দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে নতুন জামাকাপড়, ঠাকুর দেখা, আড্ডা আর জমিয়ে খাওয়াদাওয়া। পুজোর চার দিন অনেকেই পছন্দের মাছ, মাংস থেকে শুরু করে নানা রকম আমিষ পদের স্বাদ নিতে ভালোবাসেন। কিন্তু এই চেনা অভ্যাসের বাইরে গিয়ে পুজোর খাবারের ক্ষেত্রে একটু অন্যরকম পছন্দ রয়েছে অভিনেতা ও পরিচালক শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের। সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে নিজের পুজোর খাওয়াদাওয়ার কথা বলতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, আমিষের তুলনায় নিরামিষ খাবারই তাঁর বেশি পছন্দের। বিশেষ করে পুজোর চার দিন বাড়িতে তৈরি হওয়া নানা রকম নিরামিষ পদ তাঁকে বেশি টানে। তাঁর মতে, নিরামিষ খাবারের তালিকায় যেমন অনেক বৈচিত্র রয়েছে, তেমনই রয়েছে স্বাদের নানা রকমফের। তাই পুজো এলেই শুধু মাছ-মাংস নয়, বরং লুচি, রাধাবল্লভী, আলুর দম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের পায়েস খাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন তিনি।
পুজোর চার দিন নিরামিষ খাবারের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে শিবপ্রসাদ জানিয়েছেন, “আমি পুজোর চার দিন আমিষের থেকে নিরামিষটাই বেশি ভালোবাসি।” তাঁর এই পছন্দের পিছনে রয়েছে খাবারের বৈচিত্র। সাধারণত পুজোর সময় বাঙালির খাবারের তালিকায় আমিষ পদের বিশেষ জায়গা থাকে। কিন্তু শিবপ্রসাদের মতে, নিরামিষ রান্নাতেও এমন অনেক পদ রয়েছে, যেগুলির স্বাদ আলাদা করে মন কাড়ে। লুচি, রাধাবল্লভী, আলুর দম কিংবা বাঁধাকপির তরকারির মতো খাবার তাঁর পছন্দের তালিকায় রয়েছে। তার সঙ্গে যদি থাকে চাটনি এবং নানা ধরনের মিষ্টি, তাহলে তো কথাই নেই। পুজোর দিনগুলিতে বাড়িতে একসঙ্গে অনেকের খাওয়াদাওয়ার আয়োজন হয়। ফলে একাধিক পদ সাজিয়ে খাওয়ার যে আনন্দ, সেটাও তাঁর কাছে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই কারণেই পুজোর নিরামিষ মেনুর প্রতি তাঁর এতটা টান।
শিবপ্রসাদের পুজোর খাবারের তালিকায় সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হল চার দিনে চার রকম পায়েস। সাধারণত বাঙালি বাড়িতে পায়েস মানেই বিশেষ কোনও দিন বা উৎসবের মিষ্টিমুখ। কিন্তু তাঁর পুজোর মেনুতে প্রতিদিনই আলাদা স্বাদের পায়েসের ব্যবস্থা থাকে। অভিনেতা জানিয়েছেন, ষষ্ঠীর দিন সুজির পায়েস, সপ্তমীর দিন চালের পায়েস, অষ্টমীর দিন লুচির পায়েস এবং নবমীর দিন সিমই বা বোঁদের পায়েস তাঁর বিশেষ পছন্দের। অর্থাৎ পুজোর চার দিন একই ধরনের মিষ্টি খাওয়ার বদলে প্রতিদিন আলাদা স্বাদ উপভোগ করতেই ভালোবাসেন তিনি। তাঁর কথায়, “এগুলো আমার বেশি পছন্দের।” এই তালিকা থেকেই বোঝা যায়, পুজোর খাওয়াদাওয়ার ক্ষেত্রে শিবপ্রসাদের কাছে শুধু পেট ভরানো নয়, বরং প্রতিটি দিনের খাবারে আলাদা স্বাদ ও বৈচিত্র থাকাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
পায়েসের পাশাপাশি লুচি, রাধাবল্লভী, আলুর দম এবং বাঁধাকপির তরকারিও শিবপ্রসাদের পুজোর মেনুতে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। এই খাবারগুলির সঙ্গে বাঙালির উৎসবের দীর্ঘদিনের যোগ রয়েছে। বাড়িতে পুজোর সময় গরম গরম লুচি কিংবা রাধাবল্লভীর সঙ্গে আলুর দম খাওয়ার অভিজ্ঞতা অনেকের কাছেই পরিচিত। শিবপ্রসাদের পছন্দের তালিকাতেও সেই চেনা বাঙালি খাবারের উপস্থিতি রয়েছে। অভিনেতার কথায়, “তার সঙ্গে ঢোকার ডানলা, আলুর দম, বাঁধাকপির তরকারি আর চাটনি হচ্ছে মাস্ট।” তাঁর উল্লেখ করা ‘ঢোকার ডানলা’ বলতে ধোকার ডালনা বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ পুজোর খাবারে শুধু লুচি বা মিষ্টি নয়, ডাল দিয়ে তৈরি ধোকার ডালনা এবং বিভিন্ন সবজির পদও তাঁর কাছে সমান প্রিয়। সব মিলিয়ে তাঁর পছন্দের মেনুতে রয়েছে বাঙালির ঘরোয়া রান্নার পরিচিত স্বাদ।
শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় বাংলা বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও তিনি দর্শকদের কাছে বিশেষ পরিচিতি পেয়েছেন। সাম্প্রতিক পুজো সংক্রান্ত সাক্ষাৎকারে কাজের ব্যস্ততা, পরিবার, বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং উৎসবের নানা পরিকল্পনার কথাও উঠে এসেছে। তবে তাঁর পুজোর খাবারের পছন্দ যে নিরামিষ পদকে ঘিরেই বেশি, তা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। কারণ পুজো এলেই যেখানে অনেক বাঙালির খাবারের তালিকায় মাছ-মাংসের নানা পদ জায়গা করে নেয়, সেখানে শিবপ্রসাদ নিরামিষ রান্নার বৈচিত্রকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। চার দিনে চার রকম পায়েস, লুচি, রাধাবল্লভী, ধোকার ডালনা, আলুর দম এবং চাটনির মতো পদ নিয়েই তাঁর পুজোর রসনাতৃপ্তির পরিকল্পনা। ফলে তাঁর পছন্দের খাবারের তালিকায় উঠে এসেছে বাঙালির চেনা ঘরোয়া রান্না এবং উৎসবের স্বাদ।
