পেলে তাঁকে বাঁচানোর কথা বলেছিলেন তনুশ্রী ও ঝিলম। এই ঘটনাটি তাঁর কাছে বেশ আবেগের হয়ে উঠেছিল। তাই খেলার দিক থেকে নিরঞ্জনের প্রতি তাঁর মুগ্ধতা থাকলেও তনুশ্রীর প্রতিও আলাদা টান রয়েছে বলে তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। নিজের ভবিষ্যদ্বাণীতে নিরঞ্জন ও তনুশ্রীকে এগিয়ে রাখার পেছনে তাঁদের খেলার ধরন এবং ব্যক্তিত্ব দুটোই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন তিনি। অন্যদিকে নিজের খেলার সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেছেন সোহিনী। শারীরিক টাস্কে অন্যের জামা টেনে বা জোর করে কিছু ছিনিয়ে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তাঁর পছন্দ নয়। নিয়ম মেনে খেলতেই বেশি স্বচ্ছন্দ তিনি।

সোহিনীর মতে, প্রতিযোগিতায় জেতার ইচ্ছা থাকলেও তার জন্য একটা সীমারেখা থাকা দরকার। এই জায়গা থেকেই নন্দিনী ও সৃজলাকে নিয়ে তাঁর আপত্তির কথাও উঠে এসেছে। সৃজলার পড়ে যাওয়ার ঘটনাটি প্রসঙ্গে সোহিনী দাবি করেছেন, তাঁর মনে হয়েছিল নন্দিনী জেনেবুঝেই এমনটা করেছিলেন। নন্দিনীকে তিনি বলেছিলেন, “হ্যাঁ, তুই জেনে বুঝে ফেলেছিস।” তাঁর মতে, ক্যাপ্টেনসি বা কোনও টাস্ক জেতার জন্যও এমন কিছু করা উচিত নয়, যাতে সেই সীমারেখা পেরিয়ে যায়। তবে নন্দিনী বা সৃজলা কাউকেই তিনি ব্যক্তিগতভাবে খুব কাছের মানুষ হিসেবে দেখেন না বলেও জানিয়েছেন। দুজনের মধ্যে কিছুটা মিল রয়েছে বলেও মনে করেন তিনি। সোহিনীর ভাষায়, “নন্দিনীর ওটা হচ্ছে একটু উগ্র আর সৃজলা হচ্ছে একটু পলিশ।” অর্থাৎ প্রকাশের ধরন আলাদা হলেও দুজনের মধ্যে কিছু মিল দেখতে পেয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে দুর্নিবার ও রাজবীরের খেলা নিয়েও সংক্ষেপে নিজের মত জানিয়েছেন সোহিনী। দুর্নিবারের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের শুরুতে কিছুটা দূরত্ব থাকলেও পরের দিকে একে অপরকে বুঝতে শুরু করেছিলেন বলে জানান তিনি। দুর্নিবারকে যথেষ্ট বুদ্ধিমান প্রতিযোগী বলে মনে করেন সোহিনী। তাঁর কথায়, “দুর্নিবার খুব ইন্টেলিজেন্ট। দুর্নিবার খুব মাথা দিয়ে খেলে।” তবে তাঁর মতে, দুর্নিবার নিজের সীমা অতিক্রম করে নোংরা খেলায় নামেননি। রাজবীরের সঙ্গেও ঝগড়া হয়েছে সোহিনীর, কিন্তু তাঁকে একেবারে অপছন্দ করেন না তিনি। তবে দীপেন্দুকে ‘ভেড়া’ বলা বা অন্যের সঙ্গে কথা বলার সময় রাজবীরের কিছু আচরণ তাঁর ভালো লাগেনি। একইসঙ্গে বাবার পরিচয় নিয়েও স্পষ্ট সোহিনী। তাপস পালের মেয়ে হওয়াকে তিনি গর্বের বিষয় বলেই মনে করেন এবং নিজের প্রিভিলেজের কথাও অস্বীকার করেন না।

বিগ বসের ঘর থেকে বেরিয়ে সোহিনী আরও জানিয়েছেন, বাবার অতীতের কোনও ভুলের দায় তিনি নিতে রাজি নন। তাঁর কথায়, “আমার বাবা যদি কোনও ভুল করে থাকেন, সেইটারও দায়িত্ব আমার নয়।” একইসঙ্গে বাবার ভালো কাজের জন্য যে পরিচয় ও সুযোগ পেয়েছেন, সেটাও অস্বীকার করতে চান না তিনি। তাপস পালের মৃত্যুর পর দুর্গাপুজোর আনন্দ অনেকটাই ফিকে হয়ে গিয়েছে বলেও জানিয়েছেন সোহিনী। তবে বিগ বসের ঘরে নিজের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁর সবচেয়ে বড় উপলব্ধি, নিজের চরিত্র বদলে দর্শকের মন জয় করতে চাননি তিনি। তাঁর কথায়, “আমি তো ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট নিতে যাইনি বিগ বসে।” ফলে ঘর থেকে বেরিয়ে নিরঞ্জনের খেলার প্রশংসা করে তাঁকে এবং তনুশ্রীকে সম্ভাব্য জয়ী হিসেবে দেখার পাশাপাশি নন্দিনী, সৃজলা, দুর্নিবার ও রাজবীর সম্পর্কেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সোহিনী। এখন তাঁর এই বিশ্লেষণের সঙ্গে বিগ বসের দর্শকরা কতটা একমত হন, সেটাই দেখার।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page