জয়েন গ্রুপ

বাংলা সিরিয়াল

এই মুহূর্তে

‘নচিদা আমায় কোনদিনও স্ট্রাগল করতে দেননি…নিয়তি বা ভাগ্য বলে যদি কিছু থাকে, আমার জন্য সেটাই নচিকেতা চক্রবর্তী!’ কেরিয়ারের শুরুতে গায়িকার পাশে দাঁড়িয়ে কীভাবে বদলে দিয়েছিলেন জীবন? গায়কের জন্মদিনে আবেগঘন স্মৃতিচারণ শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়!

বাংলা সংগীত জগতের পরিচিত কণ্ঠ শুভমিতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেরিয়ারের শুরুটা হয়েছিল রিয়েলিটি শোয়ের মঞ্চ থেকেই। ১৯৯৩ সালে HMV Golden Talent Contest-এ সাফল্যের পর তাঁর সংগীতজীবনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় আসে ইটিভি বাংলার ‘সা-থেকে-সা’র প্রতিযোগিতায়। সেই প্রতিযোগিতাতেই নবাগত প্রতিযোগী হিসেবে নচিকেতা চক্রবর্তীর নজরে পড়েছিলেন শুভমিতা। পরে শাস্ত্রীয় সংগীতের তালিম এবং নিয়মিত সংগীতচর্চার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে নিজের আলাদা পরিচয় তৈরি করেন তিনি। একাধিক বাংলা ছবি, টেলিফিল্ম এবং ধারাবাহিকে গান গেয়ে শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে যান শুভমিতা। তাঁর দীর্ঘ সংগীতজীবনে বহু উল্লেখযোগ্য কাজ যুক্ত হলেও কেরিয়ারের একেবারে শুরুর সময়টির সঙ্গে নচিকেতার নাম বিশেষভাবে জড়িয়ে রয়েছে। আজ নচিকেতা চক্রবর্তীর জন্মদিনে সেই পুরনো দিনের কথাই স্মরণ করে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন গায়িকা।

শুভমিতার কথায়, ‘সা-থেকে-সা’তে তিনি যখন শুধুই একজন প্রতিযোগী, তখনই তাঁকে আলাদা করে নজরে পড়েছিল নচিকেতার। সেই অনুষ্ঠানে নচিকেতা ছিলেন সঞ্চালকের ভূমিকায়। অন্যান্য প্রতিযোগীর মতো শুভমিতাকেও তিনি দেখেছিলেন, তবে তাঁর কণ্ঠে যেন ভবিষ্যতের সম্ভাবনা দেখতে পেয়েছিলেন গায়ক। শুভমিতার দাবি, তখনই নচিকেতা মনে মনে তাঁকে বাংলা সংগীত জগতের নতুন কণ্ঠ হিসেবে ভাবতে শুরু করেছিলেন। সেই সময় প্রতিযোগিতার বিজয়ীর জন্য তাল মিউজিক লেবেলের তরফে অ্যালবাম প্রকাশের সুযোগ দেওয়ার কথা ছিল। নচিকেতা ঠিক করেছিলেন, শুভমিতা যদি সেই প্রতিযোগিতায় জিততে পারেন, তাহলে তাঁর জন্য নিজেই গান লিখবেন। অর্থাৎ প্রতিযোগিতার মঞ্চে থাকা এক নবাগত শিল্পীর মধ্যেই তিনি ভবিষ্যতের সম্ভাবনাময় কণ্ঠ খুঁজে পেয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত নচিকেতার সেই বিশ্বাসই সত্যি হয়। ‘সা-থেকে-সা’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন শুভমিতা। এরপর নিজের কথা রাখেন নচিকেতাও। তাঁর জন্য গান লিখে তৈরি করেন শুভমিতার প্রথম অ্যালবাম। অ্যালবামটির নাম ছিল ‘আবিষ্কার’। তবে নতুন শিল্পীর প্রথম অ্যালবাম হওয়ায় সেটি খুব একটা সাফল্য পায়নি। স্বাভাবিকভাবেই সেই ফলাফল শুভমিতার কেরিয়ারের শুরুতে বড় সাফল্য এনে দিতে পারেনি। কিন্তু এখানেই থেমে যাননি নচিকেতা। বরং শুভমিতাকে নিয়ে তাঁর মনে আরও জেদ তৈরি হয়। তিনি চেয়েছিলেন, এই নতুন গায়িকার কণ্ঠ যেন আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছয়। সেই ভাবনা থেকেই ফের শুভমিতাকে নিয়ে দ্বিতীয় অ্যালবামের কাজ শুরু করেন তিনি। আর সেই দ্বিতীয় অ্যালবামই বদলে দেয় পরিস্থিতি।

দ্বিতীয় অ্যালবাম প্রকাশের পর শুভমিতার কণ্ঠ দ্রুত পৌঁছে যায় শ্রোতাদের ঘরে ঘরে। অল্প সময়ের মধ্যেই তৈরি হয় সাড়া এবং সেখান থেকেই তাঁর সংগীতজীবন নতুন গতি পায়। এরপর আর তাঁকে পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ধীরে ধীরে বাংলা গানের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করেন তিনি। পরবর্তীকালে অসংখ্য গান, অ্যালবাম, বাংলা ছবি, টেলিফিল্ম এবং ধারাবাহিকের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন শুভমিতা। তাঁর কণ্ঠ বাংলা সংগীতপ্রেমীদের কাছে পরিচিত হয়ে উঠেছে। কিন্তু সাফল্যের এই দীর্ঘ পথচলার শুরুতে যিনি তাঁর প্রতিভার উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন, তাঁকে আজও ভুলতে পারেননি গায়িকা। বরং নিজের কেরিয়ারের শুরুর সেই দিনগুলির কথা মনে করলেই নচিকেতার অবদানের কথা উঠে আসে তাঁর মুখে। শুভমিতার কাছে তাই নচিকেতা শুধুমাত্র একজন সহশিল্পী বা গায়ক নন, তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।

নচিকেতার জন্মদিনে সেই সম্পর্কের কথা বলতে গিয়ে শুভমিতা জানান, আজ তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, সেখানে পৌঁছনোর পথের প্রতিটি ধাপে তিনি নচিকেতার প্রতি কৃতজ্ঞ। একজন নবাগত প্রতিযোগীর কণ্ঠে ভবিষ্যতের শিল্পীকে দেখতে পাওয়া, জয়ের পর তাঁর জন্য গান লেখা এবং প্রথম অ্যালবাম খুব বেশি সাড়া না পেলেও হাল না ছেড়ে দ্বিতীয়বার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া, এই পুরো যাত্রাটিকেই তিনি বিশেষভাবে মনে রেখেছেন। তাঁর কথায়, জীবনে নিয়তি বা ভাগ্য বলে যদি সত্যিই কিছু থেকে থাকে, তাহলে তাঁর জন্য নচিকেতাই সেই নিয়তি। সংগীতজগতে শুভমিতার দীর্ঘ পথচলায় আজ বহু সাফল্য যোগ হয়েছে। কিন্তু সেই সাফল্যের গোড়ায় যে মানুষটি তাঁর উপর বিশ্বাস রেখেছিলেন, জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করতে গিয়ে সেই ঋণের কথাই আবেগের সঙ্গে জানালেন গায়িকা।

Piya Chanda

                 

You cannot copy content of this page